চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ১০ মে ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একাদশে ভর্তি : কাউকে বঞ্চিত করা যাবেনা

সমীকরণ প্রতিবেদন
মে ১০, ২০১৮ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরদিনই ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে স্বভাবতই রেজাল্টের আনন্দের রেশ শেষ না হতেই দুশ্চিন্তা জেঁকে বসেছে প্রায় সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে। এবার পাসের হার কম হলেও জিপিএ-৫-এর হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাল কলেজে ভর্তি হওয়ার মনোভাব ও প্রতিযোগিতা বাড়বে নিঃসন্দেহ। কেননা ভাল মানের কলেজগুলোতে ভর্তির আসন কম থাকায় অনেক মেধাবী জিপিএ-৫ম পেয়েও ভর্তি থেকে বঞ্চিত থেকে যাবে। তবে সার্বিকভাবে আসনের সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা। সে অবস্থায় প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সার্বিকভাবে নিয়মিত পড়াশোনা তথা শিক্ষার মান বাড়ানোর দিকে মনোনিবেশ করা বাঞ্ছনীয়। এবার শতভাগ মেধার ভিত্তিতে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে মোট আসলের অতিরিক্ত হিসেবে নির্ধারিত কোটা আছে ১১ শতাংশ। কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে এর কার্যকারিতা থাকবে না। দেশে গতবারই প্রথম অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে ফিসহ আবেদনপত্র জমা দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রক্রিয়া সহজ হওয়ায় শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরাও বেজায় খুশি। কেননা, এতে কলেজ থেকে কলেজে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ছোটাছুটির ঝক্কিঝামেলা নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ক্ষেত্রে এটিও একটি শুভ লক্ষণ বৈকি। উল্লেখ্য, আজকাল খুব সহজেই ঘরে বসে জানা যায় এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার ফল। ভর্তি নীতিমালায় বলা হয়েছে, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে অনলাইনে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে হবে। অবশ্য হাতেগোনা কয়েকটি নামী-দামী কলেজ আদালতের রায় নিয়ে নিজস্ব নিয়মে অর্থাৎ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তবে এই সংখ্যা নগণ্য বলা চলে। সরকারী নীতিমালায় বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া এসএসসির ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। এই নীতি সরকারী-বেসরকারী উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। তবে বাস্তবতা হলো, দেশের সব কলেজের মান একই রকম নয়। নামী-দামী কলেজের পাশাপাশি অনেক অখ্যাত, অজ্ঞাত কলেজও আছে। আবার শহর ও গ্রামের শিক্ষার মানও এক রকম নয়। বরং বৈষম্য বিরাজমান। প্রায় সব শিক্ষার্থী চায় সেরা কলেজে ভর্তি হতে। এক্ষেত্রে অভিভাবকরাও কিছু কম যান না। সে অবস্থায় স্বভাবতই বাড়ে তীব্র প্রতিযোগিতা। বিশেষ করে নামী-দামী কলেজে ভর্তি হতে প্রায় সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আদা-জল খেয়ে লেগে পড়ে। অনেক কলেজের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়মসহ ভর্তিবাণিজ্যের অভিযোগও ওঠে বৈকি। মনে রাখতে হবে, শিক্ষা একটি অধিকার। কাউকে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। আবার এর মানও অক্ষুণœ রাখতে হবে। সবচেয়ে ভাল হয় পর্যায়ক্রমে হলেও অন্তত অধিকাংশ স্কুল-কলেজের অবকাঠামোসহ শিক্ষা ও পাঠদানের মানোন্নয়ন করা।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।