এমপি লিটন হত্যাকা-ে বিক্ষোভে উত্তাল গাইবান্ধা ২ মোটরসাইকেলে এসেছিল ৫ ঘাতক: সকাল-সন্ধ্যা হরতাল, ট্রেন অবরোধ

301

image_1768_271419

সমীকরণ ডেস্ক: গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকা-ের ঘটনায় ক্ষোভে উত্তাল গাইবান্ধা। এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদে গতকাল স্থানীয়ভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। ঘটনায় দায়ীদের ধরতে এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এদিকে গতকাল ময়নাতদন্ত শেষে এমপি লিটনের লাশ ঢাকায় আনা হয়েছে। সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে গাইবান্ধায় লাশ নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে দাফন করা হবে। এমপি হত্যার প্রতিবাদে গতকাল সকাল ৬টা থেকে দিনব্যাপী হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও ট্রেন আটকিয়ে রেল যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। এছাড়া, তারা কালোব্যাজ ধারণ করে পথসভা অব্যাহত রেখেছেন। হরতাল চলাকালে উপজেলার সর্বত্র হাট-বাজারের দোকানপাট, মিল-কারখানা, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা বন্ধ ছিল। সর্বত্রই কালো পতাকা ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে শোক পালন করছেন তারা। হরতাল চলাকালে কোনো প্রকার যানবাহন এমনকি দূরপাল্লার কোনো পরিবহন ছেড়ে যায়নি। এতে করে উপজেলার সঙ্গে দেশের সকল প্রকার যান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা সকাল থেকে বামনডাঙ্গা স্টেশনে লালমনিরহাট-শান্তাহারগামী ট্রেনটি অবরোধ করে রেলযোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। উপজেলার সর্বত্রই আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি  টহল অব্যাহত রাখে। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিয়ার রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ১৮  জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ওদিকে রাতে এমপি লিটনের ছোট বোন তাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামী করে সুন্দরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
যেভাবে গুলি করে এমপিকে হত্যা: ঘটনার সময় এমপি লিটনের বাড়ির উঠানে ক্রিকেট খেলারত সপ্তম শ্রেণির ছাত্র সাইফুল ইসলাম জানায়, দুটি মোটর সাইকেলযোগে আগত ৫ জন বহিরাগত যুবক এমপি লিটনের সঙ্গে দেখা করার অজুহাতে বিকাল ৪টা থেকে তার বাড়ির বাইরের উঠান ও সামনের রেললাইন দিয়ে ঘোরাফেরা করছিল। কিন্তু তাদের খেলা চলাকালে যুবকরা এমপি লিটনের সঙ্গে দেখা করার জন্য কালক্ষেপণ করে। আস্তে আস্তে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে ওই যুবকরা ক্রিকেট খেলোয়াড়দের খেলা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য শাসায়। তারা যুবকদের শাসানোয় ভয় না পেয়ে খোলা অব্যাহত রাখার একপর্যায়ে দেখতে পায় রেললাইনে অবস্থানরত বহিরাগত দু’যুবক মোবাইলফোনে কার সঙ্গে যেন কথা বলছিল। কথা বলা শেষে যুবকদ্বয় এমপি লিটনের বাহির উঠানে অবস্থান নিলে পূর্ব থেকে অবস্থানরত ৩ যুবক এমপিকে কথা বলার অজুহাতে তার অতিথি কক্ষে ডেকে নিয়ে আকস্মিকভাবে পরপর ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে এবং দ্রুত মোটরসাইকেলযোগে স্থান ত্যাগ করে।
এমপি’র বাড়ির সামনে দিয়ে চলমান রেললাইনে কর্মরত শ্রমিক মাহির ও আনারুল ইসলাম জানান, গুলির শব্দ পেয়ে তারা ভীত হয়ে পড়েন। তারা দেখতে পান এমপি’র বাড়ি থেকে এক মোটরসাইকেলে মুখোশধারী ৩ যুবক দ্রুত তাদের পাশ দিয়ে কোমরে পিস্তল ঝুলিয়ে চলে যায়। এদিকে গত শনিবার রাতেই পুলিশের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার পর থেকে এমপি লিটনের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন করে অতিথি কক্ষটি (যে কক্ষে এমপিকে গুলি করা হয়) কর্ডন করে রেখেছে।   অপরদিকে থানা অফিসার ইনচার্জ আতিয়ার রহমান জানান, গত শনিবার রাতে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি যৌথ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে হত্যাকা-ের সঙ্গে  জড়িত সন্দেহে ১৮ জনকে আটক করেছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। এমপিকে হত্যার ঘটনায় সুন্দরগঞ্জ চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানোসহ আজ সোমবার সকল ইউপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুন্দরগঞ্জ চেয়ারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম লেবু। অন্যদিকে পৌর আওয়ামী লীগ ৩ দিনের শোকসহ বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।