ইসলামে দ্বিমুখী চরিত্র পরিত্যাজ্য

353

ধর্ম ডেস্ক: ইমান ও কুফর তথা বাধ্যতা এবং অবাধ্যতা- এ দুই অবস্থার যে কোনো একটিই হবে মানুষের জীবনে। এ দু’য়ের মধ্যবর্তী কোনো অবস্থার কথা চিন্তা করা যায় না। অবশ্য একদল মানুষ আছে, যারা দৃশ্যত এ দু’অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থান করতে চায়। তারা নিজেদের মুমিন তথা আল্লাহর অনুগত বান্দা হিসেবে প্রকাশ করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা কাফের বা অবিশ্বাসীই থেকে যায়। এই শঠ বা বক্র লোকদের বলা হয়ে থাকে মোনাফেক। মুসলমানদের দলে এসে তারা নিজেদের মুসলমান বলে পরিচয় দেয়। এতে তারা চেষ্টা করে ফায়দা লোটার। অপরপক্ষে কাফেরদের কাছে গিয়ে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত বলে নিজেদের প্রকাশ করে, যাতে তাদের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট না হয়। কোরান ও হাদিসে মোনাফেকদের কঠোর নিন্দাবাদ করা হয়েছে। কেননা মোনাফেকরাই হলো নিকৃষ্ট শ্রেণীর মানুষ। তাদের দ্বারাই ইসলামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। তাই তাদের জন্য রয়েছে সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা। দ্বিমুখী নীতিই মোনাফেকদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। নিজের প্রত্যয় ও স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে ‘যখন যেমন তখন তেমন’ নীতি অবলম্বন করে তারা সর্বাবস্থায় ভালো থাকার ব্যর্থ প্রয়াস পায়। এই প্রবণতাই মানুষের চরিত্রের নিকৃষ্ট দিক। আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে তার প্রতি ইমান আনা মানুষের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হওয়া সত্ত্বেও কুটিলতা এবং বক্রতার আশ্রয় নিয়ে এই প্রধান কর্তব্য কর্মটি থেকে যারা উদাসীন থাকে, তাদের চেয়ে ঘৃণ্য মানসিকতার অধিকারী আর কাকে বলা যাবে? উভয় কূল রক্ষার এই ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে তারা প্রকৃতপক্ষে শান্তির কোনো সন্ধান পায় না; বরং তারা নিরন্তর অশান্তি ও অস্থিরতায় ভোগে। কেননা দু’পক্ষের কেউই তার প্রতি আস্থা রাখে না। এভাবে সে দুনিয়াবি জীবনেও ভোগ করে সার্বক্ষণিক যাতনা।