এতো অল্প সময়ে এতো বেশি সংখ্যক গাছ লাগানোর নজির নেই বাংলাদেশে, হয়তো নেই পৃথিবীতেও : চুয়াডাঙ্গার এই আয়োজনটিই হতে পারে বিশ্ব রেকর্ড

888

জেলা প্রশাসকের আহ্বানে মাত্র এক ঘন্টায় সাড়ে ৭ লাখ গাছের চারা রোপন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন চুয়াডাঙ্গাবাসী

সমীকরণ ডেস্ক: ‘সবুজ চুয়াডাঙ্গা, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ৫ লাখ ২৫ হাজার গাছের চারা ও ২ লাখ ২৫হাজার তালবীজ সকলের হাতে হাতে। ঠিক দুপুর ১২টা বাজতেই শুরু হলো বৃক্ষ রোপণের মহাযজ্ঞ। রাস্তা-ঘাট, অলি-গলি, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির, কবরস্থান-শ্বশানঘাট, মাঠ-ঘাট, পুকুরপাড় সর্বত্রই শুধু গাছ আর গাছ। এবারই প্রথম চুয়াডাঙ্গা জেলার সকল উপজেলা, পৌরসভা ও গ্রামে একযোগে সাড়ে সাত লাখ গাছের চারা ও তালবীজ রোপণ করা হলো। এ কার্যক্রম হয়তো বিশ্বব্যাপিও প্রথম হতে পারে। যা রীতিমত গিনেস বুকে জায়গা করে নিতে পারার মত। তবে প্রচার প্রচারণা নয়; শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থেই মহতি এ কাজের উদ্যোগ নিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। তবে তাঁর এ উদ্যোগ প্রথমে স্বল্প পরিসরে করার চিন্তা ভাবনা থাকলেও পরবর্তীতে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য আহ্বান করলে স্বতস্ফুর্ত সমর্থনে তা পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক আন্দোলনে রুপ নেয়। গতকাল শনিবার ৯ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদরের শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের দোয়ারপাড়া মাঠে উপস্থিত হয়ে নিজ হাতে একটি মেহগনি চারা লাগিয়ে বেলা ১২টা ১মিনিট হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত একযোগে বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এ কর্মসূচীর মূল উদ্যোক্তা চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ। বৃক্ষরোপনের মহোৎসবে অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার নিজাম উদ্দীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার ফরহাদ আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃণাল কান্তি দে, বন বিভাগ কর্মকর্তা শামসুল হক, পরিবেশবাদী সংগঠন স্বাধীন জীবনের নির্বাহী পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক নাছিমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ ও দেড় শতাধিক সাধারণ মানুষ সকলেই একটি করে গাছের চারা ও রাস্তার পাশে তালবীজ বপণ করেন।
জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমার আহ্বানে জেলা স্বতস্ফুর্তভারে যে সাড়া দিয়েছেন এতে আমি অভিভূত। সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এসেছেন আমাকে সহযোগিতা করার জন্য। এ থেকে বোঝা যায় ভালো উদ্যোগ কখনই বিফলে যায় না। আজ চুয়াডাঙ্গা জেলাবাসী যে সাড়ে সাত লাখ গাছের চারা ও তালবীজ রোপণ করলেন, অচিরেই তার সুফল ভোগ করবে পরবর্তি প্রজন্ম। গাছ লাগিয়েছেন যিনি, মালিক হবেন তিনিই।’ জেলা প্রশাসক আরো জানান, এ উদ্যোগ সফল করতে আমাদের কারো কাছে হাত পাততে হয়নি। স্ব স্ব ইউপি ও পৌরসভার রাজস্ব তহবিল হতে বৃক্ষ রোপন প্রকল্পের অর্থ দিয়ে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, যশোরসহ দেশের ৪৬টি স্থান হতে ৫ লাখ ২৫ হাজারটি ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা এবং বিভিন্ন স্থান থেকে ২ লাখ ২৫ হাজারটি তালবীজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সংখ্যা নির্ধারণের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সাড়ে ৭ কোটি বাঙালী প্রাণ সংশয়ে ছিল। তার মধ্যে থেকে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে বাঙালীর স্বাধীনতা অর্জিত হয়। সেই সংখ্যাটিকে প্রতিকী হিসেবে নিয়ে বৃক্ষরোপণের সাড়ে ৭ লাখ সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
পুলিশ সুপার মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘বর্তমানে মানুষ নানাভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট জমির ২৫ ভাগ বনভুমি থাকা দরকার। এজন্য আজ যে গাছের চারা রোপণ করা হলো তা যতœ করে রক্ষা করা গেলে এ অঞ্চলের পরিবেশ সুজলা সুফলা শস্য শ্যামল হয়ে উঠবে।’ পৌর সভার বেলগাছি রেলগেট এলাকায় বৃক্ষ রোপনকালে পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা শহর, গ্রাম, রাস্তা-ঘাটে সবখানে সবার হাতে গাছের চারা। সবার মাঝে উৎসবের আমেজ। এ এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা। পৃথিবীর কোথাও এ ধরণের আছে কিনা আমার জানা নেই।’ এদিকে চুয়াডাঙ্গা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা ও তালবীজ তুলে দেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পৌর মেয়র ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ এর উদ্যোগে একযোগে একই সময়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন স্থানে একসাথে সাড়ে সাত লক্ষ বৃক্ষ রোপন করার একটি অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপুর নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জানিফের নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা সরকারী কলেজ ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গাছের চারা রোপন করেছে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরীফ হোসেন দুদু, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হুসাইন জ্যাকি, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাঈম পারভেজ সজল, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাফিজুর রহমান মাফি, দপ্তর সম্পাদক শেখ সামী তাপু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য গাজী এমদাদুল হক সজল।
অপরদিকে, চুয়াডাঙ্গা সিনিয়র ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২ টা ১ মিনিটে গাছের চারা রোপন কাজ শুরু করা হয়। সারা মাদ্রাসার আঙ্গিনায় মোট ৩৭টি গাছের চারা রোপন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ৩৮০ টি চারা বিতরন করা হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর মোহাম্মদ আলী জান্নাতসহ শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
আলমডাঙ্গা অফিস জানিয়েছে, আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। বৃক্ষরোপণ উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হেলাল উদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাদ জাহান। আলমডাঙ্গা উপজেলা চত্তরে পৌর এলাকায় ও ১৫টি ইউনিয়নে পতিত জমিতে একযোগে ১ লক্ষ ৯০ হাজার ফলজ ও বনজ এবং ৫০ হাজার তাল গাছের বীজ রোপন করা হয়। এই বৃক্ষ রোপন অভিজানে উপজেলার প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, স্থানীয় সুধীজন, উপজেলার দপ্তর প্রধানগণ, ইউপি চেয়ারম্যান বৃন্দ, সাংবাদিকগণ অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান খালেদুর রহমান অরুন, একাডেমিক সুপারভাইজার ইমরূল হক, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল বারী, সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহরিয়ার কবির, উপজেলা ফরেষ্টার আব্দুল হামিদ, সমাজসেবা অফিসার আবু তালেব, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল কুমার পাল, প্রাণী সম্পদ অফিসার আব্দুলাহিল কাফি। শিক্ষকগনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হারেজ উদ্দিন, আনিসুজ্জামান, আলী কদর, রওশন আরা, সমীর কুমার সাহা, রাম কুমার সাহা, হাসিনুর রহমান, নজরূল ইসলাম, সহিদুল আলম, মাজেদুর রহমান প্রমূখ।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের উদ্যোগে আলমডাঙ্গা জেলা পরিষদ ডাকবাংলা চত্বরে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপন করা হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষ রোপন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সেখ সামসুল আবেদীন খোকন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সহধর্মীনি মিসেস কাওসার জাহান, জেলা পরিষদ সদস্য মাফলুকাতুর রহমান সাজু, জেলা কৃষকলীগের ঋণ ও পুর্ণবাসন সম্পাদক ইলিয়াস স্বপন, অর্থ সম্পাদক ওসমান গণি বিস্কুট, সহ-দপ্তর সম্পাদক শেখ কামরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা নেছার আহমেদ প্রিন্স, জেহালা ইউপি সদস্য হিরালাল, রহিদুল, নয়ন, সিরাজুল, আলমডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক সেলিম রেজা তপন, ছাত্রলীগ নেতা হাসান, সাজাবুদ্দিন, রয়েল, মাসুদ প্রমুখ। চুয়াডাঙ্গা জেলায় জেলা পরিষদের উদ্যোগে চার উপজেলায় ১৭ হাজার ফলজ ও বনজ বৃক্ষ রোপনের অংশ হিসেবে আলমডাঙ্গায় এই বৃক্ষরোপন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে সামিল হয়ে জেলা ব্যাপী সাড়ে ৭ লাখ বৃক্ষ রোপণ কর্মযজ্ঞে অংশ গ্রহণ করেছে আলমডাঙ্গা উপজেলার জেহালা ইউনিয়নের ইউনিক কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা। তারাও সকলের মত হাতে করে একটি গাছ লাগিয়ে তাঁরাও ওই গাছের মালিক হতে চাই। গতকাল শনিবার বেলা ১২টায় বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি থেকে উদ্বোধন করেন জেহালা ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল হক রোকন। ইউনিক কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ অর্চনা রাণী পালের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান পুলক, পরিচালক আবিদুদ্দোজা, মোহসীন আলীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্র-ছাত্রীরা। এদিন শিক্ষার্থীদের মাঝে ২ শতাধিক গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা নিজ বাড়িতে গিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে তা রোপণ করে।
দামুড়হুদা অফিস জানিয়েছে, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহম্মেদের “সবুজ চুয়াডাঙ্গা, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য হিসাবে একযোগে জেলার অন্যান্য স্থানের ন্যায় দামুড়হুদা উপজেলায় এক লাখ ১০ হাজার ফলজ বনজ ও ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বজ্রপাতের হাত থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বজ্রপাত প্রতিরোধে ৭৫ হাজার তাল বীজ রোপন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী গতকাল শনিবার দামুড়হুদা উপজেলার সকল এলাকায় বেলা ১২ টা থেকে একটা পর্যন্ত এক ঘন্টায় এসব গাছ ও তালের বীজ লাগানো ও রোপন করা হয়।
দামুড়হুদা উপজলো নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান জানান, চুয়াডাঙ্গা বাসীর জন্য নেওয়া বৃক্ষ ও তালের আঠি (তাল বীজ) রোপন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে উপজেলার সকল ইউনিয়ন, পৌরসভা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ সকল প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমে দামুড়হুদা উপজেলায় বিভিন্ন জাতের এক লাখ ১০ হাজার ফলজ, বনজ, ঔষধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও বর্জপাতের হাত থেকে রক্ষাপেতে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বজ্রপাত প্রতিরোধে ৭৫ হাজার তাল বীজ রোপন করা হয়েছে। কর্মসূচী সফল করতে গত কয়েক দিন থেকে এসব গাছের চারা ও তালের বীজ উপজেলার সকল এলাকায় পৌছে দেওয়া হয়। এছাড়া এ সময়ের মধ্যে সে সকল ব্যাক্তি গাছের চারা ও তালের বীজ সংগ্রহ করতে পারেননি। তাদের জন্য আজও (গতকাল শনিবার) ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ সকল প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমে চারা বিতরণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের নেওয়া এই উদ্যোগকে সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাসি উপজেলা বাসীর স্বতসফুর্ত অংশ গ্রহনের জন্য নির্বাহী অফিসার রফিকুল হাসান সকলকে সাধুবাদ জানান। জেলা প্রশাসকের নেওয়া “সবুজ চুয়াডাঙ্গা, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ” এই উদ্যোগ সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পাশাপাশি দামুড়হুদা উপজেলা চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালমা জাহান পারুল, সহকারী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যান্ড) সৌয়দা নাফিস সুলতানা, দর্শনা পৌর চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, হাউলি ইউপি চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী শাহ মিন্টু, কাপাসডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ভুট্টু, কুড়ালগাছি ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল করিম ইনু শাহ, নতিপোতা ইউপি চেয়ারম্যান আঃ আজিজ, পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউপি চেয়ারম্যান এএসএম জাকারিয়া আলম, নাটুদহ ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, দামুড়হুদা সদর ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল আলম মিল্টনসহ উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা কর্মচারিগণ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
দর্শনা অফিস জানিয়েছে, দর্শনা পৌরসভা এলাকায় সকল সরকারী বে-সরকারী শিক্ষা ও সামিজক প্রতিষ্ঠানে গাছ লাগনো হয়েছে। গতকাল চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের আহবানে ফলজ, বনজ ও ঔষাধী গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির এসব গাছ লাগানো হয়েছে। বেলা ১২টার দিবে দর্শনা পৌরসভার ১০ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি বে-সরকারী কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে, দর্শনা সরকারী কলেজ, ৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৩টি মাদ্রাসায় এসব গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়া বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান, দর্শনা প্রেসক্লাব ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীদের হাতে একটি করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রদান করা হয়েছে। তারা নিজ নিজ বাড়িতে এসব গাছ লাগাবে জানা গেছে। বেলা ১২টার দিকে দর্শনা পৌর মেয়র পৌরসভা পুকুর পাড়ে গাছ লাগান। এছাড়া দর্শনা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম ও সহকারী অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান তাদের কলেজ চত্বরে, ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-নিবার্হী পরিচালক আনোয়ার হোসেন, দর্শনা শহীদ মিনার ও গণ-উন্নয়ন গ্রন্থাগারের সামনে গাছ লাগান। এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন গণ-উন্নয়ন গ্রন্থাগারের পরিচালক আবু সুফিয়ান ছিলেন। দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন অর রশিদ জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক সরূপ কুমার দাস তাদের নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল ও সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল মেহমুদ তাদের সকল সদস্যদের হাতে জেলা প্রশাসকের দেওয়া গাছের চারা তুলে দিয়েছে। এভাবে দর্শনা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী ও প্রতিটি মানুষ গতকাল দর্শনা পৌর এলাকায় গাছের চারা লাগাতে ব্যাস্ত ছিলো বলে জানা গেছে।
জীবননগর অফিস জানিয়েছে, জীবননগরে এক লাখ বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের আহবানে স্বতঃস্ফুর্ত এ কর্মসূচি ঘিরে জীবননগর উপজেলার সর্বত্রই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সবুজ চুয়াডাঙ্গা, সমৃদ্ধ চুয়াডাঙ্গা ’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালিত হয়। দুপুর ১২টায় জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে উপজেলা পরিষদের চত্বরে বৃক্ষ রোপন করেন জীবননগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আ. লতিফ অমল, চুয়াডাঙ্গা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জসিম উদ্দিন, বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক আ. মালেক, চুয়াডাঙ্গা সওজর নির্বাহী প্রকোশলী মাহবুবুর রহমান, পাউবোর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাই চেয়ারম্যান আয়েসা সুলতানা লাকী, জেলা নির্বাচন অফিসের প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান, জীবননগর থানার (ওসি) তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত থেকে বৃক্ষ রোপন করেন সাথে সাথে জীবননগর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ একলাখ বনজ, ফলজ, ঔষধী গাছ রোপন করেন এবং রাস্তার পাশে ৫০ হাজার তালের বীজ রোপন করেন। এতে জনপ্রতিনিধি, সরকারী-বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক সংগঠন, সুশিল সমাজ, শিক্ষক-শিক্ষাথীসহ হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন।