চুয়াডাঙ্গা শুক্রবার , ১৫ জুন ২০১৮
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঈদ হক শান্তি, সহিষ্ণুতা ও সম্প্রীতির বার্তাবহ

সমীকরণ প্রতিবেদন
জুন ১৫, ২০১৮ ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আজ ২৯ রমজান সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা দিলে আগামীকাল শনিবার সারাদেশে উদযাপিত হইবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। নতুবা মুসলমানদের অন্যতম বড় ধর্মীয় এই উৎসব পালিত হইবে পরের দিন রবিবার। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর নতুন মাসের এই নতুন চাঁদ নিয়া আসে অনাবিল সুখ ও আনন্দ। মহানবী (স) যখন মক্কা হতে মদীনায় হিজরত করলেন, তখন তিনি দেখতে পেলেন, মদীনাবাসী নাচ, গান, খেলাধুলা ইত্যাদির মাধ্যমে ‘নওরোজ’ ও ‘মিহিরজান’ নামে দুইটি উৎসব পালন করছে। তিনি লক্ষ্যহীন এই আনন্দ উৎসবের পরিবর্তে মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধির মহিমায় ভাস্বর ও বহুবিধ কল্যাণধর্মী ঈদুল ফিতরের ঘোষণা করলেন। বললেন, ‘লিকুল্লি ক্বওমিন ঈদ। হা-জা ঈদুনা।’ অর্থাত প্রত্যেক জাতির বাৎসরিক আনন্দ উৎসব আছে। এই ঈদ হচ্ছে আমাদের জন্য সেই আনন্দ উৎসবের দিন। এইভাবে হিজরি দ্বিতীয় বর্ষে মুসলিম জীবনে প্রবর্তিত হয় ঈদ। আরবি ‘ঈদ’ শব্দটির শব্দমূল ‘আউদ’, অর্থ এমন উৎসব যা বার বার ফিরে আসে। এর ব্যবহারিক অর্থ খুশি-আনন্দ। অন্যদিকে ‘ফিতর’ শব্দের অর্থ ভেঙে দেয়া। তাই ঈদুল ফিতর অর্থ রোজা ভেঙে দেয়ার আনন্দ। ফিতরের আরেক অর্থ বিজয়। এক মাস রোজা পালন করে ধর্মপ্রাণ মানুষ তাহার ষড়রিপুকে দমন করার মাধ্যমে এক রকমের বিজয় লাভ করেন। এই দৃষ্টিতে ঈদুল ফিতরকে বিজয় উৎসবও বলা যায়। মূলত রমজানে মাসব্যাপী রোজা পালন, তারাবিহ-তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, যাকাত-ফিতরা প্রদান, লাইলাতুল কদর ও জুমাতুল বিদা পালন এবং চাঁদরাত্রে জাগরণ প্রভৃতি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মুমিন বান্দাহগণ তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করেন। লাভ করেন আত্মশুদ্ধির মহান দীক্ষা। ঈদুল ফিতর তারই পূর্ণতার সুসংবাদ নিয়ে আসে। এতে রোজাদারগণ মাসুম বা নিষ্পাপ ব্যক্তিতে পরিণত হন। এতে যে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করা যায়, তারই আনন্দঘন মুহূর্ত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। ঈদের দিন ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য সাদকায়ে জাকাত ও ফিতরা আদায় বাধ্যতামূলক হওয়ায় এই ব্যবস্থা হতে দীন-দুঃখী ও দুস্থজনেরা পরম উপকৃত হন। পরিকল্পিতভাবে যাকাত-ফিতরা দানের মাধ্যমে অনেকের দারিদ্র্য বিমোচন হয়। এরপর ঈদগাহের মাঠে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। এই ঈদের মাধ্যমে পূর্ববিরোধ ও শত্রুতা মিটাইয়া ফেলার এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয়। তাই ঈদুল ফিতর আমাদের ন্যায়, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য, মানবতা, দয়া, সহমর্মিতা, প্রতিবেশীর প্রতি সহানুভূতি ও মহামিলনের শিক্ষা দেয়। ঈদ আমাদের অন্যায়-অবিচার, ঘৃণা-বিদ্বেষ ও হানাহানি হতে বিরত থাকতে বলে। গত কয়েক বৎসরের মতো এবারও সরকার যথাযথ পূর্বব্যবস্থা গ্রহণ করায় সড়ক, ট্রেন ও নৌপথে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা তুলনামূলকভাবে কম। আমরা আশা করি, ঈদুল ফিতরের পর অনুরূপভাবে মানুষের কর্মস্থলে ফেরাও হবে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ। এই ঈদে আমরা সকলের নিরাপত্তা, স্থিতি, সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করি। সবাইকে জানাই ঈদুল ফিতরের অনাবিল প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।