চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২৮ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এ দেশের মানুষ আমার সব থেকে বড় শক্তি : প্রধানমন্ত্রী

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ২৮, ২০২২ ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: বিশ্ব ব্যাংক ও উন্নয়ন সহযোগীরা অর্থায়ন বন্ধ করার পরও দেশের মানুষ পাশে থাকার কারণে সরকার পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে পেরেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার সব থেকে বড় শক্তি হচ্ছে দেশের মানুষ। তাদের সাহস, সহযোগিতা ও পাশে থাকায় নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি।’ গতকাল সোমবার বন্যার্তদের সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে দেশের ৪১টি ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক ও ৩টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩০৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা অনুদান দেয়।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করার ঘোষণার পর ব্যবসায়ীদেরও পাশে পেয়েছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন আপনারা (ব্যবসায়ী) অনেকই আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমাকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি দেশবাসী আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।’ ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক হলেই আপনারা নিজ উদ্যোগে এগিয়ে আসেন এবং আর্তমানবতার সেবায় পদক্ষেপ নেন এবং তাদের জন্য কিছু করেন। এটা বিরাট মানবিক গুণ।’ পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মানুষের আর্থিক উন্নয়ন হবে। আপনাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমি মনে করি, ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যাবে।’

রেল, নৌপথ ও সড়কপথে যোগাযোগ নিরবচ্ছিন্ন করতে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যোগাযোগ আমাদের উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে গতিশীল করতে সুযোগ সৃষ্টি করে।’ সরকারের প্রচেষ্টা দেশের দারিদ্র্যবিমোচন ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে উন্নত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া; যাতে বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বের দরবারে এ দেশের মানুষ মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে চলতে পারে।’ ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কথা উলেস্নখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘যত্রতত্র শিল্প না, আমরা পরিবেশ-প্রতিবেশের দিকে দৃষ্টি রেখে সব রকমের সুযোগ রেখে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি। উন্নয়নও করতে হবে, পাশাপাশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাও দিতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয় এবং কৃষিজমি রক্ষার দিকে লক্ষ্য রেখে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি।’

খাদ্য নিরাপত্তা, শতভাগ বিদ্যুতায়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় বলা হতো বাংলাদেশে গ্যাস বাড়ছে। প্রকৃতপক্ষে তা নেই, তারপরও আমরা আমাদের অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছি। এলএনজি আমদানি করে শিল্প কারখানা চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টার মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেই সঙ্গে বন্যা। সমস্যা আসবেই। সেটা মোকাবিলা করে আমাদের চলতে হবে।’ মানুষের জীবনযাত্রা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে সরকার খেয়াল রাখে জানিয়ে বঙ্গবন্ধু-কন্যা বলেন, ‘প্রকৃতি তার আপন খেয়ালে চলে। এতে মানুষের কোনো হাত থাকে না। সিলেট বিভাগে পর পর তিনবার বন্যা হয়। হাওড় অঞ্চলে আমাদের কিছু ফসলও নষ্ট হয়েছে। পানিটা নেমে আসার সময় নেত্রকোনা থেকে শুরু করে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা পস্নাবিত হয়েছে। বৃষ্টি কম হওয়ায় এখন মানুষের দুর্ভোগ কম। কিন্তু মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটসহ ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।