উম্মত দরদি নবীজি আমার!

13

ধর্ম প্রতিবেদন:
এক জীবনে আল্লাহর কাছে আমাদের চাওয়ার কিছু নেই। যা পেয়েছি তার শোকরিয়াই তো আদায় করে শেষ করতে পারব না। মহান আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হলো- তিনি আমাদের আখেরি পয়গম্বরের উম্মত হওয়ার তাওফিক দিয়েছেন। গোয়ালন্দ রাজবাড়ী দরবার শরিফের পীর সাহেব মরহুম মাওলানা শাহ আবদুল হক আব্বাসী বলতেন, উম্মত হিসেবে আমরা হতভাগ্য। পূর্ববর্তী নবীর উম্মতরা তাদের নবীর সঙ্গ পেতেন। এক নবী মারা গেলে আরেক নবী তাদের আগলে রাখতেন। কিন্তু আমাদের জন্মের দেড় হাজার বছর আগেই প্রিয়নবী (সা.) মদিনার সোনার গম্বুজের নিচে পালিয়ে গেলেন। এ বিবেচনায় আমরা হতভাগ্য উম্মত। কিন্তু আমাদের নবী আকাশেও যাননি, জান্নাতেও না। মদিনায় শুয়ে শুয়েই ইয়া উম্মতি! ইয়া উম্মতি! বলে দেড় হাজার বছর ধরে কাঁদছেন। অর্থাৎ, আমার আপনার মতো গুনাহগারের জন্য একজন পয়গম্বর দেড় হাজার বছর ধরে কাঁদছেন, এমন সৌভাগ্যবান উম্মত ইতিহাসে একমাত্র আমরাই।
আমাদের আরও সৌভাগ্য হলো- আমরা বিনা দরখাস্তেই রসুলে আরাবি নবী (সা.) এর উম্মত হতে পেরেছি। পূর্ববর্তী সব নবীই আখেরি নবীর উম্মত হওয়ার প্রবল আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। আম্বিয়া (আ.) প্রায় প্রত্যেকেই বলেছিলেন, হে আল্লাহ! আমাদের যদি নবী না বানিয়ে আখেরি নবীর উম্মত বানাতেন তাহলে আমরা নিজেদের বেশি সৌভাগ্যবান মনে করতাম। নবুওয়াতির চেয়েও আখেরি নবীর উম্মতের মর্যাদা বেশি কেন? এর উত্তর খুঁজলে দেখা যাবে, নবী (সা.)-ই একমাত্র নবী, যার শাফায়েত আল্লাহ কবুল করবেনই। আর তিনি কোনো উম্মতকে বিপদে ফেলে কেয়ামতের দিন হাশরের মাঠ থেকে যাবেন না। অন্যসব নবী সেদিন ইয়া নফসি ইয়া নফসি করতে থাকবেন, আর আমাদের নবীজি (সা.) সেদিনও ইয়া উম্মতি ইয়া উম্মতি করতে থাকবেন। আখেরি নবীর উম্মত হওয়া মানেই শুপারিশপ্রাপ্তদের অর্ন্তর্ভুক্ত হওয়া। এ জন্যই আখেরি নবীর এত মর্যাদা। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সা.) বলেছেন, ‘সব নবীর এমন কিছু দোয়া আছে, যা আল্লাহর কাছে কবুল হয়। সব নবী দ্রুত নিজেদের জন্য দোয়া করে ফেলেছেন। আমি তা কেয়ামতের দিন উম্মতের সুপারিশের জন্য গোপন করে রেখেছি। আমার উম্মতের মধ্যে যে আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছু শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে ইনশা আল্লাহ, আমার সুপারিশ লাভ করবে।’ মুসলিম শরিফ, হাদিস নম্বর ১৯৯। উম্মতের জন্য রসুল (সা.)-এর ছিল অতুলনীয় মমতা ও ভালোবাসা। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘হে মানুষ! তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের কাছে একজন রসুল এসেছেন। দুনিয়া ও আখেরাতে তোমরা দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে পার, এ চিন্তা তাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। তিনি তোমাদের কল্যাণকামী। বিশ্বাসীদের প্রতি মমতা ও সহানুভূতিতে তার হৃদয় পরিপূর্ণ।’ সুরা তাওবা, আয়াত ১২৮। এ আয়াত স্পষ্ট করে বলছে, উম্মতের চিন্তা রসুল (সা.)-কে কষ্ট দেয়, ভাবনায় ফেলে। কিন্তু কতটা কষ্ট দেয় সে কথা বলা হয়েছে সুরা শোয়ারায়। আল্লাহ নবীজিকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, ‘হে নবী! ওরা বিশ্বাস স্থাপন করছে না বলে দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে তুমি কি প্রাণবিসর্জন দেবে? সুরা শোয়ারা, আয়াত ৩। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, হে নবী! ওরা যদি আল্লাহর বাণীকে বিশ্বাস করতে না চায়, তবে কি এ নিয়ে তুমি দুঃখ করতে করতে নিজেকে শেষ করে দেবে? সুরা কাহাফ, আয়াত ৬।