চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ১১ ডিসেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওমিক্রন প্রতিরোধে টিকায় জোর

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
ডিসেম্বর ১১, ২০২১ ৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ওমিক্রন মোকাবিলায় টিকায় জোর দেয়া হচ্ছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের মতো ওমিক্রন ভয়ঙ্কর নয় তবে দ্রুত ছড়ায় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। তাই টিকায় জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, দেশে টিকার অভাব নেই। সরকারি তথ্যমতে, বিভিন্ন দেশের উপহার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) টিকা সহায়তা প্রকল্প কোভ্যাক্স ও ক্রয় চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় ৩০ কোটি ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে। এসব টিকার চালান আগামী বছরের মধ্যে দেশে এসে পৌঁছবে। এ জন্য আফ্রিকার নয়া ধরন ওমিক্রন মোকাবিলায় সীমান্ত বন্ধের কিংবা লকডাউনের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে ভাইরাস প্রতিরোধে বিদেশ থেকে ফেরা যাত্রীদের স্ক্রিনিং, রোগী শনাক্তরণ পরীক্ষার পরিধি বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন ও বিদেশফেরত যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইন, শনাক্ত রোগীদের চিকিৎসা ও টিকায় জোর দিচ্ছে সরকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনে টিকাদান ও স্বাস্থ্যবিধিতেই জোর দিচ্ছে সরকার। গত ৭ ফেব্রুয়ারি ৫৪তম দেশ হিসেবে টিকাদান শুরু হলেও দীর্ঘ ১০ মাসের বেশি সময়ে মাত্র সাড়ে ২৪ শতাংশ নাগরিক দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন। অথচ সরকার লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করেছে আগামী বছর এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশ নাগরিককে টিকার আওতায় নিয়ে আসবে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের বুস্টার ড়োজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীও আমাদের অনুমতি দিয়েছেন। আমাদের টিকার কোনো ঘাটতি হবে না। দ্রুতই আমরা ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের বুস্টার ডোজ দেয়া শুরু করবো।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান সরকারের এই সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিতম পোষণ করে বলেন, সবার জন্য টিকার ব্যবস্থা না করে বুস্টার ডোজের প্রস্তুতি নেয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ঘরের দরজাতেই ওমিক্রন কড়া নাড়ছে। কাজেই আমরা যদি এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে পারি, পরস্পর পরস্পরকে সহযোগিতা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি, সঠিক উপায়ে নাক-মুখ ঢেকে আমরা যদি মাস্ক পরি, একই সাথে টিকা কার্যক্রমকে যদি আমরা আরো বেগবান করতে সহায়তা করি, তাহলে সেটি ওমিক্রন হোক বা অন্য কোনো ভ্যারিয়েন্ট হোক— তা আমরা যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।

টিকাদানের সর্বশেষ চিত্র : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সাত কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার ২৪৫ জন করোনা টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে সাত কোটি ৩৩ লাখ ৯৪ হাজার ১৯৩ জন, পাসপোর্ট দিয়ে ১১ লাখ সাত হাজার সাতজন এবং জন্মসনদ দিয়ে আরও দুই লাখ ৭১ হাজার ৪৫ জন নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধন শেষে টিকার অপেক্ষায় আছেন আরও ৮৪ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইস বিভাগের তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে ১০ কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার ৭১৯ ডোজ করোনার টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে। তার মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ছয় কোটি ৬২ লাখ ৮৭ হাজার ৩৯৬ জন। আর দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিয়েছে চার কোটি ২০ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৩ জন। এর মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড প্রয়োগ করা হয়েছে এক কোটি ৯৭ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৭ ডোজ।

ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে ৪০ লাখ ৮৫ হাজার ৫৭৭ ডোজ। চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে সাত কোটি ৯১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩৩ ডোজ। আর মডার্নার টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে ৫৩ লাখ ৪০ হাজার ৯৫২ ডোজ। দুই ডোজ টিকা নিয়েছেন মাত্র চার কোটি ২০ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৩ জন। দেশের সর্বশেষ অবস্থা : করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপে দেশে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ২৬৯ জনের দেহে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৮ হাজার ১৭ জনে ঠেকেছে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৯ জন। তার মধ্যে গতকাল সুস্থ হওয়া ২৪৯ জনসহ এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪০ জন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গতকাল মৃত ব্যক্তি একজন নারী। তিনি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এদিকে মৃতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৯২৪ জন পুরুষ (৬৩ দশমিক ৯৮ ভাগ) ও ১০ হাজার ৯৩ জন নারী (৩৬ দশমিক ০২ ভাগ) রয়েছেন। একদিনে শনাক্তের হার এক দশমিক ৩৪ ভাগ। এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ২৫ ভাগ এবং সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৭৮ ভাগ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ ভাগ।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।