চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ৪ জুলাই ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কাঁদছে ইন্দোনেশিয়া

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুলাই ৪, ২০২১ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

বিশ্ব প্রতিবেদন:
সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত সুহেরমান ও তার সহকর্মীরা কফিন ঘষা ও রঙের কাজ করছেন। করোনা সংক্রমণের কারণে ইন্দোনেশিয়ার জনবহুল দ্বীপ জাভা ও পর্যটন কেন্দ্র বালির কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে চালু থাকলেও সুহেরমানের প্রতিষ্ঠান চলছে পুরোদমে। কারণ, করোনায় মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, তাই দাফনের জন্য অনেক কফিনের প্রয়োজন। সুয়েরমান বলেন, ‘আমরা তাড়ার মধ্যে আছি। মানুষ কফিনের জন্য অপেক্ষা করছে, তাই আমাদের দ্রুত কাজ করতে হচ্ছে। মৃতের পরিবাররা অপেক্ষা কররছে।’ তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারির আগে আমাদের এতো পরিশ্রম করতে হয়নি। প্রতিদিন কয়টি কফিন লাগবে সেই টার্গেটও আমাদের ছিল না। কিন্তু আমাদের এখন চাহিদা পূরণ করতে হবে।’ জাবার উত্তরপশ্চিমে রাজধানী জাকার্তায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কর্মীরা চাপের মুখে রয়েছেন। নতুন তৈরি করা কফিনগুলো ট্রাকে তুলে দ্রুত শহরের হাসপাতালগুলোর আশেপাশে পাঠানো হচ্ছে। কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় সুয়েরমান এখন অন্য মাসের তুলনায় ৩০ ডলার করে বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তবে এতে তিনি সন্তুষ্ট না। তার ভাষ্য, ‘আয় কমে গেলে আমার খারাপ লাগবে না। আমি শুধু চাই, এই কোভিড যেন চলে যায়। এই পরিবারগুলোর জন্য আমি খুব দুঃখ অনুভব করছি।’ গতকাল শনিবার ইন্দোনেশিয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা রেডর্ক ছাড়িয়েছে। দেশটিতে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৮ হাজার মানুষের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যাদের ১০ হাজারই রাজধানী জাকার্তার। দেশটিতে ইতোমধ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অবাধে যাতায়াত করায় সংক্রমণ বেড়েছে। এর উপর আবার অতিসংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে সংকট কতোটা নাজুক তা জাকার্তার দক্ষিণের অক্সিজেন সিলিন্ডারের দোকানগুলোতে গেলে বোঝা যায়। বেড না থাকায় রোগীদের বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই স্বজনরা অক্সিজেনের জন্য দোকানগুলোতে লম্বা সিরিয়াল দিয়ে রেখেছেন। জাকার্তার পারসাহবাতান হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, ‘বহু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হতে চাইছেন এবং তাদের আইসোলেশনে রাখা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। হাসপাতালের কিছু কর্মীর কোভিড-১৯ পজিটিভ এবং তাদের বাড়িতে বিশ্রাম ও কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রয়োজন। আমাদের কর্মী কম কিন্তু রোগী অনেক বেশি। এটা হতাশার!’

Girl in a jacket

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।