করোনায় থেমে নেই কৃষি বিভাগের কার্যক্রম

203

প্রতিবেদক, ঝিনাইদহ:
করোনা মহামারিতেও থেমে নেই ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ। মহামারিতে বিভিন্ন অফিস-আদালতের স্বাভাবিক কাজ-কর্মে কিছুটা ভাটা পড়লেও এক দিনের জন্যও থেমে নেই কৃষি বিভাগের কার্যক্রম। করোনা পরবর্তী খাদ্য সংকট যেন না হয়, সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ‘এক ইঞ্চি আবাদযোগ্য জমিও যেন অনাবাদী না থাকে’ সে ঘোষণাকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি আম্পান ঝড়ের কারণে ঘটে যাওয়া ক্ষয়-ক্ষতি সামাল দিয়ে কৃষি যেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পাওে, সে লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কৃষকেরা যেন তাঁদের উৎপাদন প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে পারেন, সে জন্য প্রতিদিনই কৃষি উৎপাদনের আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষক প্রশিক্ষণ, মাঠ দিবসসহ বিভিন্ন কর্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে কৃষকেরা কৃষি উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিনামূল্যে কৃষকদের মধ্যে আউশ ধানের বীজ, শাক সবজির বীজ-চারা বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহা. মোফাকখারুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে করোনা পরবর্তীতে দেশে খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলা করার লক্ষ্যে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য যা যা করণীয়, তার সবকিছুই করছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকেরা যেন লাভবান হতে পাওে, এ জন্য আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সর্ম্পকে প্রশিক্ষণ প্রদান, মাঠ দিবস আয়োজন এবং প্রদর্শনী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি জানান, এ বছর বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তদপুরি আউশ ধান উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিমধ্যে উপজেলার ১ হাজার ৭৬৫ জন কৃষককে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে উন্নতজাতের ধানের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। বীজ সহায়তার আওতায় প্রায় তিন শতাধিক কৃষককে বিনামূল্যে ধানের বীজ, বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি ও ফলের বীজ-চারা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া পারিবারিক পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ৩২টি করে পরিবারে সর্বমোট ৫৪৪টি পরিবারের বাড়ির আঙিনায় এক শতক করে জমিতে বছরব্যাপী বিভিন্ন শাক-সবজি ও ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রণোদনার আওতায় ‘কালিকাপুর মডেল’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ সবজি ও ফল উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। করোনা ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কৃষি বিভাগের চলমান কার্যক্রম সাধারণ মানুষের মনে আশার সঞ্চার করেছে। ঝিনাইদহ সদর একটি কৃষি প্রধান এলাকা, এখানেকার উর্বর মাটিতে সব ধরনের ফল-ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।