চুয়াডাঙ্গা মঙ্গলবার , ১ মার্চ ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইইউতে যোগদানে স্বাক্ষর ইউক্রেনের;কিয়েভ-মস্কোর বৈঠক সমাধান ছাড়াই সমাপ্ত

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
মার্চ ১, ২০২২ ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সমীকরণ প্রতিবেদন:
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-তে যোগদানের আনুষ্ঠানিক আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার এ আবেদনে স্বাক্ষর করেন তিনি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলেনস্কি নিজেই তার এ সংক্রান্ত আবেদনে স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ দিকে গতকাল বেলারুশে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই সমাপ্ত হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, জেলেনস্কি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একটি বিশেষ পদ্ধতির আওতায় অবিলম্বে ইউক্রেনকে সদস্যপদ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে তার দেশকে রক্ষা করা যায়। আনুষ্ঠানিক আবেদনে স্বাক্ষরের আগে এক ভিডিও বার্তায় ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হবে সব ইউরোপীয়ানের সাথে থাকা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সমতায় থাকা। আমি নিশ্চিত এটাই ন্যায্য এবং এটা সম্ভব।’
জেলেনস্কি জানান, মস্কোর আগ্রাসনের চার দিনে ১৬ শিশু নিহত হয়েছে এবং আরো ৪৫ জন আহত হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরোধকামী জনতাকে তিনি বীর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয়রা পৃথিবীকে দেখিয়েছে তারা কারা। আর রাশিয়া দেখিয়েছে তারা কী হয়ে উঠেছে।’ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনার প্রশমনে বেলারুশের সীমান্তে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক গতকাল শেষ হয়েছে। দ্বিতীয়বার আবার বৈঠকে শিগগিরই দুই পক্ষ একত্র হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেলারুশের সংবাদমাধ্যম বেলটা নিউজের বরাত দিয়ে এই খবর জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এর আগে গতকাল বেলারুশ সীমান্তে প্রিয়াপাত নদীর কাছে দুই দেশের প্রতিনিধিদল বৈঠকে মিলিত হয়।
ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসাই রেজনিকভ ও প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পদোলিয়াকের নেতৃত্বে ইউক্রেনের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। অপর দিকে রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন রুশ প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ভলোদিমির মেদিনস্কি ও পার্লামেন্ট সদস্য লিউনিদ সøাতস্কি। আলোচনার বিষয়ে দুই পক্ষই নিজ নিজ দেশের রাজধানীতে ফেরত গিয়ে অবস্থা জানাবে এবং পরবর্তী বৈঠকের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোচনা-পরামর্শ করে নেবে বলে জানিয়েছে গণমাধ্যমকে।
অবশ্য এই বৈঠক থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে প্রত্যাশার হার কম। বৈঠকের আগেই ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি ও ইউক্রেনীয় ভূমি থেকে রুশ সৈন্যদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি করেছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের সহায়তায় রুশ স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে পূর্ণমাত্রায় অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন।
বৈঠক শুরুর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রুশ সেনাদের অস্ত্র সংবরণ করার আহ্বান জানান। একই সাথে ইউক্রেনকে দ্রুত সদস্যপদ দেয়ার জন্য ইইউকে অনুরোধ করেন তিনি। বিবিসি জানিয়েছে, গতকাল ইউক্রেনের স্থানীয় সময় বেলা ১টার একটু আগে বেলারুশে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের মধ্যে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকলেও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজে নেই।
এ দিকে রুশ সৈন্যরা রাজধানী থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান নেয়া সত্ত্বেও কিয়েভ ইউক্রেনের হাতেই রয়েছে এবং শহরে দুই দিনের কারফিউ তুলে নেয়া হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশেষে স্বীকার করেছে যে, ইউক্রেনে আক্রমণের সময় তাদের বাহিনী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি। ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ অবশ্য সাড়ে পাঁচ হাজার রুশ সৈন্য হত্যার দাবি করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে যে, বেলারুশের একনায়ক আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো তার কিছু সৈন্যকে ইউক্রেনে আক্রমণে যোগ দেয়ার জন্য মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অন্য দিকে রাশিয়ার অর্থনীতিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে মস্কোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বৃদ্ধি করেছে এবং বিদেশীদের কাছে থাকা সিকিউরিটি বিক্রি করা থেকে দালালদের নিষেধ করেছে। ব্রিটিশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশের অন্য সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের সাথে লেনদেন করতে নিষেধ করা হয়েছে। রোববার এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, এই আলোচনার মধ্য দিয়ে সঙ্কট সমাধানে বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন না তিনি। তবে ছোট হলেও এই সুযোগকে তারা ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর কোনো চেষ্টা করেনি, কেউ যেন এমন অভিযোগ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই শান্তি আলোচনায় কিয়েভ যোগ দিচ্ছে বলেও তিনি জানান। এ ছাড়া কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই এ আলোচনা হচ্ছে বলে ইউক্রেন জানিয়েছে।
পরমাণু অস্ত্রের হুমকি বিভ্রান্তির চেষ্টা, বললেন ব্রিটিশ মন্ত্রী : যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন হুমকি দিয়েছেন যে, তার পারমাণবিক বাহিনী উচ্চ সতর্কতার মধ্যে রয়েছে। যার মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তার একটি প্রতিরোধব্যবস্থা রয়েছে এবং একই সাথে এটি ইউক্রেনে সংঘটিত বাজে পরিস্থিতি থেকে সবাইকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টাও বটে। বেন ওয়ালেস বিবিসি ব্রেকফাস্টকে বলেন, পুতিনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ‘তিনি এই সত্যটি ভুলে যেতে পারবেন না যে, এই মুহূর্তে তার একমাত্র সেরা বন্ধু বেলারুশের প্রেসিডেন্ট বলেই মনে হচ্ছে… তাকে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, তিনি অবশ্যই এখানে ইতিহাসের ভুল পক্ষকে সমর্থন করছেন।’ তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য রাশিয়ার পারমাণবিক ভঙ্গিতে পরিবর্তনের মতো কিছু দেখছে না।
ইউক্রেনকে ইইউর সদস্য করার আহ্বান : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার দেশটিকে এখনই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য করে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিও ভাষণে ৪৪ বছর বয়সী এই নেতা আহ্বান জানান, ‘নতুন বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখনই ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত করে নিতে আমরা আবেদন জানাচ্ছি।’ বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো সব ইউরোপিয়ানের সাথে একীভূত হওয়া। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা তা হলো সমানাধিকার। আমি নিশ্চিত, এটি ন্যায্য ও এটি সম্ভব।’ তিনি বলেন, মস্কোর আগ্রাসনে প্রথম চার দিনে ১৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ৪৫ জন। এই হতাহতদের তিনি ‘ইউক্রেনের বীর’ বলে সম্বোধন করেছেন। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান মিশেল ব্যাচেলেট গতকাল বলেছেন, চলমান এ সঙ্ঘাতে সাত শিশুসহ ১০২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে। কিন্তু তিনি মনে করেন, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।
২ মার্চের মধ্যে অভিযান শেষ করার নির্দেশ পুতিনের : ইউক্রেনে যে লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া এই অভিযান শুরু করেছে, তা এখনো অর্জিত হয়নি। তবে রাশিয়া বেশি সময় নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই ফেদরোভ। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পুতিন ২ মার্চের মধ্যেই জয় দিয়ে এই অভিযান শেষ করতে চান। আলজাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফেদরোভ বলেন, পুতিনের প্রাথমিক নির্দেশ ছিল ‘জয় দিয়ে ২ মার্চের মধ্যে অভিযান শেষ করা’। ফেদরোভ আরো বলেন, ইউক্রেনের প্রতিরোধ ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মস্কোর ধারণার চেয়েও শক্ত প্রতিরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে এর মধ্যেও দুই দেশের আলোচনার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী বলে জানান ফেদরোভ। সাবেক এই মন্ত্রী আরো বলেন, ‘কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনা হওয়া উচিত।’
নিষেধাজ্ঞার বিকল্প হলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ-বাইডেন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিকল্প হলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ব্লগার ব্রায়ান টাইলার কোহেনের সাথে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন বাইডেন। রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাসের খবরে এসব তথ্য জানানো হয়। সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বাইডেন বলেন, ‘দুটো বিকল্প আমাদের হাতে আছে। এক, তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করা, রাশিয়ার সাথে সরাসরি যুদ্ধে যাওয়া। দুই, যে দেশটি আন্তর্জাতিক সব নিয়মনীতি লঙ্ঘন করছে, তার জন্য তাকে মূল্য দিতে বাধ্য করা।’ কোহেনের ইউটিউব পেজে এই সাক্ষাৎকারের ভিডিও প্রকাশ করা হয় গত শনিবার। বাইডেন আরো বলেন, কোনো নিষেধাজ্ঞায় সত্বর হচ্ছে না। তবে তিনি জানান, এসব নিষেধাজ্ঞা হবে ব্যাপক এবং ইতিহাসের বৃহত্তম। এর মধ্যে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও আছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দখলের দাবি প্রত্যাখ্যান ইউক্রেনের : রুশ সেনারা ইউরোপের বৃহত্তম জেপোরজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দখল করেছে বলে রাশিয়া যে দাবি করেছিল ইউক্রেনের কর্মকর্তারা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রচালিত পারমাণবিক কোম্পানি এনারগোটম সংবাদ সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে বলেছে যে, মস্কোর এই ধরনের দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
এর আগে সোমবার রাশিয়া বলেছিল যে, তাদের সৈন্যরা কেন্দ্রটি দখল করেছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ এক বিবৃতিতে বলেছেন : ‘রাশিয়ান সেনারা জেপোরজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকা সম্পূর্ণভাবে পাহারা দিচ্ছে এবং নিয়ন্ত্রণ করছে।
দেশ ছেড়ে পালিয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক ইউক্রেনীয়: ইউক্রেনে ২৪ ফেব্রয়ারি রুশ আগ্রাসন শুরুর পর এ পর্যন্ত দেশটি ছেড়ে পালিয়েছে পাঁচ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয়। ভিনদেশে শরণার্থীর জীবন বেছে নিয়েছে তারা। গতকাল সোমবার জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এ তথ্য জানিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
টুইটারে দেয়া পোস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর প্রধান ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জাতিসঙ্ঘের তরফে মানবিক তৎপরতার প্রচেষ্টা জোরদারের কথা জানান তিনি।
আটক রুশ সেনাদের ভিডিও ভাইরাল : ইউক্রেনে আটক হওয়া রুশ সেনাদের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, ওই সেনা সদস্যরা বলছেন তারা যুদ্ধ চান না এবং বাড়ি ফিরে যেতে চান। এ ছাড়াও নিজেদের কমান্ডারের হাতে প্রতারিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা। খারকিভে ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতে আটক হয় রাশিয়ার পাঁচ সেনা সদস্য। তাদের একটি ভিডিওটি রোববার সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। সোমবার নাগাদ ভিডিওটি সাত লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে।
ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি হাত বাঁধা পাঁচ সেনার প্রত্যেকের সাক্ষাৎকার নেন। তাদের কাছে জানতে চান কেন তারা ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়েছে। ওই সেনারা প্রত্যেকে নিজের ইউনিটের পরিচয় প্রকাশ করেন। ইউক্রেনে প্রবেশের কারণ জানতে চাইলে প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর দেন।
সোমবার ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এখন পর্যন্ত রাশিয়ার পাঁচ হাজার ৩০০ সেনা নিহত হয়েছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী রাশিয়ার ১৯ ট্যাংক, ২৯ যুদ্ধবিমান, ২৯ হেলিকপ্টার এবং অনেক সামরিক পরিবহন বিমান ধ্বংস করেছে।
ভারত-পাকিস্তানের এক সুর : দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক শক্তিধর দুই প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দ্বন্দ্বের কথা সবাই জানে। বহু ইস্যুতে দুই পক্ষকে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিতে দেখা গেছে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ ইস্যুতে অনেকটা একই পথের পথিক ভারত ও পাকিস্তান। উভয় দেশই সরাসরি রুশ আগ্রাসনের প্রতিবাদ না জানিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে শুধু শান্তি বজায় রাখার কথা বলেই ক্ষান্ত।
গত রোববার ইউক্রেনীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি। এ সময় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এর দুই দিন আগে রাশিয়া যে দিন ইউক্রেন আক্রমণ করল, সেদিন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের কাছে ফোন করেছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। সেখানেও তার বক্তব্যের ভাষা ছিল প্রায় একই। ভারত সরকারের বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী মোদি তার বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের মতপার্থক্য শুধু সৎ ও আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হতে পারে। তিনি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ এবং সংলাপের পথে ফিরতে সব পক্ষ থেকে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।