করোনা ও উপসর্গে চুয়াডাঙ্গায় আরও ৭ জনের মৃত্যু

27

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ জনের কোভিডে মৃত্যু, শনাক্ত ৬০৫৮
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে ১১৬ জনের করোনা পজিটিভ, পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫০ শতাংশে
সমীকরণ প্রতিবেদক:
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৩ হাজার ৮৬৮ জনে। একই সময়ে নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৫৮ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৫ জনে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনা বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৩০ জন। এই সময়ে ৩০ হাজার ৯৯৪টি নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ৩০ হাজার ৩৯১টি। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার ১৯.৯৩ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে ৩৬ জনেরই বয়স ৬০ বছরের বেশি। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৯ জন ও ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৯ জন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮ জন ও ১১ থেকে ২০ বছরের একজন রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী। মারা যাওয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ খুলনা বিভাগেই ২৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ১৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে সাতজন, রাজশাহী বিভাগে ২০ জন, বরিশাল বিভাগে তিনজন, সিলেট বিভাগে পাঁচজন, রংপুর বিভাগে সাতজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে তিনজন মারা গেছেন। এদের মধ্যে ৫ জন ছাড়া বাকিরা হাসপাতালে মারা গেছেন।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এনিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ জনে। এছাড়াও গতকাল সদর হাসপাতালের ইয়োলো জোনে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬ জনের।
গতকাল করোনা আক্রান্ত হয়ে রেড জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার তিতুদহ ইউনিয়নের মৃত ছুরত আলীর ছেলে দরবেশ আলীর (৭০)। গতকাল করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে মৃত্যু হওয়া অন্য ছয়জন হলেন- দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মদনা গ্রামের ফকির হোসেনের ছেলে ইসমাইল (৭০), একই গ্রামের মোহর আলীর স্ত্রী সফুরা খাতুন (৪০), একই উপজেলার চণ্ডিপুর গ্রামের মুক্তার আলীর ছেলে আরশাদ আলী (৫৫), গোপালপুর গ্রামের মোল্লার স্ত্রী মোনয়ারা বেগম (৬৫), কোমরপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৫০) ও সদর উপজেলার ফার্মপাড়ার ওসমান গণির স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৪৫)।
সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘গতকাল সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দরবেশ আলী নামের এক করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। গত ১৪ জুন তিনি করোনা ইউনিটে ভর্তি হন। আজ (গতকাল) বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটার দিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে ইয়োলো জোনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। রেড জোনে ও ইয়োলো জোনে নিহত সকলের লাশ করোনা প্রটোকলে পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই তাঁদের দাফনকার্য সম্পন্ন করা হবে।’
গতকাল বৃস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা স্বাস্থ্য বিভাগ র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন ও আর টি পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষাকৃত ২৩২টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে ১১৬টি নমুনার ফলাফল পজিটিভ এসেছে। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫০ শতাংশ। নতুন আক্রান্ত ১১৬ জনের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ৬১ জন, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৪৭ জন, দামুড়হুদা উপজেলার ১২ জন ও জীবননগর উপজেলার ২৯ জন। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৯৫৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলার ১ হাজার ৩৭৭ জন, আলমডাঙ্গার ৪৭৭ জন, দামুড়হুদায় ৬৯৮ জন ও জীবননগরে ৪০০ জন। গত বৃহস্পতিবার জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য ২২৩টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করে। গতকাল উক্ত অ্যান্টিজের টেস্ট ও আর টি পিসিআর ল্যাবে প্রেরিত পূর্বের পেন্ডিং নমুনাসহ মোট ২৩২টি নমুনার ফলাফল প্রকাশ করে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। এরমধ্যে ১১৬ জনের করোনা ফলাফল পজিটিভ আসে। এছাড়া গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য আরও ২৩৩টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কুষ্টিয়া পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করেছে।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ১২ হাজার ৭৪৫টি, প্রাপ্ত ফলাফল ১১ হাজার ৯০০টি, পজিটিভ ২ হাজার ৯৫৩ জন। জেলায় বর্তমানে ৮৩৯ জন হোম ও হাসপাতাল আইসোলেশনে রয়েছে। এর মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছে ৭৭৪ জন ও হাসপাতাল আইসোলেশনে ৬৫ জন। গতকাল চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন একজনসহ এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৯২ জনের। এরমধ্যে সদর উপজেলার ৩০ জন, আলমডাঙ্গায় ১৮ জন, দামুড়হুদায় ২৫ জন ও জীবননগরে ৯ জনসহ ৮২ জন। চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।