এ আয়োজন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা জাগাবে

24

চুয়াডাঙ্গায় হোটেল সাহিদ প্যালেসে উদ্যোক্তা মেলায় ডিসি নজরুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার বলেছেন, সরকারিভাবে উদ্যোক্তা তৈরির জন্য প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। শুধু প্রশিক্ষণ দিয়েই আমরা থেমে থাকছি না, আমরা কীভাবে তাঁদের সফল করা যায়, সে চিন্তা-ভাবনা করছি। আমরা তাঁদের ব্যাংক লোন থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছি। একাধিকবার ব্যাংকগুলো থেকে তাঁদের সহযোগিতা করেছি। ইতোমধ্যে ৩২৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে ১৮৩ জন এখন সফল উদ্যোক্তা। এ আয়োজন উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা জাগাবে।’
গতকাল সোমবার সকালে ‘চুয়াডাঙ্গা উদ্যোক্তা মেলা-২০২১’ এর দ্বিতীয় দিনে এসব কথা বলেন তিনি। উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনী নিয়ে প্রথমবারের চুয়াডাঙ্গায় এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ মেলার আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি শেষ দিন। চুয়াডাঙ্গার তিন তারকা মানের হোটেল সাহিদ প্যালেসের র‌্যাফেল কনভেনশন হল অ্যান্ড কমিউনিটি সেন্টারে এ মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ মেলায় মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে ‘দৈনিক সময়ের সমীকরণ’।
মেলায় জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার আরও বলেন, ‘বেশির ভাগই নারী উদ্যোক্তা। এক সময় যে নারীরা ঘরে বন্দি থাকত, আজ তারা পুরুষের পাশাপাশি কাজ করছে। এখন অর্থনীতিতে তাঁদের অবদান সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা পাওয়া। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগের একটি হচ্ছে নারীর ক্ষমতায়ন। অর্থনৈতিকভাবে নারীদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিভিন্ন চাকরিতে নারীর কোটা দেওয়া হয়েছে। এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে নারীদের অবস্থান আছে। আপনারা অনলাইন ব্যবসা করছেন। সেটা খুব ভালো উদ্যোগ। অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক সময় অভিযোগ আছে, পণ্যের মান ভালো হয় না। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে পণ্যের মান যেন ভালো হয়। সততার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করবেন। সরকারিভাবে মেলা করলে অন্তত হাজারখানী উদ্যোক্তা পাব। আমি চেষ্টা করব চুয়াডাঙ্গা সরকারিভাবে একটা উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করার জন্য।’
এদিকে, মেলার দ্বিতীয় দিনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় ছিল। প্রত্যেকটি স্টলেরই বিক্রি বেশ ভালো বলেই জানা গেছে। এই মেলায় অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তার অংশগ্রহণে রয়েছে ৩২টি স্টল। সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে রাত ১০টা পর্যন্ত চলছে এ মেলা। মেলায় বুটিক বাটিক, হ্যান্ডি ক্রাফট, শাড়ি, তৈরি পোশাক, কেক, চকলেট, চুড়ি, প্রসাধনী, বই, আসবাবপত্র, খেলানাসহ বিভিন্ন পণ্য-সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। নারীদের গহনা, থ্রি-পিচ, বিভিন্ন বয়সীদের পোশাক, শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন সামগ্রী সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পিঠাসহ বিভিন্ন ধরণের খাবার ও নারী উদ্যোক্তাদের হাতের তৈরি পণ্য বিক্রি হচ্ছে। মেলার প্রথম দিনের তুলনায় ২য় দিনে তুলনামূলক বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মেলায় সকল পণ্যের ওপর ৫-২০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। পণ্য কিনলেই দেওয়া হচ্ছে লাকি কুপন। শেষ দিন লটারির মাধ্যমে ওই লাকি কুপনের ড্র অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও মেলায় সব উদ্যোক্তাদের ভিড়ে এক ভিন্ন রকম স্টল পাওয়া গেছে। হাবিবি জহির রায়হান স্টলটি দিয়েছেন। তাঁর লেখা ‘চায়ের দোকানের টক-শো’ বইটি পাওয়া যাচ্ছে এ স্টলে। শত রকম পশরার ভিড়ে বইয়ের স্টল এক ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে বইপ্রেমী দর্শনার্থীদের মনে। গতকাল মেলায় গিয়ে এ স্টলে বসে লেখক হাবিবি জহির রায়হান ও কাজল মাহমুদের সঙ্গে আড্ডা দেন দৈনিক সময়ের সমীকরণ-এর বার্তা সম্পাদক হুসাইন মালিক। পরে তিনি স্টল থেকে একটি বই ক্রয় করেন।


উদ্যোক্তা মেলার প্রধান আয়োজক মেরিনা জামান মমি জানান, ‘করোনাকালে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা খুব খারাপ সময় পার করেছে। এই মেলার মাধ্যমে তারা আবার হারানো বাজার ধরতে পারবে। চুয়াডাঙ্গা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের একটা প্লাটফর্মে নিয়ে আসাই আমার মূল উদ্দেশ্য।’ তিনি জানান, ‘এই মেলার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা তাদের তৈরি পণ্যের পরিচিতি বাড়াতে পারবে। পণ্য বিক্রি করে স্বাবলম্বীও হতে পারবে। মেলাটি সবার জন্য উন্মুক্ত। মেলায় প্রবেশ করতে কোনো অতিরিক্ত ফি লাগবে না।’ উদ্যোক্তা মেলায় ভালো সাড়া মিলছে বলে জানান উদ্যোক্তারা। মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তা টিনা আগারওয়াল জানান, ‘আসলে চুয়াডাঙ্গায় এই প্রথম এমন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রথম এবং দ্বিতীয় দিনেই অনেক সাড়া মিলছে ক্রেতাদের। বেশ বিক্রিও হচ্ছে পণ্য। অনেকেই সময় বাড়ানোর জন্য বলছেন। তবে আমি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করতে চাচ্ছি।’
মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলো হলো- দ্যা কেক গ্যালারী, ঝিলিক গ্লামার ওয়ার্ল্ড, নূরে হুর, ঝোলা ঝিউরি, তুবা কেয়ার, দ্যা হাঙ্গার প্লেস, ক্লথিং রাক, খাটি, নভো ফ্যাশন, টেস্টি পিচেস, ব্লাক বার্ডস, দ্যা কেক হাউজ, রোডো হ্যান্ডিক্রাটস, কারারস বিউটি পার্লার, মেহেদী বাই এভিনি, টেস্ট অব দ্য টাউন, এপ্লিক বুটিক হাউজ, বেস্ট কালেকশন, সেতু হার্ডওয়ার, ডাঙ্গা, সুমি বুটিকস, ইমা বুটিকস, এক্সিল্যান্ট ওয়ার্ল্ড, বুটিক কর্নার, ইমা বুটিক, সুমি বুটিক, মাই লিটিল শপ, নিসা পুথি জুয়েলারী, বিশ্বাস কেরাম বোর্ড, ওম্যানস বাই লিজা ও এনআর ফ্যাশনবিডি। এই আয়োজনে কেক স্পন্সর হিসেবে আছে, দ্যা কে হাউজ, সিস্টারস কিচেন। ডেজার্ট স্পন্সর হিসেবে থাকছে কুটুম। ফটোগ্রাফি স্পন্সর হিসেবে আছে স্টুডিও আলোছায়া। স্পন্সরশিপে আরও আছে জাকির মটরস। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আরও আছে দৈনিক মাথাভাঙ্গা, দৈনিক আকাশ খবর, রেডিও কণ্ঠসহ বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রুপ স্পন্সর হিসেবে আছে এনগেজমেন্ট পার্টনার, নেটওয়ার্ট চুয়াডাঙ্গা, আমাদের চুয়াডাঙ্গা, তারুণ্যের চুয়াডাঙ্গা, ড্রিম জোন, সিডি’স কুইন।