কলেজ জীবন থেকেই মাদক আর চোরাচালানে জড়ায় রোকন

379

দামুড়হুদা জয়রামপুরে মধ্যরাতে বন্দুকযুদ্ধে নিহত মাদক ব্যবসায়ীর দাফন সম্পন্ন
দর্শনা অফিস:
দামুড়হুদার জয়রামপুরে দুই দল মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের ত্রিমুখী বন্দুকযুদ্ধে নিহত দর্শনার রোকনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। নিহত রোকন দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। জয়রামপুর কাঠালতলা-চায়ের দোকানের মাঝামাঝি প্রধান সড়কের পাশে একটি বাঁশবাগান থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রোকনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর মাঠে মাদক ব্যবসায়ীর দুই পক্ষের বন্দুকযুদ্ধের সংবাদ পেয়ে দামুড়হুদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী দুই পক্ষই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে মাদক ব্যবসায়ীরা পিছু হটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রোকন নামের একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিহত রোকন দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মাঝপাড়ার আবু বক্করের ছেলে। পুলিশের দাবি, নিহত রোকন একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক, চোরাচালান, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজিসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
তবে নিহত রোকনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ‘গত বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে সাদা পোশাকে পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের ছটাংগা মাঠ থেকে রোকনকে তুলে নিয়ে যায়। পরে দর্শনা, দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন থানা ও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশের কাছে খোঁজ করলে তারা বলে, আমরা কোনো আসামি আটক করিনি। গতকাল শুক্রবার সকালে জানতে পারি, দামুড়হুদার একটি বাঁশবাগানে বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছে। পরে হাসপাতালের মর্গে যেয়ে ওই লাশ রোকনের বলে আমরা শনাক্ত করি।’
গতকাল শুক্রবার বিকেলে দিকে নিহত রোকনের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে তা তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সন্ধ্যার দিকে তাঁর লাশ নিজ গ্রাম দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর নিয়ে আনা হলে শত শত নারী-পুরুষ তাঁর লাশ দেখতে ছুটে আসেন। রোকনের স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। গতকাল এশার নামাজের পর দক্ষিণ চাঁদপুর স্কুলমাঠে জানাজা শেষে গ্রামের নতুন কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
কে এই রোকন:


দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মাঝপাড়ার আবু বক্করের ছেলে রোকন। আবু বক্করের দুই ছেলের মধ্যে রোকন ছিলেন ছোট। এ ছাড়া রোকনের একটি ছোট বোন রয়েছে। ১৯৯০ সালে দর্শনা পৌর এলাকার দক্ষিণ চাঁদপুর গ্রামের মাঝপাড়ার এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রোকন। ছোটকাল থেকে রোকন একটু ডানপিটে ছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষার গ-ি পেরিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার মাঝামাঝি সময়ে তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। পরবর্তীতে পরিবারের শাসনের মধ্য দিয়ে তিনি ২০১১ সালে দক্ষিণ চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর তিনি দর্শনা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
কীভাবে রোকনের উত্থান :
কলেজ জীবনে পদার্পণের পরপরই রোকন দক্ষিণ চাঁদপুরের মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানকারীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে তিনি বেশ কয়েকটি ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক ও চোরাচালান মামলার জালে আটকাও পড়েন। পরে ওই দলের সদস্যরা সবাই বিচ্ছিন্ন হলে পড়লেও আরও তিনি মাদক ও ল্যাগেজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এর মধ্যে তিনি দর্শনা হল্ট স্টেশনের পানিবিহীন ঘাট পরিচালনার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। পরে ওই ঘাট পরিচালনাকারীর সঙ্গে বাঁধে বিরোধ। বেশ কয়েকবার মারামারি ও অস্ত্রের মহড়াও চলে দুই গ্রুপের মধ্যে। জানা গেছে, তিনি ১০টি মামলার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ে বেশ কয়েকবার জেল খেটে ভালো হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু একদিকে মামলা চালানোর টাকা, অন্যদিকে সংসার চালানোর টাকা, এমন অর্থনৈতিক দৈন্যতা তাঁকে আর ভালো হতে দেয়নি। সংসার জীবনে তিনি বিয়ে করেছেন, তাঁর দেড় বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান আছে।