করোনা কারো জন্য লাল, হলুদ, অথবা সবুজ সঙ্কেত!

28

– রাজিব আহমেদ
আপনার ইমিউন সিস্টেম কোন অবস্থায় আছে, করোনা তার একটা সিগনাল মাত্র। এটাই কারো জন্য লাল, কারো জন্য হলুদ, আবার কারো জন্য সবুজ সঙ্কেত হতে পারে। কারো লাইফস্টাইল, খাদ্যাভ্যাস যদি সঠিক না হয়, সেক্ষেত্রে শরীরের ইমিউন সিস্টেম অতিশয় দুর্বল বা ঠুনকো অবস্থায় আছে। করোনাভাইরাস ধরামাত্র মৃত্যু অবধারিত। যদি কিছুটা নিয়ম মেনে চলেন, তো করোনাক্রান্ত হয়ে ভুগলেও এ যাত্রায় শেষমেশ বেঁচে যাবেন। আর যদি সুস্থতার ব্যাকরণ মেনে জীবনটাকে নতুনভাবে সাজিয়ে নিতে পারেন, তাহলে করোনাভাইরাস বারংবার ছুঁয়ে গেলেও কোনোই ক্ষতি হবে না।
সুতরাং আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে, করোনাভাইরাসকে মোকাবিলা করার বাহ্যিক চেষ্টা বাদ দিয়ে যারযার ইমিউন সিস্টেম উন্নত করার প্রচেষ্টা চালানো উচিত। আপনি লকডাউনে ঘরে বসে থাকলে, সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহার করলে ও হাত ধুয়ে স্যানিটাইজার মাখলে যতখানি নিরাপদ, তারচেয়ে বহুগুণ বেশি নিরাপদ থাকতে পারবেন আপনার লাইফস্টাইল ঠিক করলে আর আদর্শ খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে। কিন্তু অধিকাংশেরই সেদিকে কোনো খেয়াল নেই! সুস্থতার স্বার্থে সপ্তাহে দুইদিন রোজা রাখার জন্য যেখানে বিশ্বব্যাপী প্রচারণা চলছে, সেখানে কেউ কেউ চলতি রমজান মাসেও নিতান্ত অবহেলা করে রোজা রাখছেন না, নামাজ আদায় তো আরও দূরের ব্যাপার। এরাই আবার মাস্ক পরিধান নিয়ে অহেতুক বাড়াবাড়ি করেন!
অনেকে উল্টাপাল্টা খাবার খাচ্ছেন, ধূমপান অব্যাহত রেখেছেন, রাত জাগছেন আবার ভ্যাকসিন নিয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড করেই নিজেকে নিরাপদ ভাবতে শুরু করে দিয়েছেন; মনে করছেন- করোনা থেকে চূড়ান্ত নিষ্কৃতি পেয়ে গেছেন! ভ্যাকসিন নেওয়ার পরও যদি আগের মতোই উল্টাপাল্টা লাইফস্টাইল আর খাদ্যাভ্যাস চালিয়ে যেতে থাকেন, সেক্ষেত্রে করোনা ছাড়াই মরবেন! মৃত্যুর মিছিলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লকডাউন বাড়িয়ে শেষ রক্ষা হবে কি? এই একই পদক্ষেপগুলো তো গতবছর আরও কঠিনভাবে কার্যকর করা হয়েছিল। তাতে কিন্তু করোনা চিরতরে নির্মূল হয়নি, বরং বছর না ঘুরতেই আরও কঠিনভাবে জেঁকে বসেছে। সুতরাং গতবারের মতো হুবুহু একই পদক্ষেপ আবার গ্রহণ করে ভিন্ন/ভালো ফল আশা করাটা কতখানি যৌক্তিক? আমি তো আশঙ্কা করছি- আরও ভয়াবহ পরিণতির!
পরিশেষে বলি- করোনাকে সত্যিই রুঁখে দিতে চাইলে বদলাতে হবে লাইফস্টাইল, টেনে ধরতে হবে মুখের লাগাম। নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে ধূমপান, চিনি ও কোমল পানীয়কে। কিন্তু সেদিকে মনোযোগী না হলে সবই অরণ্যে রোদন বলে প্রতীয়মান হবে।