ঈদে বন্ধ দূরপাল্লার বাস-ট্রেন-লঞ্চ

14

লকডাউন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বিধিনিষেধ বাড়ল ১৬ মে পর্যন্ত, জেলায় জেলায় চলবে সিটি সার্ভিস
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলমান ‘লকডাউন’ বা বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে লকডাউনের মধ্যে দূরপাল্লার পরিবহন, ট্রেন ও লঞ্চ আগের মতোই বন্ধ থাকবে। আগামী ৬ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার মধ্যে গণপরিবহন চলবে। তবে এক জেলার বাস অন্য জেলায় প্রবেশ করতে পারবে না। এবারের লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
এবার ঈদে বাড়ি ফেরায় মানুষের ভোগান্তি বাড়বে কি না- এ প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঈদে সরকারি ছুটি তো তিন দিন, এর মধ্যে দুই দিন পড়ছে শুক্র ও শনিবার। তিন দিনের বাইরে কোনো ছুটি দেয়া হবে না। সরকারি অফিস বন্ধ সেগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না- এমন প্রশ্বের জবাবে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, যেগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। লকডাউন কঠোরভাবে বাস্তবায়ানের জন্য প্রধানমন্ত্রী সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মানুষকে মাস্ক পরাতে সরকার কঠোর অ্যাকশনে যাচ্ছে। আজ থেকে পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশন এবং প্রশাসন দেশের প্রত্যেকটি মার্কেটে সুপারভাইজ করবে। যদি কোনো মার্কেটে বেশি লোক হয়, তা কন্ট্রোল করা যাবে না, তবে মাস্ক ছাড়া যদি বেশি লোকজন ঘোরাফেরা করে, তাহলে প্রয়োজনে সেসব মার্কেট বন্ধ করে দেব। দোকান মালিক সমিতি এ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। গত রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটা মিটিং হয়েছে এবং সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আজ মন্ত্রিসভাল বৈঠকে তা অনুমোদন দিয়েছে। আজ থেকে পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও ম্যাজিস্ট্রেট দেশের প্রত্যেক মার্কেট সুপারভাইজ করবেন। যদি কোনো মার্কেটে মাস্ক ছাড়া লোকজন ঘোরাফেরা করে তাহলে প্রয়োজনে আমরা সেসব মার্কেট বন্ধ করে দেব। এটা ক্লিয়ারলি বলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আমাদের কো-অপারেট করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন এবং ওনারা নিজেরাও এটা সুপারভাইজ করবেন।
তিনি জানান, আর ৬ মে থেকে গণপরিবহন জেলার ভেতরে চলাচল করতে পারবে। যেমন- ঢাকা জেলার মধ্যে থাকতে হবে। আন্তঃজেলা চলাচল করবে না। ওনারা আমাদের কথা দিয়েছেন, কোনোভাবে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি ভায়োলেট করা হবে না। যদি করা হয় তাহলে বন্ধ করে দেয়া হবে। এটা আমরা দেখবো। লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ থাকবে। যেহেতু ওগুলো এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যায়। সুতরাং, বন্ধ থাকবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাইভেটের কোনো ইন্ডাস্ট্রি এই সময়ে বন্ধ করা যাবে না। যেগুলো যেভাবে আছে সেগুলো ওভাবেই চলবে। কঠোর বিধিনিষেধের দ্বিতীয় ধাপে গত ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন নামে পরিচিতি পায়। এই বিধিনিষেধের মধ্যে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস ও গণপরিবহন আগের মতই বন্ধ আছে। তবে উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ চালাতে পারবে। শুরুতে লকডাউনে শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে গত ২৫ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
সড়ক, নৌ ও রেলপথে দূরপাল্লার যাত্রী বহন বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ইতোমধ্যে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ বিবেচিত দেশগুলো বাদে অন্য সব গন্তব্যে কঠোর শর্তসাপেক্ষে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে যাত্রী পরিবহনের অনুমতি দিয়েছে। লকডাউনের মধ্যে ব্যাংকে লেনদেন চলছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। সতর্কতার অংশ হিসেবে সীমিত জনবল দিয়ে বিভিন্ন শাখা চালু রেখেছে ব্যাংকগুলো।