চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে স্থবিরতা ও অস্বচ্ছতা কাম্য নয়

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২৩, ২০১৭ ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মান্থলি পে-অর্ডার তথা এমপিওভুক্তির আশায় ঝুলে রয়েছে। সাড়ে ৫ হাজার প্রতিষ্ঠানের ৭৫ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, সরকার ২০১০ সালে সর্বশেষ এক হাজার ৬২৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছিলো। এর আগে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম বন্ধ ছিল ছয় বছর। এদিকে ২০১৩ সাল হতে নূতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের সময় শর্ত জুড়ে দেওয়া হইছে যে, এমপিও সুবিধা দাবি করা যাবে না। আবার, ২০১১ সালে এক হাজার বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা এমপিওভুক্তি করবার ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
শিক্ষক সংগঠনগুলির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সালে এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল আট হাজার। আর শিক্ষক এক লক্ষ ২০ হাজার। কিন্তু আর্থিক সুবিধা না পাইবার কারণে গত সাত বছরে বন্ধ হয়ে গিয়েছে দুই সহ¯্রাধিক স্কুল। জানা যায়, এমপিওভুক্ত হবার জন্য যেইসকল শর্ত রয়েছে, তার সবই পূরণ করা আছে পাঁচ হাজার ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের। তা সত্ত্বেও এমপিওভুক্তি না হওয়ায় এইসকল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৭৫ হাজারের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী ভুগছেন চরম হতাশায়। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যমতে, শিক্ষামন্ত্রীও মনে করেন যে, এমপিওভুক্তির অবশ্যই প্রয়োজন রয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে যারা এমপিওভুক্তির যোগ্য। কিন্তু অর্থ সংকটের কারণে এই কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। জানা যায়, চলতি অর্থবছরের পরিকল্পনার মধ্যে নূতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কথা থাকিলেও এর জন্য বাজেটে কোনো বরাদ্দ নেই। প্রশ্ন উঠতে পারে যে, সরকার আর কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আর কত শিক্ষককে এমপিওভুক্ত করবেন? প্রকৃতপক্ষে এমপিও প্রদানের মাধ্যমে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের উদ্যোগকেই ত্বরান্বিত করে থাকে। সাধারণত এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই জাতীয়করণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার লাভ করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানগুলি প্রথমে ব্যক্তি বা জনগণের চাঁদা বা অনুদানের ভিত্তিতে গড়ে উঠলেও একটা পর্যায়ে ভবন নির্মাণ হতে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষকদের এমপিও প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারি অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়। দেশে ২৭ সহ¯্রাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত। জনসংখ্যার বিবেচনায় এই সংখ্যা কম নয়, কিন্তু মুশকিল হলো প্রায় সবসময়ই রাজনৈতিক বিবেচনায় এমপিওভুক্তি দেওয়া হয়েছে। স্থান নির্বাচনের সময় প্রকৃত প্রয়োজনের চাইতে ব্যক্তির ইচ্ছা-অনিচ্ছাই প্রাধান্য পাই বহু ক্ষেত্রে। ফলে বিগত এক দশকে এমন বহু এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্যই, কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীর সংখ্যা শিক্ষকের চাইতেও কম দেখা যায়। অথচ অনেক জায়গায় প্রয়োজনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকবার কারণে বিপুল সংখ্যক সম্ভাবনাময় ছেলেমেয়ের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঁচ হাজার ৫৯০টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রযেছে, যেইগুলি প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা না করে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আবার প্রয়োজনীয় স্থানে তিন হাজার ৭০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়নি। শুধু এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নূতন শিক্ষকের এমপিওভুক্তি নহে, সারা বছরই কমবেশি নূতন নূতন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও এমপিওভুক্তি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। আর এইক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা নই, প্রাধান্য দিতে হইবে প্রকৃত এমপিওভুক্তির দাবিদার প্রতিষ্ঠানকে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।