উৎকণ্ঠা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে উৎকণ্ঠা

105

সমীকরণ প্রতিবেদন:
এ বছরের এইচএসসি ও সমমান পর্যায়ে পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়নের সিদ্ধান্তের পর কীভাবে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বতন্ত্রভাবে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করবে নাকি সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে তা নিয়েও সংশয় কাটছে না। যদিও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত বুধবার প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে গুচ্ছ বা সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, মূল্যায়নের মাধ্যমে এইচএসসি ও সমমানের ফল ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। কেউ কেউ বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে জেএসসি ও এসএসসির ফলের গড় করে এবারের এইচএসসির ফল তৈরি করা হবে, তাই এসব পরীক্ষার নম্বরকে ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমলে নেওয়া উচিত হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরাও বলছেন, যেহেতু এইচএসসিতে পরীক্ষা হচ্ছে না তাই জেএসসি ও এসএসসিতে ভালো জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীরা ভালো প্রস্তুতি না নিয়েও এইচএসসিতে ভালো জিপিএ পাবে। তাই এই জিপিএকে ভর্তি পদ্ধতিতে আমলে না নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ গতকাল প্রতিবেদককে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষার জন্য একটি কমিটি রয়েছে ইউজিসির। শিগগিরই বৈঠক ডেকে চলতি করোনা পরিস্থিতিতে কীভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠক করব। তিনি বলেন, আমরা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দিকেই এগোচ্ছি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গতকাল বলেন, জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার। মূল্যায়নের মাধ্যমে ডিসেম্বরে এইচএসসির ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পর্যালোচনা করে ন্যূনতম আবেদনের শর্ত, জিপিএ ইত্যাদি নির্ধারণ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সীমিত আসন সংখ্যার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আবেদনকারীর সংখ্যা সীমিত না হলে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন বা অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়াসহ নানারকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হাতে রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষাবিদদের সিদ্ধান্তে আমাদের আস্থা রাখতে হবে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ বলেন, আমরা সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের পক্ষ থেকে একটি বৈঠক করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য শিগগিরই আরেকটি বৈঠক ডাকা হবে। সেখানে সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। উপাচার্য আরও বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে বিগত বছরগুলোর মতো এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এ জন্য কোনো পরীক্ষায় বসতে হবে না শিক্ষার্থীদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, মূল্যায়নের মাধ্যমে সরকার এইচএসসির ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। ভর্তি পরীক্ষার নিয়মাবলি, শর্তসহ নানা বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিল ও ভর্তি কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে। সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে উপাচার্য বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে যাবতীয় সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিল ও ভর্তি কমিটি নেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক কাউন্সিল ভর্তি প্রক্রিয়ার বিষয়গুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সম্মান প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসএসসি ও এইচএসসির জিপিএর ভিত্তিতে কিছু নম্বর নির্ধারিত থাকে। এবার এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ক্ষেত্রে তো তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না। তাছাড়া পরীক্ষা ছাড়া এইচএসসিতে জিপিএ নির্ধারণ করা হবে। তাই এবারের ভর্তি পদ্ধতিতে যেন এই দুই পরীক্ষার ফলাফলকে আমলে নেওয়া না হয়। ভর্তির ক্ষেত্রে উচিত হবে পুরো নম্বরের জন্যই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া। এতে ভর্তিচ্ছুদের মেধা সঠিকভাবে যাচাই করা হবে, মেধাবীরাও কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের হয়রানি কমে আসবে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নিয়ে এখন উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এইচএসসির ফলের অপেক্ষায় থাকা পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। ফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা স্বস্তি পাচ্ছেন না। এইচএসসির অটোপাসের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন কোনো পদ্ধতি না করা হয় এমন দাবি ভর্তিচ্ছুদের। এইচএসসির ফলের অপেক্ষায় থাকা এক পরীক্ষার্থী প্রতিবেদককে বলেন, এইচএসসির ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মেধার কোনো যাচাই হলো না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন এমন কোনো পদ্ধতির উদ্ভব করা না হয়। ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন না থাকলে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীরা বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাবে। তাই সরকারকে এক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতেই হবে।