আসামী পক্ষের ঘর-বাড়ি ক্ষেত-খামার বসত বাড়িতে অব্যহত হামলা

593

চুয়াডাঙ্গা গাঁড়াবাড়িয়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে একজন নিহতের ঘটনায়
নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদরের গাঁড়াবাড়িয়া বাগানপাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে কৃষক আশাবুল ওরফে আসাব উদ্দীন নিহতের ঘটনায় আসামী পক্ষের ঘর-বাড়ি, ক্ষেত-খামার, দোকান-পাটের উপর হামলা অব্যহত রয়েছে। পর পর দু’দিনে তাদের পেয়ারাবাগান, আম বাগান, কলা বাগান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকী বসত বাড়িতেও হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অব্যহত হামলায় অন্তত ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। আসামী পক্ষের পুরুষ সদস্যরা গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রামে না থাকার সুযোগে একটি মহল রাতের আধারে এ কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানায়।
গতকাল বুধবার সকালে কৃষকেরা মাঠে এসে দেখতে পায় বাগানপাড়ার মাঠের যে পেয়ারা বাগানে আগেররাতে হামলা চালিয়ে তছরুপ করা হয়েছিল তা এবার সম্পূর্ণই কেটে সাবাড় করে দেয়া হয়েছে। দু’দফা হামলা চালিয়ে সাড়ে ৯ বিঘা জমির প্রায় দু’হাজার পেয়ারা গাছ কেটে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও তাদের দেড় বিঘা জমির আমবাগান কেটে দেয়া হয়েছে। কেটে বিনষ্ট করা হয়েছে তাদের জমি লিজ নিয়ে চাষ করা সাহাজুলের ১০ কাটা জমির অর্ধশতাধিক কলাগাছ ও তার নিজ মালিকানা ১ বিঘা জমির পেয়ারাবাগান। এদিকে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশরাফুল ওরফে আসাব উদ্দীন হত্যা মামলার আসামী ইকরামুল হক ইকরার বসত বাড়িতে ঢুকে কে বা কারা বাড়ির মধ্যে থাকা বিচুলির স্তুপে আগুন লাগিয়ে দেয়। তবে বড় কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও বাড়িতে থাকা নারী সদস্যরা আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে বলে জানা যায়। এ ছাড়াও ইকরামুলের ভাই আশরাফুলের মুদি দোকানে রাতের আধারে লুটপাট চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। লুটেরারা নগদ ৪০ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ীক কাজে ব্যবহৃত দু’টি মোবাইলের ৩৫ হাজার টাকাসহ মোবাইল দু’টি নিয়ে যায়; যার নম্বর- ০১৮৩২-৬১২২৯১, ০১৭৯৪-৭১২৭৯৪।
এ প্রসঙ্গে আসামী আশাদুলের স্ত্রী সমীকরণকে জানান, রাতের আধারে কে বা কারা আমাদের সম্পদ নষ্ট করছে তা দেখতে পাচ্ছি না। কিন্তু শক্রতামূলক ভাবে একটি চক্র এ কাজ করছে। এদের মধ্যে কাদের, নাসির, জাহের আলী, আবু সামা, আমজেদ, ফজলু উল্লেখযোগ্য। তবে বাড়িতে পুরুষ সদস্যরা না থাকার সুযোগে তাদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানায়, ইকরামুলের বাড়ির মধ্যে থাকা বিচুলী গাদায় আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সেখানে থাকা ফোর্স ছুটে যায়। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ করা হয়নি।