করোনার কাছে হেরে গেলেন চিত্রনায়িকা কবরী

22

পূরণ হলো না শেষ ইচ্ছা, আসা হলো না চুয়াডাঙ্গার ‘কবরী রোডে’
সমীকরণ প্রতিবেদক:
মরণের আগে একবার হলেও চুয়াডাঙ্গার সেই শুটিং স্পটে আসতে চান। সেই সড়ক আর মেসটি শেষবারের মতো দেখতে চান। কিন্তু চুয়াডাঙ্গায় স্মৃতিবিজড়িত সেই ‘কবরী রোডে’ আর আসা হলো না ঢালিউডের ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরীর। অবশেষে জীবনযুদ্ধে হেরে গেলেন তিনি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনেত্রী। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। শুক্রবার রাত ১২টা ২০মিনিটে রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। কবরীর ছেলে শাকের চিশতী খবরটি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৫ এপ্রিল অভিনেত্রী কবরীর শরীরে করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয়। ওই রাতেই তাঁকে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৭ এপ্রিল রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। এরপর ৮ এপ্রিল দুপুরে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে কবরীর জন্য আইসিইউ পাওয়া যায়। ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষপর্যন্ত তাঁকে লাইফসাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল।
১৯৬৪ সালে ‘সুতরাং’ ছবি দিয়ে চলচ্চিত্রে নাম লেখান কবরী। ছবিটি পরিচালনা করেন সুভাষ দত্ত। এরপর ‘বাহানা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘রংবাজ’, ‘সারেং বউ’, ‘সুজন সখী’সহ অনেক কালজয়ী সিনেমা উপহার দিয়েছেন সারাহ বেগম কবরী। কবরী সরকারি অনুদানের ‘এই তুমি সেই তুমি’ সিনেমা পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি ছবিটির শুটিং শেষ হয়েছে, চলছে সম্পাদনার কাজ। কবরী পরিচালিত প্রথম ছবি ‘আয়না’ মুক্তি পায় ২০০৬ সালে।
এদিকে, ১৯৬৯ সালে চুয়াডাঙ্গায় শুটিং হয়েছিল নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘ক খ গ ঘ ঙ’ ছবির। অভিনয়ের পাশাপাশি ছবিটির সহপ্রযোজকও কবরী। চিত্রগ্রাহক বেবী ইসলামের মামার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় পুরো এক মাস ধরে চলেছিল শুটিং। এখানকার মানুষ কবরীকে এতটাই ভালোবেসেছিল যে চুয়াডাঙ্গার একটি সড়কেরই নাম করেছিল তাঁর নামে ‘কবরী রোড’। যে বাড়িতে তিনি ছিলেন, সেই বাড়িটি এখনো ‘কবরী মেস’ নামে পরিচিত। এর মধ্যে পূর্ণ হয়েছে ৫২ বছর।
এক সাক্ষাৎকারে কবরী জানিয়েছিলেন, মরণের আগে একবার হলেও চুয়াডাঙ্গার সেই শুটিং স্পটে যেতে চান। সেই সড়ক আর মেসটি শেষবারের মতো দেখতে চান। কিন্তু মহামারি করোনাভাইরাস তাঁর সেই ইচ্ছা আর পূরণ হতে দিল না।