চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৪ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একাধিক ব্যক্তির নামে দুটি করে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অভিযোগ

নারী কাউন্সিলরকে কারণ দর্শানের নোটিশ
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ২৪, ২০২২ ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

প্রথমবারের কার্ড ফেরত না দেয়ার কারণেই এমন হচ্ছে : নারী কাউন্সিলর শেফালী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সংরক্ষিত কাউন্সিলর শেফালী খাতুনের বিরুদ্ধে দুটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার অভিযোগ উঠলে শেফালী খাতুন বলছেন এটা ভুলবশত হয়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি)-এর দেওয়া ফ্যামিলি কার্ড যেখানে একটি পরিবার একটি করে পাওয়ার কথা, সেখানে একাধিক ব্যক্তির নামে দুটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছেন মৃত ব্যক্তিও। প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডে সংরক্ষিত এই নারী কাউন্সিলরের স্বাক্ষর ও সিলমোহর রয়েছে। তবে এই নারী কাউন্সিলর বলছেন, প্রথম পর্যায়ে দেওয়া ৬ শ কার্ড ফেরত নিতে হবে সেটা তিনি জানতেন না। পরবর্তীতে আরও ৬ শ কার্ড দেয়া হয়েছে। দুইবার করে দেওয়ার কারণেই একই ব্যক্তির নামে দুটি কার্ড হয়েছে। এদিকে, কাউন্সিলর শেফালী খাতুনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোরস্থান পাড়ার রবিসন খাতুন গত ৩ মাস আগে মারা গেলেও তাঁর নামে দেয়া হয়েছে টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড। মৃত রবিসনের নামে এর আগেও দুইবার টিসিবির পণ্য কেনা হয়েছে। একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসনা জাহানের নামেও দুটি ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া গেছে। কার্ডে দেয়া মোবাইল নম্বর একই। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোছা. তাহমিনা খাতুনের নামেও একই রকম ছবি সংযুক্ত দুটি ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া গেছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ অনুযায়ী, এমন ৪৯টি একই নামের ব্যক্তিকে দুইটি করে কার্ড ও একজন মৃত ব্যক্তির নামে কার্ড পাওয়া গেছে।

এবিষয়ে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শেফালী খাতুন বলেন, ‘আমি ওই ধরণের কাজ করিনি। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে। আমি আগেরবারও কাউন্সিলর ছিলাম। সাধারণ মানুষের কথা আমি ভাবি। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা কারোরই নেই। এটা নতুন ছিল। প্রথমবার বরাদ্দ অনুযায়ী ৬ শ কার্ড দিয়েছিলাম। আমি ভেবেছি, কার্ডগুলো ডিলারের কাছে থাকবে। পরেরবার আমি আবার ৬ শ কার্ড দিয়েছি। সে জন্যই একজনের নামে দুটি কার্ড দেখাতে পারে। আর যেই মৃত ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে, সে কার্ড করে প্রথম দুইবার পণ্যও নিয়েছে। মারা গেছে পরে। আমি নিজেই তাঁকে শেষ গোসলও করিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে।’

এবিষয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম ভূইয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর শেফালী খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আমি তাকে তলব করেছিলাম। কার্ডগুলো আলাদা করা হয়েছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।