উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে প্রার্থীরা

77

দর্শনা পৌরসভায় নির্বাচনী উত্তাপ, শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে প্রচার-প্রচারণা

মেয়র ৩, সংরক্ষিত ৮ ও সাধারণ কাউন্সিলর পদের ৪৯ প্রার্থীর মধ্যে হবে ভোটযুদ্ধ
আওয়াল হোসেন/ওয়াসিম রয়েল:
দর্শনা পৌর নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। আর মাত্র তিন দিন পর ৩০ জানুয়ারি মেয়র, সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট ব্যালটের মাধ্যমে গ্রহণ করা হবে। তাই সর্বশেষ ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। দর্শনা পৌর শহরের অলি-গলির সকল সড়কেই প্রচারণায় ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানার। তাকালেই চোখে পড়বে সারি সারি ঝোলানো পোস্টার। মাইকিং ছাড়াও চলছে সোস্যাল মিডিয়াতে নির্বাচনী প্রচারণা। চায়ের স্টলগুলোতে চলছে চায়ের আড্ডা। বুঝতে বাকি নেই করোনা আর শীতকে উপেক্ষা করে কোনো প্রার্থীই পিছিয়ে নেই প্রচার-প্রচারণায়। উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সকলেই।
দর্শনা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর আগামী ৩০ জানুয়ারি ৬ষ্ঠ বারের মতো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ নির্বাচনে ১৩ পদের বিপরীতে ৩ জন মেয়র প্রার্থী, ৮ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৪৯ জন সাধারণ কাউন্সিলরসহ মোট ৬০ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন।
সরেজমিনে দর্শনা পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সর্বত্র নির্বাচনী পোস্টার। অলিতে-গলিতে লিফলেট নিয়ে প্রার্থীর সমর্থকেরা ঘরে ঘরে ভোট চাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের পোস্টার ও ব্যানার সব জায়গায় বেশি দেখা গেলেও বিএনপি প্রার্থীর পোস্টার কিছুটা কম চোখে পড়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোস্টারও আছে বিভিন্ন স্থানে। বিশেষ করে বিভিন্ন মোড় ও যে কেন্দ্রগুলোতে ভোট গ্রহণ করা হবে, ওই সব কেন্দ্রের সামনে পাল্লা দিয়ে টাঙানো হয়েছে বিভিন্ন মার্কা সংবলিত নির্বাচনী পোস্টার। গত ২০ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী বেলা ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচারণায় কিছুটা অস্বস্তি হলেও ৫ বছর পর ভোটের আমেজে মেতে উঠেছে স স ওয়ার্ডবাসী।
এদিকে, আওয়ামী লীগের মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মতিয়ার রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। দর্শনা পৌরসভার তিনবারের নির্বাচিত মেয়র মতিয়ার রহমানের জনপ্রিয়তা বেশ ভালো। অপর দিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান বুলেটের জনপ্রিয়তাও কম নয়। তাঁর সাথে ধানের শীষের পক্ষে নির্বাচনী গণসংযোগ করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী আশকার আলী নানা কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে নির্বাচনী গণসংযোগ করলেও তাঁর অবস্থানও চোখে পড়ার মতো।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের দর্শনা পৌরসভার নির্বাচনে সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ২৭ হাজার ৫১৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৩ হাজার ৫৭১ ও নারী ভোটার ১৩ হাজার ৯৪৬ জন। এছাড়া ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১৬টি ভোট কেন্দ্রে ৮২টি বুথে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।
জেলা নির্বাচন অফিসার ও দর্শনা পৌরসভা নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার তারেক আহমেমদ বলেন, ‘নির্বাচন সংক্রান্ত সকল প্রকার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ একটি নিবার্চন উপহার দিতে আমরা বদ্ধ পরিকর।’
প্রার্থী হিসেবে যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন:
মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী মতিয়ার রহমান, বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান বুলেট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আশকার আলী।
১ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আম্বিয়া খাতুন ও বিলকিস খাতুন। ২ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে খাতুন ও শিউলি আক্তার এবং ৩ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলর পদে সুরাতন নেসা, সেলিনা পারভীন, ফাহিমা খাতুন ও শাহিমা বেগম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
১ নম্বর ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- নাসির উদ্দিন খেদু, খালেকুজ্জামান খালেক, আজিজুর রহমান সুজন ও আনোয়ার হোসেন।
২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আব্দুল কুদ্দুস, এনামুল কবির ও সোহেল রানা।
৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- রবিউল হক সুমন, আনোয়ারুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।
৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- মনির সরদার, আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম, সোহেল মিয়া ও হাবিবুল্লাহ বাহার।
৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আব্দুল মিয়া, নজরুল ইসলাম, রাজিবুল ইসলাম, লাল্টু খান, লুৎফর রহমান, সাইফুল ইসলাম।
৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- কামরুল হুদা, রেজাউল ইসলাম ও হারুন-অর-রশিদ।
৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আয়নাল হক, কানচু মাতবার, মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবির হোসেন মিকা।
৮ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- চাঁন্দু মাস্টার, নাসির উদ্দিন, বাবুল আক্তার, বিল্লাল হোসেন ও শরীফ উদ্দিন।
৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁরা হলেন- আজিজুল হক, আশুর উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, বাবলুর রহমান, মঈন উদ্দিন ও সাইদুর রহমান।