চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৬ নভেম্বর ২০২১
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এ পর্যন্ত জেলায় ২০৯ জনের মৃত্যু, দেড় মাসে শনাক্ত ২৪ জন, টিকায় ব্যাপক সাড়া

চুয়াডাঙ্গায় কমেছে করোনার সংক্রমণ, স্বাস্থ্যবিধিও উধাও!
নিজস্ব প্রতিবেদক:
নভেম্বর ১৬, ২০২১ ৭:০২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মানুষের বেপরোয়া চলাচল ও আচরণের কারণে ঝুঁকি ফের বাড়তে পারে : স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

চুয়াডাঙ্গায় করোনার সংক্রমণ কমছে। কঠোর বিধি-নিষেধ শিথিলের সঙ্গে সঙ্গে উধাও হয়েছে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি। গণপরিবহন, শপিংমল, দোকান, ফুটপাত, কাঁচাবাজার, বিনোদন কেন্দ্র ও টিকাদান কেন্দ্রসহ সামাজিক দূরত্ব মানছেন না কেউ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাস্ক পরার আগ্রহও দেখা যায় না। সরকারের নির্দেশনা মানা হচ্ছে কিনা, তার কোনো তদারকিও দৃশ্যমান নয়। তবে মানুষের মধ্যে কোভিড টিকা নিতে দৃশ্যমান আগ্রহ দেখা গেছে। গতকাল পর্যন্ত এ জেলায় টিকা নিতে মোট রেজিস্ট্রেশন করেছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ। করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে এলেও সব ক্ষেত্রে মানুষের বেপরোয়া আচরণের কারণে ঝুঁকি ফের বেড়ে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা করছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত এখন মাস্ক ব্যবহারের ওপর তেমন জোর দেয়া চোখে পড়ছে না। মানুষের ভিড়, গাদাগাদি ঠেকাতে কোনো উদ্যোগও নেই। রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নামে চলছে মিছিল, মিটিং, সমাবেশ, মানববন্ধন। এসব কর্মসূচিতে হাজারো মানুষের সমাগম হচ্ছে। মানা হচ্ছে না শারীরিক দূরত্ব। মাস্ক ব্যবহারেও রয়েছে যথেষ্ট অবহেলা। শুধু সভা-সমাবেশই নয়। মার্কেটে-যানবাহনে যেন মানুষ ভুলতে বসেছে স্বাস্থ্যবিধির কথা। দৃশ্য দেখে মনে হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি ছুটিতে গেছে। অথচ উন্নত বিশ্বে করোনা সংক্রমণ একেবারে কমলেও সেখানে স্বাস্থ্যবিধি ঠিকই মানা হচ্ছে। আমাদের দেশে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মানছে না জনগণ। আদতে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে মানুষের চরম গাফিলতি দেখা যাচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, চুয়াডাঙ্গায় করোনার সংক্রমণ এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। গত সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে গতকাল পর্যন্ত দেড় মাসে এ জেলায় মাত্র ২৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এসময় করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছে ৮২২ জন। চুয়াডাঙ্গায় সর্বশেষ সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখ করোনা আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে গতকাল পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আর কারও মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, এ পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গায় মোট নমুনা সংগ্রহ ২৮ হাজার ৮৩০টি, প্রাপ্ত ফলাফল ৩১ হাজার ১৭১টি (পিসিআর ও র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন), পজিটিভ ৬ হাজার ৯১১ জন। জেলায় বর্তমানে ১২ জন হোম আইসোলেশন রয়েছে। জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ২০৯ জনের। এর মধ্যে জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলার হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে মৃত্যু হয়েছে ১৮৯ জনের। এছাড়া চুয়াডাঙ্গায় আক্রান্ত অন্য ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে জেলার বাইরে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. এ এস এম ফাতেহ আকরাম বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় হাসপাতালে কোভিড রোগীর চাপ কমেছে। বর্তমানে হাসপাতালের আইসোলেশনে কোনো রোগী চিকিৎসাধীন নেই। করোনা সংক্রমণ কমে যাওয়ায় সবকিছুই যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি খুব ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। মানুষ উদাসীনভাবে চলাফেরা করছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মাস্ক পড়ে ঠিকই ক্লাস করছেন। কিন্তু বাইরে অভিভাবকরা স্বাস্থ্যবিধির কোনো রকম তোয়াক্কা করছে না। তারা জটলা বেঁধে আড্ডা দিচ্ছেন। করোনার মহামারিকালে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এই চিকিৎসা কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সবাইকে মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হবে। মানুষ ভাবছে এখন সংক্রমণ নাই, সংক্রমণ বাড়লে আবার মাস্ক পড়বো, ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুবো। এই মনোভাব খারাপ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।’

চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ডা. এ এস এম মারুফ হাসান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় করোনা সংক্রমণ এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। করোনা সংক্রমণ কমে গেলেও সবাইকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বর্তমানে আমাদের পজিটিভি রেট প্রায় শূন্য। এ জেলায় কোনো দিন একজন বা কখনো সপ্তাহে মাত্র একজন করে করোনা সংক্রমণ ধরা পরছে। তার মানে এই নয় যে, কোভিড চলে গেছে। আমরা খেয়াল করেছি, বেশিরভাগ মানুষ এখন আর মাস্ক পরছেন না। তবে টিকা নিতে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দিকে কোভিড টিকা নিতে মানুষের মধ্যে অনিহা দেখা গেছে। তবে বর্তমানে গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সকল স্তরের মানুষের মধ্যে টিকা নিতে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এ জেলায় কোভিড টিকার যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, আমরা সে লক্ষ্যমাত্রার খুব নিকটে পৌঁছে গেছি।

তিনি আরও বলেন, যারা মাস্ক পরছেন না, তাদের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে, বর্তমানে লকডাউন নেই, বিধি-নিষেধেরও অনেক কিছু নেই। আপনারা অনেকে অনেক অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন, বিভিন্ন স্থানে বেড়াতে যাচ্ছেন-যেখানেই যান না কেন স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলুন। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহার করুন। প্রত্যেকে সঠিকভাবে মাস্ক পরুন। তাহলেই অনেক সেফটি পেয়ে যাবেন। দু’দিক থেকে যদি আমরা মাস্ক পরতে পারি, ওয়ান টু ওয়ান তাহলে কিন্তু ৯৬ ভাগ সম্ভাবনা থাকবে একজন থেকে আরেকজন না যাওয়ার। যদি একজন মাস্ক পরেন এবং আরেকজন খুলে রাখেন তাহলে কিন্তু সম্ভাবনা ধীরে ধীরে বেড়ে যাবে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।