চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৬ জানুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনায় সংকুচিত হচ্ছে চাকরিবাজার : হতাশায় বেকাররা

সমীকরণ প্রতিবেদন:
জানুয়ারি ৬, ২০২২ ২:১২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সময় সকাল ৭টা। জরাজীর্ণ ট্রাংকের চিপা থেকে বের হলা সাদা শার্ট। এদিকে চলছে ময়লা জুতা নিজেই পরিষ্কার করার অভিযান। ধার করা টাই আর বন্ধুর কালো বেল্ট দিয়েই চালিয়ে নেবে এবারের ভাইভা। তাতেও যদি চাকরিটা হয়। না, গল্প নয়। বলছিলাম প্রাণহীন ঢাকা শহরের দৈনন্দিন চিত্রের কথা। বাস্তবতার কথা। অনার্স অথবা মাস্টার্স শেষ করে বেকারের খাতায় নাম লিখিয়েছেন এমন যোদ্ধাদের কথা। জীবনের সাথে ঝলসে যাওয়া জীবনের কথা। শিক্ষা জীবন শেষ করে এমনিভাবে বেকারের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী শুভ (ছদ্মনাম)।

এ পর্যন্ত প্রায় ২০টি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছেন শুভ কিন্তু ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়নি। ধরা দেয়নি চাকরি নামের সোনার হরিণ। চার বোন আর দুই ভাইয়ের সংসারে সবার বড় তিনি। পরিবার থেকেও প্রতিদিন খোঁজ নেয়া হয় নতুন চাকরি হলো কিনা। কি বলবে শুভ? কি আছে উত্তর দেয়ার? সময়ের সাথে সাথে বয়স থেমে নেই, হতাশাও বাড়ছে। শুধু শুভই নয় পরিসংখ্যান বলছে, শুভর মতো এমন মানসিক সমস্যার শিকার দেশের মোট জনসংখার বড় একটি অংশ। বিসিএসের ভাইভা দেয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন সোলায়মান আবু সালেহ। জানালেন, এটাই তার শেষ ভাইভা। এর আগে তিনবার বিসিএসের ভাইভা দিয়েও চাকরি হয়নি। তাই এবার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা এ যুবকের চোখে-মুখে হতাশার চিত্রই ফুটে উঠেছে। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে দিনযাপন করা সালেহ বলেন, একটা কর্মসংস্থানই আমার শেষ আশা। শুধু সালেহ নয়, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ৩০ লাখের বেশি শিক্ষিত বেকার। জীবনের চরম বাস্তবতা তাদের পিছু ছাড়ছে না। প্রতিটি মুহূর্ত তাড়া করছে চাকরি না পাওয়ার হতাশা। প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ-তরুণী বাংলাদেশের চাকরির বাজারে পা রাখছেন। এদের বড় একটি সংখ্যক স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শেষ করে সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এমনিতেই দেশে বেকারত্বের হার অনেক। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে সেই সংকট আরও বেড়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ ২০১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, বাংলাদেশে মোট কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ছয় কোটি ৩৫ লাখ। এর মধ্যে কাজ করেন ছয় কোটি আট লাখ নারী-পুরুষ আর ২৭ লাখ বেকার। আর সম্ভাবনাময় কিন্তু সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পান না এরকম ব্যক্তি (লেবার আন্ডার ইউটিলাইজেশন), যাদের ছদ্ম-বেকার বর্ণনা করা হয়, এরকম মানুষ রয়েছেন প্রায় ৬৬ লাখ। এরা চাহিদা মাফিক কাজ না পেয়ে টিউশনি, রাইড শেয়ারিং, বিক্রয় কর্মী ইত্যাদি খণ্ডকালীন কাজ করেন। বাংলাদেশে বেকারত্বেও হার ৪.২ ভাগ হলেও যুব বেকারত্বের হার ১১.৬ শতাংশ


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২০’ জরিপে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের মোট জনশক্তি ১৬ কোটি ৮২ লাখ। এর মধ্যে কর্ম উপযোগী মানুষের সংখ্যা ১০ কোটি ৯১ লাখ। কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন ছয় কোটি আট লাখ মানুষ। বাকি চার কোটি ১১ লাখ কর্মের বাইরে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, করোনা ভাইরাস সংকটে বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন বেকার হয়েছে আর বাংলাদেশের প্রতি চারজন যুবকের মধ্যে একজন কর্মহীন বা বেকার রয়েছে (২৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ)। করোনার শুরু থেকেই এই বেকারত্ব বাড়ছে। আইএলও বলছে, মহামারিতে মানুষ তিনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একদিকে বেকার, সেই সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণও ব্যাহত হচ্ছে তাদের। এতে তাদের চাকরিতে প্রবেশ ও দক্ষতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। করোনা ভাইরাসের কারণে তৈরি হওয়া মন্দায় ব্যাংকিং, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বেতন কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অনেক প্রতিষ্ঠান খরচ কমাতে কর্মী ছাঁটাই করছে। কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধও করে দেয়া হয়েছে। আর বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে।


আইএলওর একটি প্রতিবেদন বলছে, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বর্তমানে বিশ্বের পূর্ণ বা খণ্ডকালীন মোট কর্মশক্তির প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনের পেশা কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতির শিকার বড় একটি অংশ তরুণ-তরুণীরা। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা তিন কোটি। প্রতিষ্ঠানটি আভাস দিয়েছে, কয়েক বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে ছয় কোটিতে দাঁড়াবে, যা মোট জনসংখ্যার ৩৯ দশমিক ৪০ শতাংশ হবে। আইএলওর হিসাবটিকেই পর্যবেক্ষকরা বাংলাদেশের প্রকৃত বেকারের সংখ্যা বলে মনে করেন।


বাংলাদেশের ব্যাংক, বহুজাতিক বা বড় কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা না হওয়ায় কর্মী ছাঁটাই বা বর্তমান কর্মীদের বেতন কমিয়ে দিচ্ছে। ব্যাংকগুলো বলছে, আগে থেকেই খেলাপি ঋণের চাপ, তারল্য সংকট, তার ওপর ব্যবসা-বাণিজ্যের অবনতির কারণে করোনা ভাইরাসের এই প্রাদুর্ভাবে তাদের ব্যবসা খাদের কিনারে। ব্যয় কমানো ছাড়া তাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। বেতন না কমালে ছাঁটাই করতে হবে। এদিকে নতুন যারা পড়াশোনা শেষ করে বের হলো, তারা একটা বিপদে পড়বেই। কারণ বাংলাদেশের সব ধরনের কোম্পানিই এখন সংকটে আছে। যারা বর্তমানে চাকরিতে আছে, তাদের অনেকে চাকরিহীন হয়ে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে এসে চাকরির লড়াই করতে হবে নতুন আসা ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটদের।


ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র রিসার্চ এসোসিয়েট মো. শাকিল আহমেদ বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, মহামারির আগে চাকরিতে নিযুক্ত থাকলেও তরুণ-তরুণীদের ১৫ শতাংশ মহামারির পর কর্মহীন হয়েছে। তাদের শিক্ষার নিম্নমান, অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার অভাব থাকার পাশাপাশি কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় শ্রম বাজারে ইতোমধ্যেই তারা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। মহামারিকালীন তরুণদের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়েছে। কৃষিকাজ, দিনমজুর কিংবা পরিবহন শ্রমিকদের মতো তুলনামূলক কম দক্ষ কর্মীদের চেয়ে দক্ষতা নির্ভর পেশা যেমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা খাত, হস্তশিল্প ইত্যাদিতে জড়িত তরুণ পেশাজীবীরা বেশি সময় ধরে বেকার থাকছেন। যারা আবারও চাকরি জোগাড় করতে পেরেছেন, তাদের গড় আয় কোভিড-পূর্ব অবস্থার তুলনায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। শহরাঞ্চলের তরুণদের আয়ে বেশ বড় রকমের ধাক্কা লেগেছে, ১৫ শতাংশ আয় কমেছে তাদের। মহামারির আগে চাকরিরত তরুণীদের এক তৃতীয়াংশ ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাদের চাকরি হারিয়েছেন। চাকরি হারানোর এই হার তরুণদের চেয়ে তিন গুণ বেশি। অন্যদিকে, মহামারির আগে এবং পরে উভয় সময়ে চাকরিতে যোগদান করা নারীদের আয় কমে যাওয়ার হার পুরুষদের তুলনায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ তরুণদের আয় ১০ শতাংশ কমলেও তরুণীদের ক্ষেত্রে তা কমেছে ২১ শতাংশ। করোনার পাশাপাশি বাংলাদেশের বেকারত্বের হার ক্রমবর্ধমান হওয়ার অন্যতম কারণ কি রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং সমসাময়িক ঘটনার বিশ্লেষক লীনা পারভীন আমার সংবাদকে জানান, বাংলাদেশের বেকারত্বের অন্যতম প্রধান কারণ চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারা। দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ শিক্ষার্থী চাকরি বাজারে পা রাখেন সে তুলনায় আমাদের কর্মসংস্থানের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি যে সব শিক্ষার্থী চাকরিবাজারে প্রবেশ করছেন তারা নিয়োগদাতাদের চাহিদা সম্পর্কে সচেতন নয়। সুতরাং প্রতিযোগিতামূলক এই বাজারে কিভাবে নিজেকে প্রস্তুত করবেন সে সম্পর্কে তারা অবগত নন। আমাদের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং চাকরি বাজারের মাঝে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে দিনশেষে সমস্যার শিকার হচ্ছে আমাদের শিক্ষার্থীরা। যেহেতু বিশ্ববাজার প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে সেহেতু সময়ের সাথে আমাদের শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। সমস্যা সমাধানে কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি যোগ করেন, যেহেতু আমাদের প্রধান সমস্যা শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে চাকরি বাজারের সমন্বয়হীনতা সেহেতু এদিকে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জব মার্কেটের সাথে সম্পৃক্ত রাখা প্রয়োজন এবং কর্মক্ষেত্র বাড়ানো উচিত। শুধু সরকারি চাকরি নির্ভর না হয়ে দেশের বেসরকারি খাতেও গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। সাথে সাথে শিক্ষাব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক, স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারলেই এ সমস্যা থেকে সমাধান মিলবে।


বাংলাদেশে বেকারত্ব সমস্যার কারণ এবং সমাধানের জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন এমন প্রশ্নের উত্তরে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এক্সিলেন্স অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট পরিচালক আনিসুর রহমান বলেন, আমাদের অধিকাংশ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো যে মানের কারিকুলাম অনুসরণ করা হয়, তাতে শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার জন্য যে সব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজন, তা প্রতিফলিত হচ্ছে না। ফলশ্রুতিতে, পাশকৃত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্রাজুয়েটদের বাস্তবধর্মী ও কর্মমুখী দক্ষতার প্রবল সংকট রয়েছে। সুতরাং আমাদের দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েই যাচ্ছে। এছাড়াও, শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর জ্ঞানমূলক শিক্ষা অর্জনের প্রক্রিয়া থেকে বের হতে না পারলে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু, অধিকাংশ শিক্ষার্থী শুধু চাকরির মানসিকতায় আবদ্ধ থাকায় এই সংকট প্রবল রূপ ধারণ করছে। এমতাবস্থায়, শিক্ষার্থীদের বাস্তবধর্মী ও কর্মমুখী শিক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সুনিশ্চিত ব্যবহার অন্তর্ভুক্তকরণের মাধ্যমে এই সংকট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। চলমান শিক্ষা-ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করতে পারলে আমাদের কর্মক্ষেত্রের পরিধি বৃদ্ধি পাবে, যা বেকারত্বের সমস্যা নিরসনে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের সভাপতি মাশেকুর রহমান খান বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশে চাকরিক্ষেত্রের তুলনায় আমাদের গ্রাজুয়েট বেশি বের হচ্ছে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাচ্ছে বেকারত্ব। পাশাপাশি গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে আমাদের শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে যথেষ্ট কমিউনিকেশন স্কিলের অভাবও দেখা যায়। বেকারত্বের এই মহামারি থেকে বাঁচতে আমাদের মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতগুলোতেও গুরুত্ব দিতে হবে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।