করোনার টিকা

78

মাঠের প্রস্তুতিতে ঘাটতি দূর করুন
দেশে করোনাভাইরাসের টিকা আনার প্রস্তুতি চলছে। টিকা আসার দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই টিকা প্রয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন হবে, তা নিয়ে সংশয় দানা বাঁধছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাগজে-কলমে গোছানো পরিকল্পনার মাঠে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ টিকা প্রয়োগের জন্য হাসপাতাল ছাড়া আর কোনো কেন্দ্রের বিষয়টি পরিকল্পনায় নেই। মাঠপর্যায়ে টিকা বহনের ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না তা-ও বিবেচনা করা হয়নি। কার নির্দেশনায় বা পরিচালনায় টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে সেটাও ঠিক করা হয়নি। কেন্দ্র থেকে যেমন প্রস্তুতির কথা বলা হচ্ছে, একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানে অনেক এলাকায়ই তেমন দেখা যায়নি। সমন্বয়হীনতা ও বিশৃঙ্খলার কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন বা দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ১৫টি জেলায় করোনার টিকা ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নির্দেশনা যায়নি। বেশ কয়েকটি জেলায় প্রশিক্ষণ ও কমিটি হয়নি। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, ঢাকায় এক ধরনের এবং ঢাকার বাইরে আরেক ধরনের সমস্যা হতে পারে। জেলা-উপজেলায় অভীষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য টিকা নিশ্চিত করা জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। সরকারের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক কারিগরি পরামর্শক কমিটির একজন সদস্য দুটি বড় বিষয় নিয়ে আশঙ্কা আছে বলেছেন। তিনি বলেন, এক. পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় জেলাপর্যায়ে সিভিল সার্জন, জেলা প্রশাসক, সংসদ সদস্য বা অন্য প্রভাবশালীদের মধ্যে কমান্ডিং নিয়ে ঝামেলা বাধবে। একেকজন একেকভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করবেন। টিকাদান ও টিকা ব্যবস্থাপনা আলাদা বিষয় হওয়ায় সিভিল সার্জন ও অন্যদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার প্রশ্ন উঠতে পারে। সমন্বয়হীনতা এখনো দৃশ্যমান। তাই পরিকল্পনায় জেলাপর্যায়ে কে হবেন চূড়ান্ত নেতৃত্ব ব্যক্তি তা ওপর থেকে ঠিক করে দেওয়া উচিত। দুই. জনসাধারণ এই টিকার গুরুত্ব বা ঝুঁকির বিষয়টি ঠিকমতো কতটা বুঝতে পারবে তা-ও বড় প্রসঙ্গ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কারিগরি কিছু বিষয়ও মুখ্য হয়ে উঠতে পারে, যা হয়তো এখনো ভাবা হয়নি।
পরিকল্পনা করা যত সহজ, মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন তত সহজ না-ও হতে পারে। অনেক ধরনের চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। সব বিবেচনায় নিতে হবে। শুধু সরকারি হাসপাতালে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করলে হবে না। ঢাকা ও জেলাপর্যায়ে অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র স্থাপনেরও প্রয়োজন আছে। তাহলে অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে না বলে আমরা মনে করি। সুচারুভাবে এ কাজ করা উচিত।