ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জমি খারিজ!

166

জীবননগর অফিস:
জীবননগরে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জমি খারিজ করার অভিযোগ উঠেছে। জীবননগরের দলিল লেখক সমিতির সদস্য সোয়েদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় সোয়েদ আটক হলেও হোতা জারিয়াতির রমজান রয়েছেন পলাতক। গতকাল বুধবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার প্রতাবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, বাঁকা ইউনিয়নের প্রতাবপুর গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে দিনমজুর শাহ আলম জমি খারিজ করার জন্য জীবননগর দলিল লেখক সমিতির সদস্য শহিদুল ইসলাম সোয়েদ আলীর যান। পরে এ ঘটনায় দলিল লেখক সোয়েদ হোতা রমজানের সহযোগিতায় জীবননগর উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেলিম রেজার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া খারিজের কাগজপত্র দেয়।
শাহ আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকার প্রয়োজন, সে জন্য জমিটা খারিজ করার জন্য দলিল লেখক সোয়েদ আলীর কাছে ৫ হাজার ২শ টাকা দিয়েছিলাম। পরে সে আমাকে খারিজের কাগজপত্র দেয়। আমি ওই সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলে তারা আমাকে জানান জমি খারিজ হয়নি। তার মানে সোয়েদ আমাকে ঠকিয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর কাছে তাৎক্ষনিকভাবে একটি লিখিত অভিযোগ করি।’
অভিযুক্ত দলিল লেখক শহিদুল ইসলাম সোয়েদ এ বিষয়ে বলেন, ‘আমি শাহ আলমের জমি খারিজ করার জন্য টাকা নিয়েছি এটা সঠিক। কিন্তু ওই জমি খারিজ করতে দিয়েছিলাম দলিল লেখক সমিতির সদস্য গঙ্গাদাশপুর গ্রামের রমজানের কাছে। সে কাগজপত্র জাল করেছে। এতে আমার কোনো দোষ নেই।’
এ ঘটনায় দলিল লেখক শহিদুল ইসলাম সোয়েদকে আটক করে জীবননগর থানা পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে জালচক্রের হোতা গঙ্গাদাশপুর গ্রামের রমজান গা’ঢাকা দিয়েছে।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে একটি অভিযোগ আসে যে দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে জমি খারিজ করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমি ওই মুহুরিকে আটকের নির্দেশ দিয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’