উত্তপ্ত হয়ে উঠছে গাংনীর রাজনৈতিক অঙ্গন মেহেরপুর গাংনীতে ইউএনওর অপসারনের দাবিতে আ.লীগের ঝাড়– মিছিল

274

Meherpur pic-02-02-17
গাংনী অফিস: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে দূর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার অপসারনের দাবিতে এবার ঝাড়– মিছিল করেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টার দিকে গাংনী রেজাউল চত্বর থেকে ঝাড়– মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও’র অপসারণেরস দাবিতে উপজেলা আ.লীগের ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম পেরিয়ে গেলেও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তারা আবারো এ কর্মসূচী দেয়। সমাবেশে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহিদুজামান খোকনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেক। আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোশারেফ হোসেন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি সানোয়ার হোসন বাবলু, সাধারণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম বাবু ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব হোসেন প্রমূখ। মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধরা। সমাবেশ শেষে আবারও এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দেওয়া হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামানকে অপসারনের। এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ না হলে আরো কঠোর কর্মসূচীর হুমকি দেন তারা। এম এ খালেক ইউএনওকে উদ্দ্যেশ্যে বলেন, আপনি আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। তাই আওয়ামীলীগের নেতারও আপনার সাথে খারাপ আচরণ করেছেন। জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা মোরাদ আলীর সাথে আতাত করে বিভিন্ন দুর্নীতি করে যাবেন, আর আওয়ামীলীগ বসে থাকবে তা হবেনা। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামানকে রাজাকার পরিবারের সন্তান আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তার অপসারণ দাবি করেন তিনি। উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাহিদুজামান খোকন প্রথমে মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি বলেন আমি কোনভাবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিইনি। যদি কোনভাবে তারা আমার কথায় কষ্ট পেয়ে থাকে তাহলে আমি তাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। নিজের সর্ম্পকে ও বাবার সর্ম্পকে বলতে গিয়ে খোকন বলেন, আমার বাবা তৎকালিন সময়ে মুসলিমলীগ করতো। পরবর্তিতে আওয়ামীলীগের ভোট দিয়ে তিনি মৃত্যু বরন করেছেন। আমি ছোট থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। ছাত্রলীগ যুবলীগ ও পরে আওয়ামীগের রাজনীতিতে এসেছি। ১৫ বছর ধরে আওয়ামীলীগের দায়িত্ব পালন করছি। আমাদের হাত ধরে বর্তমান গাংনীর এমপি মকবুল হোসেন আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে এসেছেন। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ-উজ-জামান জানান, আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক  দলীয় পদের অপব্যবহার করে সরকারী শিক্ষক ও আমাকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়েছেন। অশালীন আচরণ করে সরকারী কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়। তাই নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে তারা এমন কর্মসূচী দিচ্ছে। অন্যদিকে একের পর এক কর্মসূচীতে দিনের পর দিন গাংনীর রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যে কোন সময়ে রক্তাক্ত সংর্ঘষে রুপ নিতে পারে। পাল্টা পাল্টি বিক্ষোভ ও সমাবেশ ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে।  তবে মেহেরপুর পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, আমাদের দায়িত্ব আইনশৃংখলা ঠিক রাখা । তাই এলাকায় শান্তিশৃংখলা ধরে রাখার লক্ষ্যে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। যেকোন ধরনের নাশকতার চেষ্টাকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শার্ন্তিপূর্ণ মিছিল মিটিংয়ে আমাদের কোন বাধা নেই। কিন্তু কোন প্রকার পানি ঘোলা করার চেষ্টা করা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। উভয় পক্ষের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তাদের শার্ন্তিপূণ কর্মসূচীতে পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থাকছেন।  যেকোন ধরনের অপ্রতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।