এক বিদ্রোহীসহ পাঁচটিতেই আ’লীগের জয় : বিএনপি প্রর্থীদের ভরাডুবি

631

উৎসবমূখর পরিবেশে চুয়াডাঙ্গা জেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন : নিরঙ্কুশ জয়ে স্বস্তি আওয়ামী লীগে
আইলহাঁস-নাগদহে মালেক-কালাম : বাঁকা-হাসাদহে কাদের প্রধান-রবিউলসহ রায়পুরে রশিদ চেয়ারম্যান নির্বাচিত
এসএম শাফায়েত/খ.হামিদুল আজম/মিঠুন মাহমুদ: অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমূখর পরিবেশে গতকাল বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গার দু’টি ও জীবননগর উপজেলাধীন তিন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। তবে দলীয় সমন্বয় ঘাটতিতে এক ইউপিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকে ভোট পেয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যানেরা হলেন- আলমডাঙ্গা উপজেলাধীন আইলহাঁস ইউনিয়নে এড. আব্দুল মালেক ও নাগদহ ইউনিয়নে আবুল কালাম আজাদ, জীবননগর উপজেলাধীন বাঁকা ইউনিয়নে আব্দুল কাদের প্রধান, হাসাদহে রবিউল ইসলাম এবং রায়পুরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আনারস প্রতীকে আব্দুর রশিদ শাহ।
আমাদের আলমডাঙ্গা অফিস জানায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ও আইলহাঁস ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের দুই প্রার্থী বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছে। আলমডাঙ্গার আইলহাঁস ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী আব্দুল মালেক নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ১৪১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি দলীয় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিনাজ উদ্দিন বিশ্বাস চশমা প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াহাব ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯১৪ ভোট এবং আনারস প্রতীকে মো. রকিবুল হাসান ৮১১ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৯৪১; এরমধ্যে ভোট পোল হয়েছে ১০ হাজার ৪৯৯।
অপরদিকে নাগদাহ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ নৌকা প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত মকলেছুর রহমান জোয়ার্দ্দার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৪২ ভোট। এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান মো. দারুস সালাম আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৯৬৩ ভোট, জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম গোলাপ ফুল প্রতীকে ১ হাজার ৩৪৪, মো. আবুল হোসেন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৫০৪ ও আলমগীর হোসেন ঘোড়া প্রতীকে ৬ ভোট পেয়েছেন ।
বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা যায়, নির্বাচনী উত্তাপ ছাড়া কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কোন প্রার্থী নির্বাচনের অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন বা অভিযোগ তুলেছেন বলে সংবাদ পাওয়া যায়নি। সকাল তীব্র রোদ্র উপেক্ষা করে কর্মব্যস্ত মানুষ ভোট কেন্দ্রে এসে লাইন ধরেন। সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হলেও তার আগ থেকেই ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে ভিড়জমান। এ সময় নারী পুরুষ উভয়েরই সমান উপস্থিতি দেখা যায়; তবে দুপুর ১২টা নাগাদ পুরুষদের ভিড় কমতে থাকে। তবে কেন্দ্রগুলোতে নারী ভোটারের উপস্থিতি ছিলো চোখে পড়ার মতো। নতুন ভোটাররাও সুবিধামত সময়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোন ধরণের নাশকতা কি বা অপ্রিতিকর ঘটনা মোকাবেলায় তৎপর ছিল তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়; পুলিশ-বিজিবি-র‌্যাব। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কঁড়া নজরদারি ছিল। ক্ষণে ক্ষণে এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রে ছুটে বেড়িয়েছেন তারা। দুপুরের আগে নির্বাচনী এলাকা ও ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন জেলা প্রশাসক জিয়াউদ্দীন আহমেদ, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম, ৬ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ান-চুয়াডাঙ্গা’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল ইমাম হাসান মৃধা, র‌্যাব-৬ অধিনায়ক লে. কর্ণেল মনিরুজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। নির্বাচনে কোন ধরণের আইন বিরোধী বা আইন অমাণ্য করে কোন ধরণের কাজ করা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সার্বক্ষণিক দু’টি নির্বাচনী আদালত টহল দেয় নির্বাচনী এলাকাগুলোতে।
আমাদের জীবননগর অফিস জানিয়েছে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্যে দিয়ে জীবননগর উপজেলার তিন ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত দুই জন প্রার্থীসহ একটিতে বিদ্রোহী প্রাথী জয়লাভ করেছে।
উপজেলার বাঁকা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুল কাদের প্রধান নৌকা প্রতীকে ৬ হাজার ২৪১ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিক স্বতন্ত্র প্রার্থী হাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৪১ ভোট। এ ছাড়া বিএনপি মনোনীত আবুল কাশেম মুন্সী ধানের শীষ প্রতীকে ১ হাজার ৪৯৯ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার ৩৭০। এরমধ্যে ১১ হাজার ২৮১ ভোট পোল হয়।
হাসাদহ ইউনিয়নে বে-সরকারী ভাবে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রবিউল ইসলাম। তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫ হাজার ১৯৪। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সোহরাব বিশ্বাস চশমা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৮৮৭ ভোট। এ ছাড়া বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ২৯৮ এবং জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতিকী সিরাজুল ইসলাম ১ হাজার ৫৮৬ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ১১৫। এরমধ্যে ১১ হাজার ৯৬৫ ভোট পোল হয়।
রায়পুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রশিদ শাহ আনারস প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৯৪৪ ভোট পেয়ে বে-সরকারি ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত সাবেক চেয়ারম্যান তাহাজ্জত হোসেন নৌকা প্রতীকে ২ হাজার ৮৬৪ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপি মনোনীত মতিয়ার রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ১ হাজার ২২৫ ভোট এবং জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আলী চশমা প্রতীকে ১ হাজার ২৪ ভোট পেয়েছেন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৯ হাজার ৯৩ ভোট; এরমধ্যে ৮ হাজার ৫৭ ভোট পোল হয়েছে।
এদিকে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে নাশকতামূলক কর্মকান্ডের অভিযোগে চার জনকে আটক করেছে পুলিশ। আপকৃতরা হল- জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি ইসরাফিল (৫০) ও সজল (২৮) এবং বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি হানিফ (৪৮) ও জামায়াত সদস্য কল্লোলকে (৩০) আটক করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিরা ইউপি নির্বাচনে নাশকতামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িতের অভিযোগ রয়েছে।