চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১৯ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঋণখেলাপিদের জন্য আরো বড় ছাড়

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ১৯, ২০২২ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: ঋণখেলাপিদের জন্য আবারো ছাড় দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবার মাত্র আড়াই শতাংশ থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ এককালীন পরিশোধ করলেই খেলাপি ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন ঋণখেলাপিরা। আগে যেখানে ন্যূনতম ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত পরিশোধ করতে হতো। আর খেলাপি ঋণ নিয়মিত হলেই মিলবে নতুন ঋণ। শুধু তাই নয়, বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হতো এখন এর পুরো ভার ব্যাংকগুলোর পর্ষদের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এক সার্কুলার জারি করা হয়েছে। গতকালই যা ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীকে অবহিত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৫০০ কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণ হলে মোট বকেয়া ঋণের আড়াই শতাংশ জমা দিলেই মিলবে ৮ বছরের জন্য নিয়মিত করার সুযোগ। আর ১০০ কোটি টাকা থেকে ৫০০ কোটি টাকার নিচে হলে সাড়ে তিন শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জন্য ঋণ নবায়নের সুযোগ মিলবে। আর সাড়ে চার শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিলে ১০ কোটি টাকার কম মেয়াদি ঋণ ৬ বছরের জন্য নিয়মিত করা যাবে। চলমান ও তলবি ঋণের ক্ষেত্রে ৩০০ কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে আড়াই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ৭ বছরের জন্য, ৫০ কোটি টাকা থেকে ৩০০ কোটি টাকার নিচে ৩ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ৬ বছরের জন্য এবং ৫০ কোটি টাকার কম হলে ৪ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ৫ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন করা যাবে। তবে এটা করা হবে প্রথম ও দ্বিতীয়বার নবায়নের ক্ষেত্রে। তৃতীয় ও চতুর্থবারের ক্ষেত্রে বাড়তি ১ শতাংশ হারে বেশি ডাউনপেমেন্ট দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আগে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃ তফসিল করতে বিভিন্ন তদবির আসত। এ কারণে নতুন গভর্নর সেই সুবিধা দেয়ার ক্ষমতা ব্যাংকগুলোকে দিয়েছেন। পাশাপাশি করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্ষতিতে পড়া অর্থনীতির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় ঋণ পুনঃ তফসিলে ছাড় দিয়েছেন। না হলে বড় অঙ্কের ঋণখেলাপি হয়ে পুরো আর্থিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ত। তবে জাল জালিয়াতি ও অনিয়ম-প্রতারণার ঋণ নতুন নীতিমালার আওতায় নিয়মিত করা যাবে না। অবশ্য একটি ঋণ চার অর্থবছরের পর আরো একবার নিয়মিত করা যাবে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ও বহির্বিশ্বে সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা প্রলম্বিত হওয়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিতিশীলতা চলছে। সে জন্য নতুনভাবে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও শ্রেণিকৃত ঋণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে ঋণ পুনঃ তফসিলকরণ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। জানা গেছে, করোনার কারণে দেয়া ছাড় উঠে যাওয়ার পর ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। নতুন করে অনেক ঋণ খেলাপি হয়ে যাওয়ার তালিকায় যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি করোনায় অর্থনীতির গতি ধরে রাখতে যে এক লাখ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে, তারও বড় একটা অংশ অনাদায়ী হয়ে পড়েছে। এ কারণে এখন ছাড় দিয়ে খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে চাইছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।