চুয়াডাঙ্গা সোমবার , ২১ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এখনই উঠছে না র‌্যাবের নিষেধাজ্ঞা

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারত্ব সংলাপ: সামরিক চুক্তির খসড়া হস্তান্তর
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ২১, ২০২২ ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে একটি জটিল ও কঠিন ইস্যু হিসেবে আখ্যায়িত করে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেছেন, র‌্যাবের কর্মকর্তা, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। তবে গত তিন মাসে (নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর) এসব ক্ষেত্রে আমরা অগ্রগতি লক্ষ করেছি। এটা নিয়ে অংশীদারিত্ব সংলাপে বাংলাদেশের সাথে আমরা আলোচনা করেছি। তবে এই আলোচনাটি ব্যাপকভিত্তিক অন্যান্য ইস্যুর মধ্যে স্বল্পপরিসরে হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আমাকে জানিয়েছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। র‌্যাবে জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে। বাংলাদেশ সরকারের দেয়া এ সংক্রান্ত কাগজপত্র আমরা খতিয়ে দেখব। বিষয়টি নিয়ে আমরা একসাথে কাজ করতে চাই। কেননা নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসদমন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম অংশীদারিত্ব সংলাপ শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নুল্যান্ড এসব কথা বলেন। সংলাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। আন্তঃসংস্থার এই প্রতিনিধি দলে আরো ছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের দক্ষিণ ও মধ্য-এশিয়াবিষয়ক অ্যাসিসট্যান্ট সেক্রেটারি ডনাল্ড লু এবং প্রতিরক্ষা নীতিবিষয়ক ডেপুটি আন্ডার সেক্রেটারি আমান্ডা ডোরি। অন্য দিকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন।

অংশীদারিত্ব সংলাপে যোগ দিতে ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড গত শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা এসে পৌঁছান। গতকাল সংলাপ শেষে তিনি কূটনীতিক, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন। নুল্যান্ড আজ ঢাকা ছেড়ে যাবেন। র‌্যাব ইস্যুতে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, র্যাবের কর্মকা ও আমাদের উদ্যোগ নিয়ে একটি হালনাগাদ ‘নন পেপার ডোশিয়ার’ এই সংলাপে যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া হয়েছে। এটা তারা পর্যালোচনা করে দেখতে পারে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন ফোরামে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আমাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আশা করি ইস্যুটি যথাসময়ে নিষ্পত্তি হবে। এক প্রশ্নের জবাবে নুল্যান্ড বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আওতায় আমরা সব অংশীদারদের সাথে নিয়ে কাজ করছি। ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে মেরিটাইম নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে অর্থনৈতিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগত উপাদান রয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ এর সাথে যতটা সম্ভব সম্পৃক্ত হোক। নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে যুক্তরাষ্ট্র কিভাবে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করবে, জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কখনোই নিশ্চুপ থাকবে না। মৌলিক আইনের ব্যত্যয় হোক, সেটা আমরা চাই না। এই ইস্যুতে আমরা কাজ করে যাবো।

সংলাপে অস্ত্র বিক্রির পথ সুগম করতে জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্টের (জিসোমিয়া) খসড়া বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে নুল্যান্ড বলেন, এই যুদ্ধ চলাকালীন একজন বাংলাদেশীর মৃৃত্যুতে (বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজে রকেট হামলা) আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বাংলাদেশের সাথে ইউক্রেনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। অনেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ও পেশাদার ব্যক্তি ইউক্রেনে ছিলেন। বাংলাদেশ জানে ইউক্রেনে সত্যিকারার্থে কী ঘটেছে। একটা স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর বিনা উসকানিতে বর্বর আক্রমণ। যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিকভাবে যা করা সম্ভব ছিল আমরা সবকিছুই করেছি। এখন সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে সত্য, শান্তি ও নিরাপত্তার পক্ষে ঐকবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। এর আগে সূচনা বক্তব্যে মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি বলেন, করোনা মহামারীর কারণে প্রায় দুই বছর অংশীদারিত্ব সংলাপ আমরা করতে পারিনি। আজকের সংলাপে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, মানবাধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে আলাপ হয়েছে। আগামী ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। চলতি বছর উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপ, নিরাপত্তা সংলাপ এবং সামরিক সংলাপ হবে। এ ছাড়া নবগঠিত যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের আলোচনাও হবে। এসব থেকে সর্বোচ্চ সুফল আমরা পেতে চাই। তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিনা উসকানিতে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার ভয়াবহ চিত্রগুলো আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি। ইউক্রেনের সাথে বিরোধ নিরসন এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে অংশীদারদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মাসের পর মাস চেষ্টা করেছে। কিন্তু রাশিয়া এতে সাড়া না দিয়ে ইউক্রেনে আক্রমণ করে বসল। রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখ তার ওপর আঘাত করেছে। এই যুুদ্ধটা স্বৈরতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মধ্যে। বিশ্বের সব মুক্ত জাতিকে আজ ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানোর এবং রাশিয়ার হামলার বিপক্ষে অবস্থান নেয়ার সময় এসেছে। আজকের সংলাপে এই ইস্যুতে বাংলাদেশের সাথে আলাপ হয়েছে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ছয় কোটি ১০ লাখ টিকা দিয়েছে উল্লেখ করে নুল্যান্ড বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি টিকা বিনামূল্যে পেয়েছে। এ ছাড়া করোনা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছে। এসব সহায়তা বাংলাদেশকে তার জনগণের ৮০ শতাংশকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সহায়তা করবে। মহামারীর এই কঠিন সময়েও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫০ বছরের শক্তিশালী অংশীদারিত্ব সম্পর্ক রয়েছে। একসাথে আমরা আরো অনেক দূর অগ্রসর হতে পারব। চলতি বছর দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপ ও আলোচনা এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সহায়তা করবে। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বিত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে বাইডেন প্রশাসনের কাছ থেকে বাংলাদেশ অনেক কিছুই প্রত্যাশা করে। শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ওয়াশিংটনে প্রথম অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর একবার ঢাকায়, পরেরবার ওয়াশিংটনে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৯ সালের জুনে ঢাকায় অংশীদারিত্ব সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।