চুয়াডাঙ্গা রবিবার , ২৬ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একাধিক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে বিশ্ব

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুন ২৬, ২০২২ ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: চলতি বছর বিশ্বে একাধিক দুর্ভিক্ষের ‘প্রকৃত ঝুঁকি’ রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত শুক্রবার খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীদের বৈঠকে সংস্থাটির প্রধান অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। তিনি খাদ্যের বাজারকে স্থিতিশীল করতে এবং পণ্যমূল্যের অস্থিরতা কমাতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সংবাদসূত্র : রয়টার্স, এএফপি, আল-জাজিরা

বার্লিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভিডিও বার্তায় গুতেরেস বলেন, ‘আমরা একটি নজিরবিহীন বৈশ্বিক ক্ষুধা সংকটের মুখোমুখি। ইউক্রেনের যুদ্ধ বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া সমস্যাগুলোকে আরও জটিল করেছে, জলবায়ু পরিবর্তন; করোনা মহামারি; অত্যন্ত অসম পুনরুদ্ধার।’ ‘ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন’র (আইপিসি) নির্ধারণ করা মাত্রা সোমালিয়া, ইয়েমেন ও দক্ষিণ সুদানে চার লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের মধ্যে রয়েছে। এই মাত্রাটি জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আঞ্চলিক সংস্থা ও সাহায্য গোষ্ঠীগুলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা নির্ধারণ করতে ব্যবহার করে। একটি অঞ্চলে দুর্ভিক্ষ ঘোষণার আগে পদক্ষেপ হচ্ছে এটি। আইপিসি অনুসারে, আরও ৩৪টি দেশের লাখ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তেরেস বলেন, ‘২০২২ সালে একাধিক দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করার মতো বাস্তব পরিস্থিতি রয়েছে। ২০২৩ সাল আরও খারাপ হতে পারে।’ তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া বিশ্বব্যাপী গম রপ্তানির প্রায় ২৯ শতাংশ উৎপাদন করে। দেশ দুটির বাণিজ্য পুনরায় শুরু করার উপায় খুঁজে না পেলে সংকটের কোনো কার্যকর সমাধান হতে পারে না।

প্রসঙ্গত, রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলার কারণে ইউক্রেনের বন্দর থেকে পণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেছে। অপরদিকে, রাশিয়ার শস্য ও সার রপ্তানি আবার শুরু করার জন্য পশ্চিমাদের কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায় মস্কো। এদিকে, বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের জন্য পশ্চিমাদের দায়ী করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভস্নাদিমির পুতিন। শুক্রবার তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে চালানো রুশ সামরিক পদক্ষেপের কারণে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের সূচনা হয়নি। মূলত, রাশিয়ান খাদ্যশস্য রপ্তানি ব্যাহত করেছে পশ্চিমারা। এ কারণেই বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। চীন, ভারত, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৭ দেশের নেতাদের একতাবদ্ধ করার সংগঠন ‘ব্রিকস পস্নাস’-এর ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় পুতিন বলেন, ‘খাদ্যশস্যের বাজারকে ঘৃণ্য উপায়ে ভারসাম্যহীন করা হচ্ছে।’ রুশ প্রেসিডেন্ট পশ্চিমা দেশগুলোকে অভিযুক্ত করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কারণে রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে সার সরবরাহের ওপর বিধিনিষেধের এসেছে। এছাড়া মস্কোর জন্য শস্য রপ্তানি করা কঠিন করে দিয়ে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনকে অস্থিতিশীল করেছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলো। এ কারণেই বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘খাদ্যশস্যের মতো কৃষিপণ্যের ক্রমবর্ধমান মূল্য সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। উন্নয়নশীল দেশের বাজারগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কারণ, এখানকার বেশিরভাগ জনসংখ্যার বেঁচে থাকার জন্য রুটি এবং আটা একটি প্রয়োজনীয় পণ্য। রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপের শুরু থেকে ইউক্রেনের বন্দরে আটকে থাকা খাদ্যশস্যের বিষয়ে পশ্চিমাদের অতি উদ্বেগকে পুতিন প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘শুধুমাত্র ইউক্রেনীয় শষ্য দিয়ে বিশ্ব খাদ্য সংকটের সমাধান হবে না। কারণ, রুশ খাদ্যশস্য ছাড়া বাজারগুলোতে পণ্য সংকট দূর হবে না। এ কারণে রাশিয়াও খাদ্যশস্য সরবরাহের বিষয়ে তার সব চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে প্রস্তুত।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।