চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের মেয়েরা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২ ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন: সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সাফের ষষ্ঠ আসরের ফাইনাল ম্যাচে নেপালকে ৩-১ গোলে হারায় লাল-সবুজের মেয়েরা। বাংলাদেশের এ বিজয়ে নারী ফুটবল দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগেও একবার সাফের ফাইনাল খেললেও এবারই প্রথম শিরোপার স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের পর একমাত্র বাংলাদেশই এই শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে জোড়া গোল করেছেন কৃষ্ণা রাণী সরকার। একটি গোল করেছেন সামসুন্নাহার (জুনিয়র)। নেপালের একমাত্র সান্ত্বনার গোলটি করেন অনিতা বাসনেট।

২০১০ সালে শুরু হওয়া নারী সাফের প্রথম আসরটির স্বাগতিক হয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেবার সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় লাল-সবুজদের। এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল দল ভারত। আগের ৫টি আসরেরই শিরোপা জিতেছে তারা। নেপাল পূর্বে ফাইনাল খেলেছে ৪ বার। প্রতিবারই রানার্সআপ হয় তারা। বাংলাদেশ এর আগে ২০১৬ সালে ভারতে ফাইনাল খেলেছিল। কিন্তু ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারতকে হারাতে ব্যর্থ হয় তারা। তাই সেবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। তবে এবারের আসরে বাংলাদেশ ও নেপাল দুই দলই সফল ছিল ভারতের বিপক্ষে। যে কারণে নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে ফাইনালে নাম লেখায় এই দুই দল। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় ভারত। নিজেদের ঘরের মাঠে স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা নিয়ে এগিয়েছিল নেপাল। কিন্তু পারফরম্যান্সের বিচারে বাংলাদেশও পিছিয়ে ছিল না। ম্যাচে সম্ভাবনাটা ছিল ফিফটি ফিফটি। কিন্তু লড়াই করেও ছোটন বাহিনীর সঙ্গে পেরে উঠেনি স্বাগতিক দলটি।

দুই দলেরই প্রত্যাশা ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফাইনাল। দশরথের ১৫ হাজারেরও বেশি নেপালি সমর্থকও রুখে দিতে পারল না সাবিনা-কৃষ্ণাদের। যদিও ম্যাচের শুরুর দিকে দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল নেপাল। ম্যাচ শুরুর ৩ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেপালি ফুটবলার দীপাশাহীর দূরপালস্নার শট ঝাঁপিয়ে উঠে গ্রিপ করেন গোলরক্ষক রূপনা চাকমা। ৯ মিনিটে বাংলাদেশের একটি আক্রমণ রুখে দেয় নেপাল। শঙ্কা থাকলেও ইনজুরি কাটিয়ে প্রথম একাদশে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড সিরাত জাহান স্বপ্না। কিন্তু ১০ মিনিট খেলার পরই আবারও কাদাতে পড়ে গিয়ে মাথায় ব্যথা পান। স্বপ্নার বদলি হিসেবে সামসুন্নাহারকে (জুনিয়র) নামান ছোটন। মাঠে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই

কোচের আস্থার প্রতিদান দেন এই ফুটবলার। ১৪ মিনিটে প্রথম গোলটি আদায় করে নেয় ছোটন শিষ্যরা। ডান প্রান্ত থেকে মনিকা চাকমার ক্রস বক্সে জটলার মধ্যে থেকে জালে ঠেলে দেন সামসুন্নাহার জুনিয়র (১-০)। ২৪ মিনিটে সমতায় ফেরার একটা সুযোগ এসেছিল স্বাগতিকদের। তবে অমৃতা জেসির শট প্রথমে হাত ফসকে বের হয়ে গেলেও দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় আটকে দেন রূপনা। ২৮ মিনিটে বক্সের বা প্রান্ত থেকে ডান পায়ে জোড়ালো শট নিয়েছিলেন অনিতা কেসি। তবে এবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান রূপনা। ৩৬ মিনিটে বক্সের বেশ কাছেই ফ্রি কিক পায় নেপাল। অনিতার স্পট কিক ছিল নিশ্চিত গোল। দারুণ দক্ষতায় দলকে গোল হজমের হাত থেকে বাঁচান রূপনা। একের পর এক গোল আটকে দিয়ে নেপালের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ান এই গোলরক্ষক। কিছুক্ষণ পরই কর্নার থেকে উড়ে আসা বল পেয়ে পোস্টের কাছ থেকে শট নেন অনিতা। গোল লাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। ৪২ মিনিটে নিজেদের দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের বা প্রান্ত দিয়ে ঢুকে দারুণ শটে লক্ষ্যভেদ করেন কৃষ্ণা রাণী সরকার (২-০)। অফসাইডের আবেদন করেছিল নেপাল। তবে রেফারি গোলের সিদ্ধান্তই দেন। প্রথমার্ধ এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল পেতে মরিয়া নেপাল আক্রমণ শানাতে থাকে বাংলাদেশের অর্ধে। ৫৯ মিনিটে অনিতা বাসনেটের দূরপালস্নার শট গ্রিপ করেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক। তবে ৭০ মিনিটে একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হয় স্বাগতিকরা। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে অনিতা বাসনেটের শট আশ্রয় নেয় বাংলাদেশের জালে (২-১)। ম্যাচে যখন সমতার আশঙ্কা, ঠিক তখন ৭৬ মিনিটে বাংলাদেশের তৃতীয় গোলটি করেন কৃষ্ণা (৩-১)। আর এই গোলেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায় লাল-সবুজদের। প্রথমবার শিরোপার স্বাদ পায় বাংলাদেশ। পঞ্চমবারের মতো রানার্সআপ হয় নেপাল।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।