চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৩ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনার দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ায় ভুগছে মানুষ

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২৩, ২০২২ ৮:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: করোনার দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া ভুগছেন আক্রান্তরা। সমস্যাগুলো খুবই সাধারণ কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে সমস্যার সৃষ্টি করছে। দীর্ঘ প্রতিক্রিয়ার সমস্যা হলো- মনে না থাকা। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে কাছের মানুষের নাম নিয়ে। হঠাৎ করে কিছু মানুষের নাম ভুলে যাচ্ছেন করোনা আক্রান্তরা। অনেক চেষ্টা করেও প্রয়োজনের সময় নাম উচ্চারণ করা যাচ্ছে না। এতে করে সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছেন অনেকেই। এছাড়া আরো কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন করোনা আক্রান্তরা। এসব সমস্যা নিয়ে অনেকেই বছরের বেশি সময় কাটিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই ভাবছেন, এটা এমনিতেই হয়েছে, আবার এমনিতেই সেরে যাবে। বয়স্করা ভাবেন, এটা হয়তো বয়সজনিত কারণে হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এ সমস্যাটা করোনা আক্রান্তের কারণে বেশি হচ্ছে। করোনা থেকে সেরে ওঠার সাথে সাথে সমস্যাগুলো হয়নি বলে ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারছেন না সমস্যাগুলো করোনার কারণে হয়েছে। এর চিকিৎসা আছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করালে এসব সমস্যা থাকে না।

করোনা আক্রান্তরা সংক্রমণ থেকে মুক্ত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন নানা ধরনের সমস্যায় ভুগেন বিশেষ করে নিউরোলজিক্যাল সমস্যা। এটাকেই ‘লং কোভিড’ বা ‘পোস্ট কোভিড-১৯ সিনড্রোম’ বলা হয়ে থাকে। এসব সমস্যা অনেকের কয়েক সপ্তাহে অথবা কয়েক মাসের সেরে যায়। আবার অনেকের দীর্ঘদিন লেগে যায়। তবে যথাযথ চিকিৎসা নেয়ার পর সমস্যাগুলো দ্রুত চলে যায়। আক্রান্তরা যে সমস্যায় ভুগছেন সেগুলো হলো- ক্লান্তি লাগা, দীর্ঘ সময় দম রাখতে না পারা, বুকে ব্যথা বা বুকে কোনো কিছু শক্ত করে ধরে আছে এমনও হয়, কোনো কিছুতে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা অথবা স্মরণ করতে না পারা (ব্রেইন ফগ), ঘুম না আসা (ইনসোমনিয়া), হার্টে পালপিটিশন বেড়ে যাওয়া, মাথা ঘোরানো, হাতে পায়ে ঝিঁঝিঁ ওঠা, হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা, বিষণ্নতা, সব সময় কানে শোঁ শোঁ শব্দ মনে হওয়া, ক্ষুধামন্দা, পেটে অস্বস্তি, ডায়রিয়া এবং অসুস্থ বোধ করা, মাথা ব্যথা, ঘ্রাণশক্তির পরিবর্তন, মুখে স্বাদ না থাকা, শরীরে তাপমাত্রা বেশি থাকার মতো সমস্যাগুলো দেখা দিচ্ছে। নিউরোলজির চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, লং কোভিডে আক্রান্তদের কিছু টেস্ট করতে দেয়া হয়। টেস্টের পর চিকিৎসক সে অনুযায়ী কিছু ওষুধও দিতে পারেন অথবা চিকিৎসক সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে পাঠাতে পারেন কাউন্সেলিংয়ের জন্য। ওষুধের পাশাপাশি সাইকিয়াট্রিস্টের কাউন্সেলিং খুবই কাজে লাগে। চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক রক্ত পরীক্ষা, ব্লাড প্রেশার চেক করার সাথে সাথে হার্টরেটও মাপবেন, বুকের এক্স-রে করাতে বলতে পারেন, একটি ইসিজি করাতে বলতে পারেন, আরেকটি টেস্ট করাবেন যা হলে বসা থেকে উঠে দাঁড়াতে বলতে পারেন। চিকিৎসকেরা বলেছেন, একটি মাত্র ওষুধে এর চিকিৎসা নেই। একেক জনের একেক রকম চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপুর্ণ হলো- চিকিৎসকরা কাছে সবকিছু খুলে বলা। লং কোভিড চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কাছে যেতেই চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।