চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ১৬ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কর্নাটকে হিজাব নিষিদ্ধের পক্ষেই হাইকোর্টের রায়

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ১৬, ২০২২ ৯:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
হিজাব নিষিদ্ধই থাকছে ভারতের কর্নাটকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোন ড্রেস কোড নেই, সেখানকার ছাত্রীরা হিজাব পরে ক্লাসে যেতে পারবেন। আজ মঙ্গলবার কর্নাটক হাই কোর্ট এক আদেশে এই রায় দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। সম্প্রতি সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধকরণ নিয়ে তোলপাড় হয়। বেশ কিছু ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে ক্লাসে যোগ দিতে দেয়া হয়নি। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে স্কুল ও কলেজে হিজাব পরে যাওয়া ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। এমনও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে যে, যেসব ছাত্রী ও শিক্ষিকা হিজাব পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন, তাদেরকে ক্যাম্পাসে প্রবেশের আগেই হিজাব খুলতে বাধ্য করা হয়েছে।
এর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। মুসলিম ছাত্রী ও ভারতীয় জনতা পার্টির সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। ফলে কয়েকজন ছাত্রী ক্লাসে হিজাব নিষিদ্ধের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে রায় দেয়ার আগে রাজধানী ব্যাঙ্গালুরুতে এক সপ্তাহের জন্য বড় সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। ১৫ থেকে ১৯শে মার্চ পর্যন্ত সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ম্যাঙ্গালোরেও। আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে উদুপি জেলার সব স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখা হয়। বলা হয়, জনশৃংখলা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য তা জরুরি। গত ডিসেম্বরে উদুপি জেলা থেকেই এই প্রতিবাদের সূচনা।
এমন এক সতর্ক অবস্থার মধ্যে মঙ্গলবার কর্নাটক হাই কোর্ট তার রায় দেয়। শ্রেণিকক্ষে হিজাব নিষিদ্ধকে সমর্থন করে আদালত বলে, ধর্মীয় চর্চা শ্রেণিকক্ষে আবশ্যক নয়। তিন বিচারকের বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানি করে। মুসলিম শিক্ষার্থীরা রাজ্য সরকারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উল্টো তাদের আবেদনকে খারিজ করে দিয়েছে। এর আগে গত ৫ই ফেব্রুয়ারি কর্নাটক সরকার স্কুল এবং কলেজে এমন পোশাক নিষিদ্ধ করে, যা সমতা, অখ-তা এবং জনশৃংখলা বিঘ্নিত করে। এর বিরুদ্ধে ওই ছাত্রীরা আবেদন করেন। জবাবে কর্নাটক হাইকোর্ট তার আদেশে বলেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ইউনিফর্মের বিষয়ে যৌক্তিক বিধিনিষেধ দিতে পারে এবং তার বিরুদ্ধে আপত্তি করতে পারবেন না শিক্ষার্থীরা। এমন নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতা আছে সরকারের।
এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন ছাত্রীদের পক্ষের আইনজীবী অভিষেক জনার্ধন। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, আমরা চাই না কোনো সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি করে নেয়া হোক। আমরা এ রায় নিয়ে সিনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা করবো এবং এরপরে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। এর আগে কর্নাটক হাইকোর্ট হিজাব ও স্যাফ্রোন স্কার্ফ সহ ধর্মীয় পোশাক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করে। এক ডজন মুসলিম শিক্ষার্থী আবেদনে দাবি করেছিলেন যে, ভারতীয় সংবিধানের অধীনে হিজাব পরা তাদের মৌলিক অধিকার এবং অত্যবশ্যকীয় চর্চা। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
এই বিতর্কের সূচনা হয় গত বছর প্রথম উদুপি জেলার একটি স্কুলে। সেখানে হেডস্কার্ফ পরে ছাত্রীদের ক্লাসে যোগ দেয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এই বিধিনিষেধের বিষয়টি অন্যান্য ক্যাম্পাসেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা। এর সদ্ব্যবহার করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিজেপির নেতাকর্মীরা। তারা একটি ক্যাম্পাসে এক ছাত্রীর পিছু নেয়। তিনি ছিলেন হিজাব পরা। তাকে তারা অপদস্ত করার চেষ্টা করে। তারা জয় শ্রীরাম স্লোগা দিতে থাকে। পাল্টা জবাব দেন ওই ছাত্রী। তিনিও পাল্টা ‘আল্লাহু আকবর’ বলে স্লোগান দেন। ক্রমশ উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ফলে বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।