চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৫ অক্টোবর ২০২১

এনজিও দেড় কোটি টাকা নিয়ে উধাও!

সমীকরণ প্রতিবেদন
অক্টোবর ১৫, ২০২১ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় মাত্র পাঁচ দিনেই সহস্রাধিক গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন পালিয়েছে। ‘সিরাক বাংলাদেশ’ নামের এ সংস্থা ঋণ দেয়ার অজুহাতে লাখ টাকায় ১০ হাজার করে ‘সঞ্চয় আদায়’ উঠায় তাদের কাছ থেকে। এরপর নিজ অফিসে তালা দিয়ে তারা পলায়ন করেছে বলে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শৈলকুপা সংবাদদাতার পাঠানো প্রতিবেদনে আরো বলা হয় যে, স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুসারে ‘সিরাক বাংলাদেশ’ অনিবন্ধিত হয়েও কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। অথচ কেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন নীরব ছিল, এর কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ জানা যায়নি।
জানা গেছে, শৈলকুপা পৌরসভার কবিরপুর এলাকায় ‘সিরাক বাংলাদেশ’ সাইনবোর্ডসহ অফিস চালু করেছিল গত ২৫ সেপ্টেম্বর। পয়লা অক্টোবর তারা কথিত ঋণদানের ঘোষণা দিয়ে এর ১০ ভাগ টাকা আদায় করেছে। সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা বলেছেন, তারা ঋণ লাভের আশায় ওদের বেশ কয়েক হাজার টাকা দিয়েছেন সরল মনে। অভিযুক্ত সংস্থাটির কর্মকর্তারা গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়ে এ টাকা সংগ্রহ করেছেন। আর গ্রাহক সাধারণ সাইনবোর্ডধারী অফিস, যা সাজানো-গোছানো, তা দেখে এদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তারা পাঁচ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত এনজিওটিকে দিয়েছেন। আর এখন সে টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় এবং ঋণের সব আশা বাদ দিয়ে প্রত্যহ ভিড় করতে হচ্ছে এনজিওটার তালা মারা কথিত অফিসের সামনে। সাংবাদিকরা সরেজমিন দেখে এসেছেন, শৈলকুপা শহরে সিটি কলেজ রোডে একতলা একটা বাড়ির তালাবদ্ধ প্রধান গেটের সামনেই সে সাইনবোর্ড। এতে লেখা: ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সিরাক বাংলাদেশ, ক্ষুদ্র ঋণদান ও কুটির শিল্প প্রকল্প।’ ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশায় এনজিওকে টাকা দিয়ে সেখানে বহু লোক এখন ঘুরছেন।
ভুক্তভোগীদের একজন জানালেন, তিনি স্ত্রীর নামে দুুই লাখ টাকা ঋণ পাওয়ার আশায় ২০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। ৩০ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির জনৈক কর্মকর্তা তার বাড়িয়ে গিয়ে এ টাকা নিয়ে আসেন। আরেকজন তার স্ত্রীর নামে বই খুলে জমা দিয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা। কারণ তিনি অর্ধলাখ টাকা ঋণ পাওয়ার প্রত্যাশী। কেউবা ওদের টাকা দিলেন ‘বিকাশ’-এর মাধ্যমে।
এ দিকে আলোচিত ‘সিরাক বাংলাদেশ’ কার্যালয়ের পাশের বাসিন্দাদের একজন জানান, এদের অফিস যে বাড়িতে, এর মালিক গ্রিসপ্রবাসী। তার স্ত্রী থাকেন জেলা সদরে। তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাসা ভাড়া নিতে চেয়েছেন। কিন্তু তারা বাসাটি ‘দেখা’র নামে কয়েকটা চেয়ার টেবিল নিয়ে যান সেখানে। তারা জানিয়েছিলেন, সপ্তাহ খানেকের মধ্যে অগ্রিম অর্থ দিয়ে ভাড়ার চুক্তি করবেন। ইতোমধ্যে হঠাৎ সংস্থার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়। ওই প্রতিবেশী আরো জানিয়েছেন, পয়লা অক্টোবর থেকে ‘আর ভাড়া করা হবে না’ জানিয়ে তার কাছে বাসার চাবি দিয়ে এনজিওর লোকজন বিদায় নেয়। এ পড়শি নিজেও মেয়ের নামে দেড় লাখ টাকা ঋণ পেতে এর ১০ শতাংশ জমা দিয়েছেন। এলাকার এক ব্যক্তির দাবি, সংস্থাটির কর্মকর্তারা তেমন পরিচিত নন। বেশির ভাগ সময় তারা অফিসেই থাকতেন। এখন তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ বলে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। অপর দিকে, মালিকের স্ত্রী বলেন, ‘তিনি নিজে অসুস্থ। বাসা ভাড়ার কোনো চুক্তি হয়নি এবং ফোনে কথা হয়েছে মাত্র।’ চাবি নিয়ে তালা খুলে সে বাসায় চেয়ার টেবিল তোলার বিষয়ে তিনি জানেন না বলে তার দাবি।
জেলা সমাজসেবা অধিদফতর বলেছে, ‘এরা নিবন্ধন নেয়নি কিংবা তাদের স্থানীয় অফিসের ব্যাপারেও জানা নেই।’ আর থানার ওসি বলেন, ‘কেউ অভিযোগ করেনি। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব।’ তবে তারা এ প্রতারণার বিষয়ে জেনে স্ব-উদ্যোগে কিছু করবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
এ অবস্থায় করণীয় হচ্ছে, অবিলম্বে দেশের সর্বত্র প্রতারণা উচ্ছেদে কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। অন্যথায়, এটা চলতেই থাকবে রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।