চুয়াডাঙ্গা বৃহস্পতিবার , ৭ এপ্রিল ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ইস্যু

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শুনানি ফের মুলতবি
সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
এপ্রিল ৭, ২০২২ ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব খারিজের সিদ্ধান্ত বৈধ হয়েছে কিনা তা নিয়ে শুনানি চলছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে। গতকাল বুধবার তৃতীয় দিনের মতো এ বিষয়ে শুনানি হয়েছে। কিন্তু গতকালও কোনো রায় ঘোষণা করা হয়নি। শুনানি ফের আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মুলতবি করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। দ্য ডন ও দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।
বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে পাঁচ বিচারকের বেঞ্চে মামলার শুনানি শুরু হলে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপিত উমর আতা বান্ডিয়াল মন্তব্য করেন, পার্লামেন্টে ডেপুটি স্পিকারের অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল নিয়ে হওয়া মামলার শুনানি বুধবারের মধ্যে শেষ করতে চেষ্টা করছে সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার শুনানির শুরুতে আদালতকক্ষে সরকার ও বিরোধীদলের বিপুলসংখ্যক রাজনীতিকের উপস্থিতি দেখা গেছে। শুনানি শেষ হলে বুধবারই সর্বোচ্চ আদালত তার রায় জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত দেয়ার ব্যাপারে চাপ থাকার কথা বুধবার প্রধান বিচারপতি বান্ডিয়াল নিজেও স্বীকার করেন। তবে দিন শেষে শুনানি আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
ইমরানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করে দেয়ার পর এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে আদালত। ডেপুটি স্পিকার অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ করতে পারেন কিনা সে বিষয়ে আদালত দ্রুতই একটি ‘যৌক্তিক আদেশ’ জারি করার কথা বললেও তা তৃতীয়বারের মতো পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
গত রোববার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম সুরি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব বাতিল করলে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হয়ে ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ডেপুটি স্পিকার অসাংবিধানিকভাবে অনাস্থা ভোট বাতিল করেছেন।
এরপর সোমবার ও মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে অনাস্থা ভোট বাতিলের রুলিংয়ের বিরুদ্ধে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন দেশটির প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্ডিয়াল, বিচারপতি মুনিব আখতার, বিচারপতি আইজাজুল আহসান, বিচারপতি মাজহার আলম ও বিচারপতি জামাল খান মন্দোখেল।
মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্ডিয়ালের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ গত ৩ এপ্রিল রোববারে পার্লামেন্টের নি¤œকক্ষের কার্যকলাপ সম্বন্ধে রিপোর্ট চেয়েছে। সেদিনই ডেপুটি স্পিকার ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব নাকচ করে ভোট বাতিল করেন।
আর গতকাল বুধবার আদালত ইমরান খান সরকারের আইনজীবীর কাছে বিদেশী ষড়যন্ত্রের প্রমাণ এবং এ বিষয়ে জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির বৈঠকের বিস্তারিত বিবরণ এবং কথিত সেই বিদেশী হুমকিযুক্ত চিঠি হাজির করতে বলেছেন।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি বান্ডিয়াল প্রশ্ন তোলেন, স্পিকার কিসের ভিত্তিতে এই রুল জারি করেছেন? তিনি আরো বলেন যে, এখনো পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই। ‘প্রমাণ উপস্থাপন না করে স্পিকার কি এমন একটি রায় ঘোষণা করতে পারেন?’ এই সাংবিধানিক পয়েন্টের ভিত্তিতেই আদালতকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে ইমরান খান সরকারের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভির প্রতিনিধি আলী জাফর বলেন, ডেপুটি স্পিকার একবার রুলিং জারি করার পর সেই রুলিংয়ের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই আদালতের।
উল্লেখ্য, গত রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে আনা বিরোধী জোটের অনাস্থা প্রস্তাব ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে পেশ করামাত্র তা খারিজ করে দেন ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। তার যুক্তি ছিল, বিদেশী শক্তির প্ররোচনায় আনা এই অনাস্থা প্রস্তাব আসলে সংবিধানবিরোধী এবং তা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই এ নিয়ে কোনো ভোটাভুটি হতে দিতে পারবেন না তিনি। এরপরেই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সুপারিশে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। তখন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন বিলাওয়াল জারদারি ভুট্টোসহ বিরোধীরা। স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে সুপ্রিম কোর্ট। সেই মামলার শুনানির দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এখন আমাদের বিবেচ্য বিষয় একটিই। কেন ডেপুটি স্পিকার অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল করে দিলেন? আমাদের প্রশ্নÑ তার সেই পদক্ষেপ কি সংবিধানবিরোধী ছিল? আমরা সব পক্ষকে সেই বিষয়টির ওপরেই নজর রাখতে বলব।’ বিরোধীদের দাবি, ইমরান খান পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে যা করেছেন তা গণতন্ত্রের নামে জরুরি ব্যবস্থা জারি করা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের দাবি, ভোটাভুটির আগে অনাস্থা প্রস্তাব বাতিল চরম অসাংবিধানিক পদক্ষেপ। গত রোববার অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, অ্যাসেম্বলির স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একটা পর্যায় পর্যন্ত পদক্ষেপ নিতে পারে শীর্ষ আদালত, তার থেকে বেশি কিছু করার ক্ষমতা তাদের হাতেও নেই।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্ট যদি ইমরানপন্থীদের পক্ষে রায় দেয় তাহলে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ মতো ৯০ দিন পরে সাধারণ নির্বাচন হবে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট যদি ইমরানের বিরুদ্ধে মত দেয়, তা হলে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হবে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে।
পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ইমরানের দলের : এ দিকে পাকিস্তানের পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছে ইমরান খানের দল পিটিআই। নির্দিষ্ট সময়ের আগে পাঞ্জাব প্রদেশের বিধানসভার অধিবেশন ডাকায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়। বুধবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে জিও নিউজ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ) দেশটির পাঞ্জাব প্রদেশের অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার দোস্ত মুহাম্মদ মাজারির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছে। পাঞ্জাব প্রদেশের অ্যাসেম্বলির অধিবেশন ১৬ এপ্রিলে ডাকার কথা থাকলেও তা তিনি ডেকেছিলেন বুধবার। নির্দিষ্ট সময়ের আগে পাঞ্জাব প্রদেশের বিধানসভার অধিবেশন ডাকায় তার বিরুদ্ধে এ অনাস্থা প্রস্তাব দেয়া হয়। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রাজনৈতিক সঙ্কট একটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার বিষয়ে পিটিআইয়ের মিত্রদল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (কায়েদে আজম গ্রুপ) বলেছে, এখন থেকে ডেপুটি স্পিকার দোস্ত মুহাম্মদ মাজারি আর অ্যাসেম্বলির অধিবেশন আহ্বান করতে পারবেন না।
তিনি আর অধিবেশন আহ্বান করার কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ নন। এর আগে জিও নিউজকে দোস্ত মুহাম্মদ মাজারি বলেছেন, পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির সচিবালয়ের কর্মীরা তাকে সহায়তা করছেন না।
তিনি আরো বলেছেন, তিনি সুপ্রিম কোর্টের আদেশে পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এরপরই পাঞ্জাব অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছে ইমরান খানের দল পিটিআই।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।