চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২১ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

উত্তাল শ্রীলঙ্কা; রনিলই নতুন প্রেসিডেন্ট, মানছেন না বিক্ষোভকারীরা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ২১, ২০২২ ৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: গণবিক্ষোভে টালমাটাল শ্রীলঙ্কার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসা রনিল বিক্রমাসিংহেই (৭৩) দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমপি) ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ছয়বারের এই প্রধানমন্ত্রী। ২২৫ আসনের পার্লামেন্টে ১৩৪ ভোট পেয়েছেন তিনি। তবে নতুন প্রেসিডেন্ট পেলেও বিক্ষোভকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তারা রনিল বিক্রমাসিংহেরও পদত্যাগ চান। খবর আলজাজিরা, এএফপি শ্রীলঙ্কান মিররের। নজিরবিহীন আর্থিক সংকটে পড়া শ্রীলঙ্কায় গত মার্চ থেকে গণঅসন্তোষ চলছে। খাদ্য, জ্বালানি ওষুধ সংকটে জনগণ রাজপথে নেমে এলে একে একে পতন ঘটতে থাকে রাজাপক্ষে শাসক পরিবারের সদস্যদের। দুই দশক ধরে দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল পরিবারটি। গণবিক্ষোভের মুখে মাহিন্দা রাজাপক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বাসভবন ছেড়ে পালালে মেতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান পার্লামেন্টে ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টির (ইউএনপি) একমাত্র প্রতিনিধি রনিল বিক্রমাসিংহে। ১৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে দেশ ছেড়ে পলায়ন মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠালে ১৫ জুলাই ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন রনিল। এক সপ্তাহের মধ্যে হাজার কোটি ডলার বৈদেশিক ঋণের দায়ে ঋণখেলাপি দেশটির প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পেলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ। গতকাল প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন এমপি ভোটদানে বিরত একজন অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকায় ২২৩ ভোট কাস্ট হয়। এর মধ্যে চারটি ভোট বাতিল ঘোষণা করা হয়। অন্য দুই প্রার্থীর মধ্যে ক্ষমতাসীন শ্রীলঙ্কা পোডুজানা পেরামুনা (এসএলপিপি) দলের সিনিয়র আইনপ্রণেতা ডালাস আলাহাপ্পেরুমা (৬৩) পেয়েছেন ৮২ ভোট আর ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ারের নেতা অনুড়া কুমারা দিশানায়েক (৫৩) পেয়েছেন মাত্র ভোট। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে শুরুতে চারজন প্রার্থী থাকলেও আলাহাপ্পেরুমাকে সমর্থন দিয়ে শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান প্রধান বিরোধী দলএসজেবির নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা।

ছয়বার প্রধানমন্ত্রী হলেও কোনোবারই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি বিক্রমাসিংহে। রনিল বিক্রমাসিংহে গত দুটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও লড়াই করে হেরে গেছেন। গত নির্বাচনে বিক্রমাসিংহের দলের ভরাডুবির কারণে শ্রীলঙ্কার রাজনীতি থেকে অনেকটা হারিয়ে যেতে বসেছিলেন তিনি। তবে ক্ষমতাসীন রাজাপক্ষে পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে মেতে ষষ্ঠবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেন বিক্রমাসিংহে। দুই মাসের মাথায় বসলেন প্রেসিডেন্টের আসনে। কারণ গণবিক্ষোভে রাজাপক্ষে পরিবারের পতন হলেও পার্লামেন্টে এখনো তাঁদের দল শ্রীলঙ্কান পোডুজানা পেরামুনা সংখ্যাগরিষ্ঠ। আর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কার্যত তিনি তাঁদের প্রার্থী ছিলেন। রাজাপক্ষে পরিবারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বিক্রমাসিংহের পদত্যাগ দাবিতেও আন্দোলনে নেমেছিলেন। হামলা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে। এদিকে নির্বাচিত হওয়ার পর জনতার সমর্থন টানতে চেষ্টা চালাচ্ছেন রনিল। বিজয়ের পর পার্লামেন্টে ভাষণে রনিল বিক্রমাসিংহে বলেছেন, ‘সংকটে জর্জরিত শ্রীলঙ্কায় বিভক্তির অবসান হয়েছে। আমাদের মধ্যে এখন আর কোনো বিভক্তি নেই।তবে নতুন প্রেসিডেন্ট বিভক্তি অবসানের কথা বললেও আলজাজিরাকে বিক্ষোভকারীদের নেতা মেলানি গুনাথিলাকে বলেছেন, রনিল বিক্রমাসিংহে পদত্যাগ না করা পর্যন্তগোতাগোগামা (বিক্ষোভস্থল) তাঁদের সংগ্রাম এবং অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ভালো করেই জানি, গোতাবায়া আর রনিল বিক্রমাসিংহে একই লোক নন। তিনি (বিক্রমাসিংহে) আরও ধূর্ত লোক। সম্প্রতি তিনি জরুরি অবস্থা জারি করে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালিয়েছেন।বিক্ষোভকারীদের এমন অবস্থানের কারণে শ্রীলঙ্কা নতুন প্রেসিডেন্ট পেলেও দেশটির পরিস্থিতি সহসা শান্ত হবে বলে মনে হচ্ছে না।

কে এই বিক্রমাসিংহে

রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য আইনজীবী রনিল বিক্রমাসিংহে একসময় সাংবাদিক হতে চেয়েছিলেন। তাঁর চাচা জুনিয়াস জয়াবর্ধনে এক দশকের বেশি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৭৭ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিক্রমাসিংহে। সে সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন জুনিয়াস জয়াবর্ধনে। ওই সরকারেই সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হন তিনি। তামিল গেরিলাদের হাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট রানাসিংহে প্রেমাদাসা নিহত হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে প্রথমবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হন বিক্রমাসিংহে। অভিজ্ঞ এই রাজনীতিককে পশ্চিমাপন্থি বাজার সংস্কারবাদী হিসেবে মনে করা হয়। অর্থনৈতিক সংকটে ডুবতে বসা শ্রীলঙ্কাকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সহায়তা (বেল আউট তহবিল) এনে দিতে তাঁকে সম্ভাব্য আলোচক হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।