আ.লীগের ইশতেহারে মধ্যম আয়ের দেশের রূপকল্প

796

index2সমীকরণ ডেস্ক: বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উন্নীত করার টার্গেট নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করছে আওয়ামী লীগ। এর সঙ্গে যোগ হবে ব্লু ইকোনমি (সমুদ্র অর্থনীতি) ও শিক্ষিত যুব সমাজকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর কৌশল। মূলত দলের সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনে অনুমোদিত ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্রই হবে ইশতেহারের মূল ভিত্তি। জুলাই মাসের শেষদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করবে আওয়ামী লীগ। এর আগে জুনের মধ্যে ইশতেহারের প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। এ লক্ষ্য নিয়ে জানুয়ারি থেকে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করে ক্ষমতাসীন দলটি। অতীতেও নির্বাচনের দুই বছর আগে ইশতেহার তৈরির কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ। আগেরবারের তুলনায় এবারের ইশতেহারে গুরুত্ব দেয়া হবে দেশের সুদূরপ্রসারি উন্নয়নকে। এ প্রসঙ্গে দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সরকারে টানা আট বছর থাকার পর সামনের নির্বাচনী ইশতেহারটি করতে হচ্ছে নানা হিসাব-নিকাশ করে। এরই মধ্যে কাজ প্রায় গুছিয়ে আনা হয়েছে। জুনের মধ্যে খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। এরপরই তা কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপস্থাপন করা হবে। পরে এ নিয়ে আলাদা একটি ছোট বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। তারা ইশতেহারের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই করবে। এরপর তা তুলে দেয়া হবে দলীয় সভাপতির কাছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা ইশতেহার তৈরি করতে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। মূলত সেই আলোকেই ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। আবদুর রহমান বলেন, এবারের ইশতেহারে প্রধান টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে কিভাবে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা যায়। এর আগে চলতি বছরের ১৫ই জানুয়ারি ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো ইশতেহার তৈরির ঘোষণা দেন। ওইদিন তিনি বলেন, সামনে ইলেকশন। তার জন্য ইশতেহার ঠিক করবো। সেটা এখনই ঠিক করতে হবে। আগের নির্বাচনে আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার অধিকাংশই পূরণ করেছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির চেয়েও বেশি কাজ করেছি। এদিকে দলের কয়েক শীর্ষ নেতা জানান, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিয়ে মামলা করে জয় পায় বাংলাদেশ। এর ফলে বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্রসীমার অধিকারী হয়েছে। এ সমুদ্রসীমায় বিপুল পরিমাণে সম্পদ রয়েছে। এ সম্পদ উত্তোলন ও দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোকে ব্লু-ইকোনমি বলা হচ্ছে। সমুদ্র অর্থনীতিকে কিভাবে কাজে লাগানো হবে, সমুদ্রের তলদেশের সম্পদ আহরণে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হবে সে বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে ইশতেহারে। দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে এবং জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যুব সমাজ। শিক্ষিত যুবকদের কাজে লাগানোর বিষয়েও ইশতেহারে দিকনির্দেশনা থাকবে। এছাড়া জ্বালানি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে এ খাতের উন্নয়নে করণীয় সম্পর্কে ইশতেহারে ঘোষণা থাকবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, সব ধরনের উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণাও থাকবে দলের ইশতেহারে। দেশের উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য ১০টি অগ্রাধিকারের পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক খাতে চলমান অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা এবং ভবিষ্যৎ করণীয়ও স্পষ্ট করা হবে। তারা জানান, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে জনমানুষের আকাক্ষা বেশি প্রাধান্য পাবে। এছাড়া অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পে গুরুত্ব, এসডিজি বাস্তবায়নের সহায়ক কর্মসূচি প্রণয়নসহ নতুন নতুন বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানা তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। আগামী ইশতেহারে থাকতে পারে একটি নতুন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার ঘোষণাও। কারণ, চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে ২০২০ সালে। তারপর থেকে শুরু হবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা। ইশতেহারে এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। এছাড়া আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় থাকবে সুস্পষ্ট নির্দেশনা। সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ ২০২১ সাল পর্যন্ত রূপকল্প আগেই দিয়েছে। ২০৪১ সালের রূপকল্প কি হবে সেটাও চূড়ান্ত করা হচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার পরিকল্পনা সামনে রেখে অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি চিহ্নিত করা হচ্ছে। এদিকে ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রণয়নের অগ্রগতি তুলে ধরে পরবর্তী ধাপে করণীয় নিয়ে বলা থাকবে। ‘সুশাসন ও গণতন্ত্র’ নামের একটি অধ্যায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা থাকবে ইশতেহারে। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। ওই ইশতেহারে চমক ছিল ভিশন-২০২১। নেতারা মনে করেন, ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়কে নিশ্চিত করতে ইশতেহারের এ ভিশন-২০২১ চমক, পরিকল্পনা, প্রতিশ্রুতি ও দিকনির্দেশনা বড় ভূমিকা রাখে। ক্ষমতায় আসার পর গত মেয়াদে ও বর্তমান মেয়াদকালে ভিশন-২০২১ সামনে রেখে কাজ করে। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং এরপর ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারে আছে আওয়ামী লীগ। দ্বিতীয় মেয়াদের চার বছর চলছে এখন। আগামী নির্বাচনের বাকি দেড় বছর। এরই মধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী বাছাইয়ের পদ্ধতি ও প্রার্থীদের যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ বিষয়ে গবেষণা চলছে। শুরু হয়েছে জেলা ও বিভাগে সাংগঠনিক সফর। দলের কোন্দলপ্রবণ এলাকায় কি কৌশল নেয়া হবে তাও নির্ধারণ করা হচ্ছে।