করোনাকালীন হজ

29

আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলি
সবাই মূলের দিকে ফিরে যেতে চায়। মানুষের স্বভাবের মধ্যে রয়েছে তার সৃষ্টিসংক্রান্ত কৌতূহল। সে খুঁজে পেতে চায় তার মহান স্র্রষ্টাকে। এর রহস্য পরিপূর্ণ ও খোলাসা করে জানতে রাসূল বা বার্তাবাহক পাঠিয়েছেন আল্লøাহ। তাদের সাথে করে পাঠিয়েছেন আসমানি কিতাব। আসমানি কিতাব মানুষের কৌতূহলের খোরাক জোগায়। সেখানে লিখিত রয়েছে মানুষের মূল পরিচয়। কোথা থেকে সে এসেছে কোথায় সে ফিরে যাবে। লিখিত রয়েছে আল্লাহর ঘরের নাম। কুরআনে এসেছে, ঘরটি মক্কায় অবস্থিত। সেখানে এসেছেন সর্বশেষ নবী হজরত মুহাম্মদ সা:। আল্লøাহ এ পবিত্র ঘরে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মানুষকে। সক্ষম মানুষ যাতে এ ঘরে এসে আল্লøাহর নিদর্শন প্রত্যক্ষ করে। সেই থেকে আবার নতুন করে মাসজিদুল হারামে পালিত হচ্ছে হজ। মহামারী করোনার কারণে মক্কার শাসন কর্তৃপক্ষ এবার বাইরের দেশ থেকে হজযাত্রা বন্ধ রেখেছে। তবে যথানিয়মে হজের আনুষ্ঠানিকতা এবারো পালিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ এবার হজযাত্রী ৬০ হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। সৌদি আরবে অবস্থানরত বিদেশীদের মধ্যে থেকে তাদের বাছাই করা হয়েছে। তারা ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী এবং সুস্থ। একই সাথে তারা কোভিড-১৯ টিকা নিয়েছেন। করোনার আগে প্রতি বছর ২৫ লাখ করে মানুষ হজ করেছেন। সারা বিশ্বের মুসলিমদের মধ্য থেকে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে মক্কায় উপস্থিত হওয়ার আগ্রহ এখনো একই রকম রয়েছে। মহামারী চলে গেলে পুণ্যার্থীদের সংখ্যা আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। হজের এখনকার প্রচলনটি নতুন রূপে শুরু হজরত মুহাম্মদ (সা:)-এর বিদায় হজের মাধ্যমে ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে। এর আগে থেকে মক্কার কাফেররা হজের মাসে সমবেত হতো। সারা বিশ্ব থেকে তখনো সেখানে পুণ্যার্জনের আশায় মানুষ মিলিত হতো। তবে সেই সময় সাধারণত মক্কার বিভিন্ন গোত্র সেখানে আলাদা আলাদা করে জড়ো হয়ে নিজেদের পূর্বপুরুষদের কীর্তি তুলে ধরত। সাধারণত কাব্যের আকারে সমবেত সঙ্গীতে প্রকাশ করা হতো তাদের শৌর্য-বীর্য।
মুহাম্মদ (সা:) ওই সব ব্যক্তিপূজাকে বন্ধের নির্দেশ দেন আল্লøাহর পক্ষ থেকে। সেখানে তিনি স্থাপিত করেন আল্লাহর গুণকীর্তি। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে একজন মুসলিম নিজের ক্ষমা আল্লাহর কাছে চাইবে। এরপর আল্লøাহর প্রশংসা উচ্চকিত করবে। সূরা বাকারার ২০০ আয়াতে বলা হয়েছেÑ ‘তোমরা যেভাবে নিজেদের পূর্বপুরুষদের গৌরব-অহঙ্কার করতে তার চেয়ে বেশি করে আল্লøাহর গৌরব ও বড়ত্ব প্রকাশ করো হজের এ আনুষ্ঠানিকতায়।’ জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১০ তারিখ হজের মৌসুম। এবার সেটি ১৮ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত। গতকাল থেকে মক্কায় হজের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। কুরআনের বাণী অনুযায়ী, হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করলে নিশ্চই তারা আল্লøাহর দয়া ও করুণা পাবেন। এরপর তারা যদি সেখান থেকে ফেরেন সারা জীবন আল্লøাহকে নিজের জীবনে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়ার মাধ্যমে মৃত্যুপরবর্তী জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারবেন।
মক্কাকে আল্লাহ মিলনকেন্দ্র ও নিরাপদ করেছেন। সেখানে মানুষ আসবে, কেউ পবিত্র ঘর ঘিরে তাওয়াফ করবে, কেউ এতেকাফ করবে, কেউ লেগে যাবে রুকু সিজদায়। সূরা বাকারার ১২৫ নম্বর আয়াতে পবিত্র ঘরটির বিশেষত্ব এভাবে তুলে ধরেছেন আল্লøাহ। সুতরাং হজ হয়ে ওঠার কথা মুসলিম উম্মার নির্দেশনার জায়গা। সেখান থেকে উম্মাহর জন্য সমসাময়িক করণীয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। মূলত আল্লøাহর নিদর্শনের কাছে এসে মানুষের অন্তর বিগলিত হবে। তারা আল্লøাহর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নানাভাবে তার প্রকাশ ঘটাবে। একই আয়াতে আল্লøাহ আমাদের জানাচ্ছেন তিনি ইবরাহিম আ: ও তার পুত্র ইসমাঈল আ:কে পবিত্র ঘরে আগমনকারীদের জন্য এ ঘরকে পবিত্র রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ও তার পুত্র অক্ষরে অক্ষরে আল্লøাহর নির্দেশ পালন করেছেন। আল্লøাহর ঘর এবং মক্কার আশপাশে জায়গা ইবরাহিম ও তার পুত্র ইসমাঈলের স্মৃতিবিজড়িত। মক্কায় কেউ এলে সেই নিদর্শনগুলো তার কাছে জেগে ওঠা স্বাভাবিক। আমাদের শিক্ষা হচ্ছেÑ আমরাও আল্লøাহকে পরিপূর্ণভাবে মেনে নেবো। তার আদেশ-নিষেধগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করব।