চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ২৫ নভেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উন্নয়ন দিয়েছি ওয়াদা দিন নৌকায় ভোট দেবেন- যশোরে প্রধানমন্ত্রী

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
নভেম্বর ২৫, ২০২২ ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

Girl in a jacket

সমীকরণ প্রতিবেদন:
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরে এক মহাসমাবেশে দেয়া ভাষণে তার দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’ মার্কায় ভোট চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদেরকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই আগামী নির্বাচনেও আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন।’ বিএনপি আমলের অরাজকতার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি সন্ত্রাস, হত্যা রাহাজানি, নির্যাতন আর জেল, জুলুম, মামলা ব্যতীত জনগণকে কিছুই দিতে পারে নাই। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যশোর জেলা স্টেডিয়ামে যশোর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ‘আপনাদের সেবা করার সুযোগ দেবেন কি না,’ দুই হাত তুলে ওয়াদা করতে বললে জনতা দ্ইু হাত তুলে চিৎকার করে তাতে সম্মতি দেয়। প্রধানমন্ত্রী ব্যাংকে রিজার্ভ ও তারল্য নিয়ে বিএনপি-জামায়াত চক্রের গুজব সম্পর্কে দেশবাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই গুজবে কান দেবেন না, কারণ বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং ব্যাংকে অর্থের কোনো সঙ্কট নেই যদিও বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা থাকায় ব্যাংকে টাকা নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আর ব্যাংকে টাকা নেই এই কথাটা মিথ্যা। প্রত্যেকটা ব্যাংকে যথেষ্ট টাকা আছে বলেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের রেমিট্যান্স আসছে, বিদেশ থেকে বিনিয়োগ আসছে, আমদানি-রফতানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, ট্যাক্স কালেকশন বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশে^র অন্য দেশ যেখানে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী আছে। যশোর ও আশপাশের জেলা থেকে আওয়ামী লীগ, ফ্রন্ট ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের জনসভাস্থলে জমায়েত হতে থাকে। ব্যাপক জনসমাগমে সমগ্র এলাকা বেলা বাড়ার সাথে সাথে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বেলা ২টা ৩৮ মিনিটে শেখ হাসিনা নৌকা আকৃতির মঞ্চে উঠলে বিভিন্ন স্লোগানে আকাশ বাতাস মুখরিত করে তাকে স্বাগত জানানো হয়। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রেসিডিয়াম সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য, কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক ও জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং শেখ হেলাল এমপি। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ পরিচালনা করেন দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার এমপি। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির ব্যাপারে নানা সমালোচনা করেন। শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাস মহামারী পরবর্তী বৈশ্বিক মহামারী মোকাবেলায় ভ্যাকসিন ক্রয়, সারে ভর্তুকি, চাল-গম-ভুট্টা ক্রয়, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে জনগণের জন্য দুই হাতে খরচ করেছি, এটা অন্য কোথাও যায়নি। এখনো অনেক কাজ করছি, প্রণোদনা-ভর্তুকি দিচ্ছি।

এ সময় যশোরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বলেন, জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ যশোর স্টেডিয়াম ভেঙে নতুন ১১ স্তরবিশিষ্ট গ্যালারি তৈরি করে দেয়া হবে। তাই তরুণ সমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও লেখাপড়ায় মনোনিবেশের আহ্বান জানান তিনি। বলেন, যুবসমাজ আমাদের ভবিষ্যৎ। ফলে মাদক, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস থেকে দূরে থাকতে হবে। সমাবেশে নিজের নানা শেখ জহুরুল হককে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমার নানা চাকরি সূত্রে যশোরেই থাকতেন। মৃত্যুর পরে তাকে যশোরেই দাফন করা হয়েছিল। তার স্মৃতিতে তার নামেই দারিদ্র্য বিমোচনে একটি ট্রেনিং সেন্টার করা হবে যশোরে। এ জন্য ৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগ প্রধান। আরো বলেন, কাজ শেষ হলে এটি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখবে। শেখ হাসিনা আরো বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে স্বাধীন বাংলার শত্রুমুক্ত প্রথম জেলা যশোরেই আমার প্রথম জনসভা। এতে আমি আনন্দিত। আধঘণ্টার বেশ সময় বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। এতে তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। সাবমেরিন ক্যাবল এবং ব্রডব্যান্ড ইউনিয়নে পৌঁছে গেছে। এই যশোর থেকে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করেছিলাম। এই যশোরে নির্মিত হয়েছে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, আইটি পার্ক। যেখানে প্রায় দেড় দুই হাজার ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থান হয়েছে। এখানে বিদেশ থেকে অনেক বিনিয়োগ আসছে। আমরা এখানে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা করেছি। সব উন্নয়নে কাজ করেছি। সব প্রাইমারি স্কুলে নতুন ভবন করেছি। প্রত্যেক উপজেলায় সরকারি কলেজ করেছি। বেনাপোলকে আমরা উন্নত করে অটোমেশন করে দিয়েছি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে যাতে সেখানে মাল আসা-যাওয়া করতে পারে সে ব্যবস্থা করেছি। আমরা করেছি মধুমতি সেতু। যশোর ও নড়াইলের যোগাযোগের জন্য ৯৬ সালেই রাস্তা করে দিয়েছি। প্রত্যেক এলাকায় আমরা আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলছি। পদ্মা সেতু হওয়ায় আপনারা কত সহজে যাতায়াত করতে পারেন। দ্রুত ঢাকা চলে যেতে পারেন। এখানে উৎপাদিত সব পণ্য দ্রুত ঢাকা চলে যেতে পারে। যশোর এয়ারপোর্ট আরো উন্নত করে দেয়া হচ্ছে। যশোর থেকে শুধু ঢাকা নয়, কক্সবাজারের রুটও আমরা চালু করেছি। পদ্মা সেতু হওয়ায় এখানে যোগাযোগ বেড়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, যশোরের জলাবদ্ধতা দূর করতে আমরা নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। ৮২ কিলোমিটার নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং নৌযান যাতে চলাচল করে সেই কাজ হাতে নিয়েছি। এখানে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স করে দিয়েছি।

Girl in a jacket

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।