করোনায় মৃত্যুতে সেঞ্চুরি, সপ্তাহে প্রাণ গেল ৬০০ জনের

47

চুয়াডাঙ্গায় নতুন আরও একজনসহ সারা দেশে ৪ হাজার ৪১৭ জন আক্রান্ত
সমীকরণ প্রতিবেদক:
গত এক বছরের মধ্যে এই প্রথম দেশে করোনায় মৃত্যু শতকের ঘর ছাড়াল। গত চব্বিশ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সর্বোচ্চ ১০১ জন মারা গেছেন। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৪১৭ জন। গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১৮ হাজার ৯০৬ জনের। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৭ লাখ ১১ হাজার ৭৭৯ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ১০ হাজার ১৮২ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ২ হাজার ৯০৮ জন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার করোনায় ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর ৪ হাজার ১৯২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্তের কথা জানায় সরকার। গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তের হার ২০ শতাংশের ওপরে ছিল। এরপর থেকে শনাক্তের হার কমতে শুরু করে। গত জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র। মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছর মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি তীব্র। মধ্যে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যাও আবার বাড়তে শুরু করেছে। কোনো দেশে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আছে কি না, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঠিক করা কিছু নির্দেশক থেকে বোঝা যায়। তার একটি হলো রোগী শনাক্তের হার। টানা দুই সপ্তাহের বেশি রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। এ বছর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে ছিল। দুই মাস পর গত ১০ মার্চ দৈনিক শনাক্ত আবার হাজার ছাড়ায়। এরপর দৈনিক শনাক্ত বাড়ছেই।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ২৯ মার্চ বেশ কিছু বিধিনিষেধসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। এর মধ্যে ঘরের বাইরে গেলে মাস্কের ব্যবহার অন্যতম। কিন্তু সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকলেও জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এখনো উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদেরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার বিকল্প নেই।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় নতুন করে আরও একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১৯ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৯৬৬ জন, আলমডাঙ্গায় ৩৪৭ জন, দামুড়হুদায় ৩১৪ জন ও জীবননগরে ১৯২ জন। গতকাল শুক্রবার রাত আটটায় জেলা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করে। গতকাল জেলায় নতুন কেউ সুস্থ হয়নি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৬৪৮ জন। এর মধ্যে সদর উপজেলার ৮৬১ জন, আলমডাঙ্গার ৩২৫ জন, দামুড়হুদার ২৮৪ জন ও জীবননগরের ১৭৮ জন। গতকাল জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ করোনা পরীক্ষার জন্য কোন নমুনা সংগ্রহ করেনি। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ৮ হাজার ৯৯০টি।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে ৪০টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করে। গতকাল পূর্বের পেন্ডিং নমুনাসহ ৩০টি নমুনার ফলাফল সিভিল সার্জন অফিসে আসে। উক্ত নমুনায় মধ্যে ১জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। বাকী ২৯টি নমুনার ফলাফল নেগেটিভ।
চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিসের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলা থেকে এ পর্যন্ত মোট নমুনা সংগ্রহ ৮ হাজার ৯৯০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৮হাজার ৭৮৮টি, পজিটিভ ১ হাজার ৮১৯টি, নেগেটিভ ৬ হাজার ৬৯৪০টি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চুয়াডায় ১১৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিল। এর মধ্যে প্রত্যেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলায় অবস্থানকালে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে ১০৫জন হোম আইসোলেশন ও অন্য ৯জন প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে আছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গার বাইরে রয়েছেন ৪ জন। চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৫ জনের। এর মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।