উৎসব-উত্তাপে আওয়ামী লীগ

318

অক্টোবরে জাতীয় কাউন্সিল
সমীকরণ প্রতিবেদন:
উৎসবমুখর পরিবেশে উত্তাপে সময় পার করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়, প্রশংসনীয় সরকার গঠন, সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্তের পর উপজেলা নির্বাচন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে রয়েছে দলের নেতাকর্মীরা। এরই মধ্যে দলের জাতীয় সম্মেলন করার ঘোষণা উৎসবে নতুন উত্তাপ এনে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল রাজনীতি থেকে কেন্দ্র পুরোটাই সরগরম হয়ে উঠছে। দলের জাতীয় কাউন্সিল যথাসময়ে করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে অনুযায়ী আগামী ২৩ অক্টোবর অথবা যে কোনো দিন সম্মেলনের দিন নির্ধারণ করা হতে পারে। দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
তথ্য মতে, বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো নিশ্চুপ থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠ চাঙা করে রাখছে। একের পর এক ইস্যুতে গোটা দেশ ক্ষমতাসীনদের দিকে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র আওয়ামী লীগের তৃণমূল রাজনীতি এখন তুঙ্গে। প্রধান বিরোধী পক্ষ বিএনপি নির্বাচনে না আসার সিদ্ধান্তে নিজ দলের মধ্যে অনেকটা উন্মুক্ত নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এমন সময় জাতীয় কাউন্সিলের ঘোষণা দলটির রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ এনেছে। সবমিলিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র সব পর্যায়ে দলটির এখন সাজ সাজ রব। সূত্র মতে, জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণা আসার পরপরই কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে দলের হাইকমান্ড। সম্মেলন সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। উদ্যোগ নেয়া হবে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলা কমিটির সম্মেলনের। বিশেষ করে যেসব জেলার কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ আছে, সেসব জেলার সম্মেলন শেষ করতে সভাপতি শেখ হাসিনা কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাচনের পরপরই ওই জেলায় সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া হবে। শুরু হবে জাতীয় সম্মেলনের মূল কাজ। জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিসহ বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠনের মাধ্যমে গোটা দেশ কাউন্সিল উত্তাপে আনা হবে। এদিকে, দলের জাতীয় এ সম্মেলনের ঘোষণা আসার পর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলীয় নেতাকর্মীরা চাঙা হয়ে উঠেছেন। তৃণমূল, উপজেলা-জেলা, মহানগর, জাতীয় রাজনীতি সর্বত্র কাউন্সিলের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে। কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্তদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। ধানমন্ডিস্থ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের অফিস-বাসা সরগরম হয়ে উঠছে।
তথ্য মতে, হালের রাজনীতি সামনে রেখে সম্মেলন কেন্দ্র করে আ.লীগের দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন-সংযোজনসহ ঘোষণাপত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। উন্নত বাংলাদেশ গঠন ও বিশ্ব পরিম-লে নিজেদের জানান দিতে আগামী কাউন্সিলে দলকে ঢেলে সাজাতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন কমিটিকে ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থান দেয়া হবে, দলের জন্য নিবেদিত, পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদের। একই সঙ্গে এগিয়ে আনা হতে পারে, মেধাবী, সৎ, একঝাক তরুণ নেতাদের। একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন। সূত্র জানায়, টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে অনেক এলাকায় নেতাকর্মীদের কোন্দল ও রেষারেষিতে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই তৃণমূলসহ কেন্দ্র শক্তিশালী করতে জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিলের মাধ্যমে সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের শীর্ষ এক নেতা দুই পদে থেকে এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকার ও দলীয় কমকান্ডে একসঙ্গে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, অনেক নেতার সরকার ও দলের কোনো পদে না থাকার কারণে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা কম গেছে। এ জন্য দল ও সরকারের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানতে দলের গুরুত্বপূর্ণদের সরকারের না রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে পারে কাউন্সিলে। সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন, এমন সদস্যদের দলে না রাখার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া আগামী ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে এ দলের নেতৃত্বের সরকার। এর আগেই দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দলকে নতুন সরকার থেকে যতটুকু সম্ভব আলাদা করা হবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মীবান্ধব দল। আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই উৎসাহ-উদ্দীপনা। এখনো মূল প্রস্তুতি শুরু হয়নি, আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। কারা বাদ পড়ছেন, কারা আসছেন এখনই সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে আওয়ামী লীগের সবসময় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হয়, এবারো হবে।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে এবার অনেক চমক থাকবে। যে ভাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা জাতীয় নির্বাচন ও আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনে চমক উপহার দিয়েছেন। এবার সম্মেলনে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটি পদ ছাড়া বাকি সব পদ অনিশ্চিত। নেত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন কে পদে থাকবে আর কে থাকবে না। এটা নিয়ে আমরা ভাবি না। নেত্রী যাকে দেবেন দল তাকে নিয়েই কাজ করবে। আমরা তার সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত আছি।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘২৩ অক্টোবরের আমাদের সম্মেলন হয়েছিল, আমরা অক্টোবরেই সম্মেলন করার চিন্তা করছি।’
প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা পুনর্নিবাচিত হন। আর প্রথমবারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। এর আগে ১৯৮১ সালের সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯, ২০১২ ও ২০১৬ সালে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন।