চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ২০ জানুয়ারি ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসি গঠনে নতুন আইন আসছে; সদিচ্ছার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জানুয়ারি ২০, ২০২২ ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে অবশেষে একটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার। সংবিধানের যে বিধানটি গত ৫০ বছর ধরে উপেক্ষিত হয়ে এসেছে সেটি এবার পূরণ হতে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রিসভা এরই মধ্যে আইনের খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। যদিও মাত্র গত মাসেই আইনমন্ত্রী আইন প্রণয়নের বিষয়টি পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়ে বলেছিলেন, আইন করার মতো সময় হাতে নেই। এখন দেখা যাচ্ছে সময় আছে। এটি ভালো খবর। আমরা আইন প্রণয়নের বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখতে চাই। কিন্তু সমস্যা হয়েছে অন্য জায়গায়। সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন কমিশন গঠনের যে লক্ষ্যে আইন প্রণয়নের দাবি সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে করা হয়েছে, সরকারের অনুমোদিত খসড়ায় তার প্রতিফলন ঘটেনি। বরং সরকারের বিরুদ্ধে নিজের পছন্দের লোকদের দিয়ে কমিশন গঠনের সুযোগ ধরে রাখার কাজটিকে আইনি বৈধতা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ আমরা করছি এমন না। দেশের সব বিরোধী রাজনীতিক এবং সিভিল সোসাইটির শীর্ষ ব্যক্তিরাই এ কথা বলছেন। গতকাল এক রিপোর্টে তারা যেসব বক্তব্য দিয়েছেন আমরা সেটাই যথার্থ বিবেচনা করি।
খসড়া আইনে অনুসন্ধান (সার্চ) কমিটির মাধ্যমে সিইসি ও কমিশনার নিয়োগের সেই পুরনো কথাই বলা হয়েছে। ‘প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্র ব্যতীত রাষ্ট্রপতি তাঁহার অন্য সকল দায়িত্ব পালনে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কার্য করিবেন’ সংবিধানের এই ধারার বাইরে যাচ্ছে না নতুন ইসি গঠন আইন। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী ইসি নিয়োগ দেয়ার কোনো বিকল্প রাষ্ট্রপতির থাকছে না। অর্থাৎ অতীতের মতো পরবর্তী নির্বাচন কমিশনও গঠিত হবে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ীই। এ জন্যই রাজনীতিক ও রাজনীতির ঘনিষ্ঠ পর্যবেক্ষক, বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি হবে পুরোপুরি ‘নতুন বোতলে পুরনো মদ’ সরবরাহের ব্যবস্থা। কেউ বলেছেন, এটি হবে ‘যেই লাউ সেই কদু’। এমনকি যে শালীন ভাষা ব্যবহারে বিরোধী রাজনীতিকরা অভ্যস্ত কেউ কেউ সেটিও ভুলে গিয়ে বলে ফেলেছেন, ‘এসব কর্মকাণ্ড সরকারের ফোর-টুয়েন্টি বিজনেস’ মনে করি। সহজভাবে বললে, সরকার যে আঙ্গিকে আইনটি করতে যাচ্ছে তাতে সঙ্কট মোচনের পরিবর্তে তা আরো গভীরতর হওয়ার শঙ্কা সৃষ্টি হচ্ছে। একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনে জনগণের ঐকান্তিক আকাক্সক্ষা পূরণের কোনো সম্ভাবনা কেউ দেখতে পাচ্ছেন না। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের লক্ষ্যে যে আলোচনা চালিয়েছেন তা বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি বড় দলের বর্জনের মুখে এমনিতেই ব্যর্থ। তবে সাফল্য এটুকু যে, ক্ষমতাসীনরা এটিকে কৌশলে নিজেদের ইচ্ছাপূরণে ব্যবহার করতে পেরেছেন। সমস্যা হলো, গত ১২ বছরে ক্ষমতাসীনদের সব কৌশল কার্যত একটিই ফল দিয়েছে। মানুষের মনে বিরূপ ধারণা বদ্ধমূল করেছে। মানুষ তাদের থেকে দূরে সরে গেছে। কিন্তু সরকার সম্ভবত এখনো অনুধাবন করতে পারছে না যে, নিজেদের কর্তৃত্ববাদী আচরণের মধ্য দিয়ে তারা কেবল মানুষ থেকে দূরে সরে গেছে তাই নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বেও আস্থা হারিয়েছে। এই মুহূর্তে ক্ষমতাসীনরা যে দেশী-বিদেশী চাপের মধ্যে রয়েছে এর গুরুত্ব তারা উপলব্ধি করতে পারছে কি না সে বিষয়েই সন্দেহ জাগছে ইসি গঠন নিয়ে তাদের নতুন কৌশল নেয়ার মধ্য দিয়ে। মূলত, আন্তরিক সদিচ্ছার প্রমাণ দেয়া সরকারের নিজের স্বার্থেই অতি জরুরি। তেমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, এটিই বিস্ময়কর।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।