আসছে ১৪ দিনের ‘শাটডাউন’!

35

গোটা দেশই ঝুঁকিতে; যেকোনো সময় ঘোষণা বললেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
সমীকরণ প্রতিবেদন:
করোনাভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকাতে পুরো দেশ ১৪ দিনের জন্য ‘সম্পূর্ণ শাটডাউন’ করার পরামর্শ দিয়েছে সরকারের করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি (এনটিএসি)। কমিটি এই সময়ে জরুরি সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির গত বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত ৩৮তম সভায় এ বিষয়ে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জাতীয় কমিটি। এদিকে সারা দেশ কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ ‘শাটডাউন’ করতে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশকে যৌক্তিক মনে করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, সরকারেরও এ ধরনের প্রস্তুতি আছে। যে কোনো সময় সরকার তা ঘোষণা দেবে। তিনি বলেন, সরকার করোনা পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনটিএসি জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে সারা দেশেই করোনার উচ্চ সংক্রমণ, ৫০টির বেশি জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। করোনা প্রতিরোধের জন্য খন্ড খন্ডভাবে নেওয়া কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পাশের দেশ ভারতের উদাহরণ টেনে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সম্পূর্ণ শাটডাউন দেওয়ার সুপারিশ করে এনটিএসি। এনটিএসির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই এবং জনগণের জীবনের ক্ষতি প্রতিরোধে কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ শাটডাউন দেওয়ার সুপারিশ করছে।
এনটিএসি জানায়, সেবা ছাড়া যানবাহন, অফিস-আদালতসহ সবকিছু বন্ধ রাখা প্রয়োজন। এ ব্যবস্থা কঠোরভাবে পালন করতে না পারলে আমাদের যত প্রস্তুতিই থাকুক না কেন চিকিৎসাব্যবস্থা অপ্রতুল হয়ে পড়বে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্যান্য দেশ, বিশেষত পাশের দেশ ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় কঠোর ব্যবস্থা ছাড়া এর সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও এ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাদের থেকে জানা যায় যেসব জায়গায় পূর্ণ শাটডাউন করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে সরকার এ বছর প্রথমে ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন চলাচলসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। পরে তা আরও দুই দিন বাড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আরও কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ শুরু হয়। পরে তা আরও আট দফা বাড়িয়ে ১৫ জুলাই পর্যন্ত করা হয়। এর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও বিভিন্ন এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। এ ছাড়া করোনার বিস্তার রোধে ঢাকার আশপাশের সাত জেলায় কঠোর বিধিনিষেধ দিয়ে রাজধানী ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চলছে। এ অবস্থার মধ্যে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সারা দেশে সম্পূর্ণ শাটডাউনের সুপারিশ করেছে।
শাটডাউনের সুপারিশ যৌক্তিক, যে কোনো সময় ঘোষণা- জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী :
সারা দেশে কমপক্ষে ১৪ দিন সম্পূর্ণ ‘শাটডাউন’ করতে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশকে যৌক্তিক মনে করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেন, সরকারেরও এ ধরনের প্রস্তুতি আছে। যে কোনো সময় সরকার তা ঘোষণা দেবে। গতকাল গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।
কমিটির সুপারিশের বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সারা দেশে ১৪ দিনের পূর্ণ শাটডাউনের সুপারিশ সক্রিয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। সরকার করোনা পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় যে কোনো সময় যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যেহেতু করোনার সংক্রমণ বাড়ছে সেজন্য দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয়ভাবেও কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় তা চলছে। সেখানে তা কার্যকরও হচ্ছে। এখন ঢাকার চারপাশের সাত জেলায়ও কঠোর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সরকার কিছুদিন ধরেই গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখন জাতীয় পরামর্শক কমিটি যে সুপারিশ করেছে তা যৌক্তিক। সরকারেরও ইতিমধ্যে এ ধরনের প্রস্তুতি আছে। সরকারও কঠোর বিধিনিষেধের চিন্তাভাবনা করছে। যে কোনো সময় সরকার তা ঘোষণা দেবে।