ঋণ দেয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ

328

আলমডাঙ্গায় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন সংস্থার দুই মহিলার বিরুদ্ধে
আলমডাঙ্গা অফিস: আলমডাঙ্গার পারকুলা গ্রামে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র নামক সংস্থার দুই মহিলার বিরুদ্ধে হত দরিদ্রদের ঋণ দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করলে ১ লাখ ও ৫ হাজারে ৫০ হাজার টাকার ঋণ পাবার প্রলোভনে কয়েকশ গ্রাহক টাকা জমা দিয়ে প্রতারনার শিকার হয়েছে। ভুক্তভোগী জনগণের অভিযোগ আলমডাঙ্গার এক্সচেঞ্জ পাড়ার অফিস বন্ধ করে সংস্থার লোকজন পালিয়ে গেছে। তাদের মোবাইল নম্বর বন্ধ রাখা হয়েছে।
আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বর পারকুলা গ্রামের জমির উদ্দিন জানান, আলমডাঙ্গার এক্সচেঞ্জ পাড়ার শফি উদ্দিনের বাসায় প্রশিকা মানব উন্নয়ন কেন্দ্র নামের একটি সংস্থার সাইন বোর্ড ছিল। ওই সংস্থার মাঠ কর্মি পরিচয় দিয়ে দু’জন মহিলা গত ১ সপ্তাহ আগে পারকুলা গ্রামে আসে। তারা গ্রামের হতদরিদ্র মহিলাদের প্রলোভন দেখায় ৫ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করলে ৫০ হাজার, ১০ হাজারে ১ লাখ টাকা ঋণ দেয়া হবে। দুই মাস পর থেকে ঋণের কিস্তি দিতে হবে। দুই মহিলার এ প্রলোভনে পড়ে পারকুলা গ্রামে সমিতি গঠন করে হতদরিদ্র মানুষ ঋণ পেতে কেউ ৫ হাজার, কেউ ১০ হাজার টাকা জমা সঞ্চয় জমা দেয়।
এভাবে টাকা জমা দেয়া মহিলাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- পারকুলা গ্রামের নুর আলীর স্ত্রী রোকেয়া খাতুন ৫ হাজার, একই গ্রামের পিয়ার আলীর স্ত্রী সায়েরা খাতুন ৫ হাজার, দাকিলা আলীর স্ত্রী কুটিলা খাতুন ৫ হাজার, আব্দুল মান্নানের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন ৫ হাজার, আলমের স্ত্রী বেলুহার ৫ হাজার, ইকতার আলীর ছেলে কলম ৫ হাজার, হাসিবুল ইসলামের স্ত্রী রাফিয়া ৫ হাজার, নাজমুল হোসেনের স্ত্রী আফরোজা খাতুন ৫ হাজার, নুরুল ইসলামের স্ত্রী ময়না খাতুন ১০ হাজার, রবিউল ইসলামের ছেলে ওহিদুল ইসলাম ১০ হাজার, কেবলার স্ত্রী নাজমা খাতুন ৫ হাজার, রিপন আলী ৫ হাজার, মৃত বাক্কার ছেলে রহিম ৫ হাজার, শরিফুল ইসলামের স্ত্রী রুশিয়া ৫ হাজার, রহিদুল ইসলামের স্ত্রী আনজিরা খাতুন ৫ হাজার, আমিন উদ্দিনের ছেলে রশিদুল ৩ হাজার, মোজাম উদ্দিনের স্ত্রী ছবি খাতুন ৩ হাজার, মহির উদ্দিনের ছেলে মঙ্গল ৩ হাজার, মেজরের স্ত্রী নাসিমা খাতুন ৩ হাজার টাকা জমা করে। এছাড়াও এভাবে কয়েকশ’ গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ওই দুই মহিলা। মঙ্গলবার ঋণ দেবার কথা থাকলেও তার আগেই ওই দুই মহিলার মোবাইল নম্বর বন্ধ পেয়ে হতদরিদ্র মহিলারা আলমডাঙ্গার অফিসে খোঁজ করে। খোঁজ নিয়ে জানতে পারে আলমডাঙ্গার অফিসের সাইন বোর্ড নামিয়ে ফেলা হয়েছে। এভাবে প্রতারনার মাধ্যমে পারকুলা গ্রাম ছাড়াও পাশ^বর্তী কয়েক গ্রামেও একই ভাবে টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে গেছে।