ওজিলের পাশে দাঁড়ালেন এরদোগান

342

খেলাধুলা ডেস্ক: রাশিয়া বিশ্বকাপের কিছুদিন আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেফ এরদোগানকে জার্সি উপহার দেন জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল। সেই ছবি প্রকাশ হওয়ার পরই জার্মানি জুড়ে তৈরি হয় বিতর্ক, যার প্রভাব পড়ে বিশ্বকাপেও। প্রথম রাউন্ড থেকে জার্মানি বিদায় নেয়ায় বিশ্বকাপ শেষে ওজিলের সেই ছবি নিয়ে শুরু হয় আরো সমালোচনা। পরে অভিমানে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ওজিল। তার ঘোষণার পরেও সমালোচনা থামেনি। এমন অবস্থায় তার পাশে দাঁড়ালেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেফ এরদোগান। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ওজিলের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। ওর যে মনোভাব ছিল তা পুরোপুরি দেশাত্মবোধক। যে তরুণ কিনা জার্মান জাতীয় দলের সফলতার জন্য ঘাম ঝরিয়েছে, তার প্রতি এমন বর্ণবাদী আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। ওজিল ও তার পরিবারের প্রতি পুরো সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে তুরস্কের ফুটবল ফেডারেশনও। তার প্রতি হওয়া অন্যায় আচরণেরও প্রতিবাদ জানান তারা। এদিকে জার্মানির এই ফুটবলারের সম্মানে তুরস্কে তার নামে একটি রাস্তার নামকরণও করা হয়। শুধু তাই নয়, সেখানে বিশালাকারের দু’টি বিলবোর্ডে ওজিলের প্রতি বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদও জানানো হয়। ওজিলের বাবা মোস্তফা ওজিলের জন্মস্থান তুরস্কে। বাবার দেশ হিসেবে সব সময়ই তুরস্কের প্রতি আলাদা টান রয়েছে ওজিলের। তিনি তা প্রকাশও করেন সব সময়। তুরস্কে এখনো রয়েছে ওজিলদের পুরনো বাড়ি। আর সে কারণে বিশ্বকাপের আগে নিজের শেকড়ে ফিরেছিলেন ওজিল। সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া ক্লাব আর্সেনালের জার্সিও উপহার দিয়েছিলেন সে দেশের প্রেসিডেন্টকে। তবে তখন থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। উত্তর তুরস্কের জংগুলডাক প্রদেশের দেবেরিক জেলায় তার বাবার বাড়ি এলাকাতেই একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে ‘মেসুত ওজিল স্ট্রিট’ নামে। এটি মূল রাস্তা থেকে ওজিলের বাবার জন্মভিটার দিকে চলে গেছে। এই রাস্তার পাশে আগেই জার্মানির জার্সি পরা ওজিলের ছবির একটি বিলবোর্ড ছিল। তবে জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়ার পর সেই ছবি সরিয়ে ফেলেছে স্থানীয় প্রশাসন। এখন সেখানে বসানো হয়েছে প্রেসিডেন্ট এরদোগানের হাতে ওজিলের জার্সি তুলে দেয়ার ছবিযুক্ত একটি বিলবোর্ড।