চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২২ এপ্রিল ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনা থেকে রেহাই পেতে যা কিছু করণীয়

সমীকরণ প্রতিবেদন
এপ্রিল ২২, ২০২১ ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

– রাজিব আহমেদ
এক বছর আগে বাংলাদেশে যখন সর্বপ্রথম করোনার রোগী শনাক্ত হয়েছিল, ঠিক তার পরপরই সমগ্র দেশজুড়ে চৌদ্দ দিনের কঠোর লকডাউন আরোপ করা হয়। পরবর্তীতে যা দফায় দফায় বাড়তে বাড়তে দুই-আড়াই মাস ধরে চলেছিল। পরে অবশ্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে লকডাউনের পরিসমাপ্তি না টানলেও ধীরে ধীরে সবকিছু শিথিল/স্বাভাবিক হয়ে আসে। তখন অনেককে চচঊ পরে ঘুরে বেড়াতে দেখা যেত। কিছুক্ষণ পরপর সবাই সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতেন। আর সার্বক্ষণিক মাস্ক পরিধানের পাশাপাশি সবাই পকেটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন।
প্রশ্ন হলো- এতো সব কাণ্ড-কীর্তি করেও কি করোনাকে স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে? হয়নি। করোনাভাইরাস ঠিকই তার রূপ ও অবস্থান বদল করে আমাদের মাঝে আরও জেঁকে বসেছে। তাহলে কি অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, করোনা ঠেকাতে লকডাউন, মাস্ক পরিধান, বারবার হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার মাখাই শেষ কথা নয়; আমাদেরকে আরও কিছু কার্যকর/স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। আগেরবার যা কিছু করে করোনাকে চূড়ান্তভাবে দমানো যায়নি, শুধুমাত্র সেগুলো আবারো হুবুহু পালন করে কী ফায়দা? যাঁরা বলবেন- করোনার প্রকোপ তখন সাময়িকভাবে কমানো সম্ভব হয়েছিল, তাঁদের কাছে আমার প্রশ্ন- তাহলে কি এবারো আমরা লকডাউন ঘোষণা করে স্রেফ সাময়িক পরিত্রাণই চাইছি? স্থায়ী সমাধান কি আমাদের কাম্য নয়?
করোনা থেকে চূড়ান্ত মুক্তি যে শুধুমাত্র লকডাউন, বারবার হাত ধুয়ে স্যানিটাইজার মাখা আর মাস্ক পরিধানের মধ্যে নিহিত নেই- সেটি এখন প্রমাণিত সত্য। আমাদেরকে করোনার হাত থেকে রেহাই পেতে আরও কিছু সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ গ্রহণ/যুক্ত করতে হবে। কিন্তু কী হবে সেই পদক্ষেপগুলো- সেটা কি সরকার, নীতি-নির্ধারক বা আমরা কেউ ভেবেছি? আমি এখানে কিছু দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলতে পারি- যেগুলো মেনে চললে করোনার প্রকোপ শুধু কমবেই না, চিরস্থায়ীভাবে নির্মূল হবে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে- চলমান সমাজে এসব পরামর্শের মর্মোপলব্ধি করার মতো মানুষের সংখ্যা খুবই সীমিত। আবার যাঁরা বুঝবেন, তাঁরা যথাস্থানে না থাকায় কিছুই করতে পারবেন না অথবা ব্যক্তিগত স্বার্থহানি ঘটবে বলে মৌনতা অবলম্বন করবেন! তবু আমি আমার চিন্তা-ভাবনা প্রসূত মতামত তুলে ধরছি- যাতে রাষ্ট্রীয়ভাবে না হলেও অন্তত ব্যক্তিগত পর্যায়ে মেনে চলে আমরা যার যার অবস্থানে নিরাপদ থাকতে পারি :
কোনো অবস্থাতেই রাত জাগা যাবে না। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে ভোরবেলা নামাজ আদায় করে দিন শুরু করতে হবে। যাঁরা নিয়মিত মসজিদে গিয়ে জামাতে ফজরের নামাজ আদায় করেন, তাঁদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম! প্রতিদিন সকালে ১০ মিনিট হাঁটবেন, ১০ মিনিট দৌঁড়াবেন আর ১০ মিনিট শরীরে সূর্যের আলো/তাপ গায়ে লাগাবেন। অন্তত ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করে অবশ্যই ঘাম ঝরাবেন। খাদ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে টেনে ধরতে হবে মুখের লাগাম। অল্প খাবেন, কিন্তু সেটা যেন প্রাকৃতিক খাবার (টাটকা শাকসবজি ও ফলমূল) হয়। বিজ্ঞাপনযুক্ত খাবার পরিহার করে খান বিজ্ঞানসম্মত খাবার; বর্জন করুন সকল জঞ্জাল খাবার (জাঙ্কফুড), ফাস্টফুড, রাস্তার পাশের খোলা খাবার ও ভাজা-পোড়া।
প্রতিদিন এক গ্লাস সবুজ পাতার রস (পুদিনা পাতা, তুলসি পাতা, লেটুস পাতা, পালংশাক/পুঁইশাক/মূলাশাক, ধনে পাতা আর আমলকি ব্লেন্ড করে) খান। আপনার মলের রঙ যত বেশি সবুজাভাব রাখতে পারবেন, তত বেশি সুস্থ ও সবল (চির সবুজ) থাকতে পারবেন! এছাড়াও প্রতিদিনকার খাদ্যতালিকায় রাখুন- ১. টক ফল, ২. ছাতু/ইসুবগুলের ভুষি, ৩. পুদিনা পাতা, ৪. এক কোয়া রসুন, ৫. ঢেঁড়শ, ৬. কাঁচা হলুদ, ৭. তুলসি পাতা, ৮. আদা, ৯. গাঁজর, ১০. কালোজিরা, ১১. মধু, ১২. কাঁচা ছোলা, ১৩. দারুচিনি, ১৪. লবঙ্গ, ১৫. গোল মরিচ, ১৬. এলাচ, ১৭. লাল আটার রুটি/ঢেকি ছাঁটা লাল চালের ভাত (পরিমাণে অল্প), ১৮. ডিম (পানি পোচ), ১৯. দুধ, ২০. তেঁতুল পানি (জিরার গুঁড়া মেশানো) ইত্যাদি।
দাঁতের কাজ পাকস্থলীকে দিয়ে করাবেন না। কমপক্ষে দশবার চিবিয়ে প্রতি লোকমা খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়া সহজতর হবে! খাবার খাবেন পান করে আর পানি খাবেন চিবিয়ে! মানে খাবারকে চিবাতে চিবাতে মুখের মধ্যেই তরল বানিয়ে ফেলুন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে- অবশ্যই বসে, বিসমিল্লাহ্ বলে তিন ঢোক-এ, পানি মুখে নিয়ে কুলি করতে করতে। ধূমপান, চিনি ও কোমলপানীয়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত। বিশেষত ধূমপান বহাল রেখে যত রকম ‘উড়হি’-ই প্রয়োগ করেন না কেন, করোনাকে ‘খড়পশ’ করা যাবে না! সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- সবসময় ওজু অবস্থায় থাকুন, ওজুভঙ্গের কারণ ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ওজু করে নিন; করোনার জীবাণু কোনো ক্ষতি করতে পারবে না! সর্বশক্তিমান আমাদের সবাইকে উত্তম বোধ-বুদ্ধি দান করুন। আমিন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।