চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৯ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এক বছরে বিদেশী কোম্পানি মুনাফা নিয়েছে ৩৩০ কোটি ডলার

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
আগস্ট ১৯, ২০২২ ৯:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ থেকে বিদেশী কোম্পানিগুলো এক বছরে সুদসহ নিট মুনাফা নিয়েছে ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার, যা চলতি হিসাবের ঘাটতির প্রায় ১৮ শতাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৮৭০ কোটি ডলার, যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। আর এ ঘাটতি আগের অর্থবছরের তুলনায় ৩০৯ শতাংশ বেশি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রেকর্ড বাণিজ্যঘাটতি, বিদেশী কর্মীদের পেছনে বেতনভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সেবা খাতে ঘাটতি এবং বিদেশী কোম্পানিগুলোর মুনাফা বেশি হারে নিয়ে যাওয়ায় প্রাথমিক চলতি হিসাবের ঘাটতি বেড়ে গেছে। চলতি হিসাবের ঘাটতি আরো বেড়ে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ আরো বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে বিদেশী কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করে থাকে। ওই বিনিয়োগ থেকে বছর শেষে যে লভ্যাংশ পায় তা বৈদেশিক মুদ্রায় নিজ দেশে নিতে পারে। একই সাথে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত সুদও বৈদেশিক মুদ্রায় নিতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বিদেশী কোম্পানিগুলো বিদায়ী অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তাদের বিনিয়োগ থেকে সুদসহ মুনাফা নিয়েছে ৩৬৫ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে সুদ নিয়েছে ৯৪ কোটি মার্কিন ডলার। যেখানে নতুন বিনিয়োগ হয়েছিল ৩৫ কোটি মার্কিন ডলার। ফলে আলোচ্য সময়ে নিট সুদসহ মুনাফা নিয়েছে ৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার। আর এ মুনাফা দেশের মোট চলতি হিসাবের ঘাটতির প্রায় ১৮ শতাংশ।

এ দিকে রফতানির চেয়ে আমদানি যখন অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায় তখন বৈদেশিক বাণিজ্যঘাটতিও বেড়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে পণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে চার হাজার ৯২৫ কোটি মার্কিন ডলার, সেখানে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় আট হাজার ৪৫০ কোটি ডলার। এর ফলে পণ্য বাণিজ্যঘাটতি হয়েছে তিন হাজার ৩২৫ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরে এ ঘাটতি ছিল দুই হাজার ৭৩৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরে পণ্য বাণিজ্যঘাটতি বেড়েছে ৯৪৭ কোটি মার্কিন ডলার বা ৩৫ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বাণিজ্যঘাটতির বড় অংশ রেমিট্যান্স দিয়ে পূরণ করা হয়; কিন্তু রেমিট্যান্স-প্রবাহ কমে যাওয়ায় এ ঘাটতি ব্যাপক আকারে দেখা দেয়। এ দিকে বৈদেশিক মুদ্রার আন্তঃপ্রবাহ কমে যাওয়ায় বেশির ভাগ ব্যাংকের বৈদেশিক দায় মেটাতে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান করতে পারছে না। বেশির ভাগ ব্যাংকেরই ডলারের সঙ্কট দেখা দেয়। এ সঙ্কট মেটাতে আন্তঃব্যাংক থেকে বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে হাত পাতছে। এতে এক দিকে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাচ্ছে, পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে সাড়ে সাত শ’ কোটি ডলার বিক্রি করা হয় সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলোর কাছে। চলতি অর্থবছর এ সঙ্কট অব্যাহত রয়েছে। ডলারের অভাবে অনেক ব্যাংক এলসি খুলতে পারছে না। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৪৭ দিনে কেন্দ্রীয় বাংক তার রিজার্ভ থেকে ১৮৫ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে। ডলার সঙ্কটের কারণে ব্যাংকগুলো ১০৫ টাকা দরে নগদ ডলার বিক্রি করছে।

এ দিকে শুধু পণ্য বাণিজ্যঘাটতিই বাড়েনি, এর সাথে বেড়েছে সেবা আয়ের ঘাটতি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে বিভিন্ন সেবা দিয়ে বিদেশ থেকে আয় হয়েছে ৯৯৮ কোটি মার্কিন ডলার, সেখানে বিদেশী নাগরিকদের পেছনে বেতনভাতাসহ অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেবা খাতের ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৩৮৫ কোটি ডলার। যেখানে আগের বছরে ছিল এক হাজার ৪৫ কোটি ডলার। এর ফলে বিদায়ী বছরে সেবা আয়ে ঘাটতি হয়েছে ৩৮৭ কোটি ডলার। যেখানে তার আগের অর্থবছরে ছিল ৩০২ কোটি মার্কিন ডলার। এক বছরে সেবা আয়ে ঘাটতি বেড়েছে ২৮.১৫ শতাংশ।
ডলারের আন্তঃপ্রবাহ কমে যাওয়ায় চলতি হিসাবের ভারসাম্য ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। বিশ্লেøষকদের মতে, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ও রেমিট্যান্স-প্রবাহ কমে যাওয়ায় চলতি হিসাবের এ চিত্র। তাদের মতে চলতি হিসাবের ভারসাম্য যেভাবে ঋণাত্মক হয়ে পড়ছে তা অব্যাহত থাকলে ডলারের সঙ্কট আরো বেড়ে যাবে। এতে ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরো কমে যাবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।