চুয়াডাঙ্গা বুধবার , ২১ ডিসেম্বর ২০১৬
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষে ৫৫ পোশাক কারখানা বন্ধ সরকারের কঠোর হুশিয়ারি কাজে না ফিরলে বেতন নয় : বিজিএমইএ

সমীকরণ প্রতিবেদন
ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ২:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

gfdyg

সমীকরণ ডেস্ক: আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ফের পোশাকশ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে জামগড়া, বাইপাইল ও নরসিংহপুর এলাকার ১৫টি কারখানার শ্রমিকরা কর্মস্থলে যোগ দিয়েই কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে তারা কারখানা থেকে বের হয়ে যান। এ সময় এসব কারখানার আশপাশের আরও ৪০টি কারখানা কর্তৃপক্ষ ভাংচুর এড়াতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলে সেসব কারখানার শ্রমিকরাও কর্মস্থল ত্যাগ করেন। পরে বিজিএমইএ ঘোষণা নিয়ে এই ৫৫টি পোশাক কারখানা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেন। শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মজুরির দাবিসহ ১৬ দফা দাবিতে শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি করে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছেন। বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানার মালিক ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করলেও ঠেকানো যাচ্ছে না শ্রমিক বিক্ষোভ। সরকারের আশ্বাসে শ্রমিক নেতারা সব শ্রমিকদের মঙ্গলবার কাজে যোগ দেয়ার কথা বললেও গতকাল সকালে স্টার্লিং ক্রিয়েশন, স্টার্লিং স্টাইল, সেড ফ্যাশন, উইন্ডি গ্রুপ, জেবিএস, ডিজাইনার জিন্স, বান্দু ডিজাইন, সেতারা অ্যাপারেলস, দ্য রোজ ড্রেসেস, এএম ডিজাইন, মেডলার, শারমিন গ্রুপ, গ্রিনলাইফ ও সেডফ্যাশনের শ্রমিকরা কর্মস্থলে যোগ দিয়ে উৎপাদন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন। পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা থেকে বের হয়ে যান। এ সময় এসব কারখানার পাশে অবস্থিত ডেকো ডিজাইন, পারএক্সেল, এনভয় গ্রুপ, পলমল গ্রুপ, ডংলিয়ান, ফ্যাশন এইড, ফারইয়ার, ফ্যাশন ক্রাফট, এনারেল, বার্ডস গ্রুপ, উসাইন এন্ড ডিজাইন, ফাউনটেন, নাভা নিটওয়্যারসহ প্রায় ৪০টি কারখানা কর্তৃপক্ষ যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পরে ওই সব কারখানার শ্রমিকরাও কারখানা থেকে বের হয়ে যান। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে অবস্থান করতে চাইলে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরে যান।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে আশুলিয়া প্রেসক্লাবে আশুলিয়া গার্মেন্টসশ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আয়োজনে তাৎক্ষণিক এক সংবাদ সম্মেলন করেন শ্রমিক নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের মধ্যে সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি শ্রমিকদের দ্রুত কাজে যোগদানের আহ্বান জানান। তিনি শ্রমিকদের কাজে যোগদানের ব্যাপারে যদি কোনো ইন্ধনকারী থাকে তাকে আটক করে প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান। এরপরও যদি কোনো কারখানার শ্রমিক উৎপাদন বন্ধ রাখেন তাহলে সে কারখানার শ্রমিকদের জন্য ‘নো ওয়ার্ক নো পে’র সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া শ্রমিকদের কাজে যোগদানের জন্য খোলা জিপে মাইকিং করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিক সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাকশিল্প শ্রমিক লীগ, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশন, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন ও স্বাধীন বাংলা গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর থেকে কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ন্যূনতম বেতন ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রণয়ন, শ্রম আইনের ২৭ এর ৩(ক), ১৩(১) ধারা বাতিল, কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাজিরা বোনাস বৃদ্ধি, দৈনিক লাঞ্চ ভাতা বৃদ্ধি, যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধি, শুক্রবারের কাজের জন্য দ্বিগুণ ওভার টাইমের বিল, যখন-তখন শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা, কর্মক্ষেত্রে মৃত হলে আজীবন আয়ের ক্ষতিপূরণ দেয়া, রানা প্লাজা, তাজরীন ফ্যাশন, টাম্পাকো, কালার ম্যাক্স বিডি লিমিটেডসহ সব দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করা, শিল্প অঞ্চলে সরকারি হাসপাতাল, স্কুল ও কলেজ নির্মাণ করা, মহিলা শ্রমিকদের মাতৃকালীন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের আবাস ও পরিবহন সুবিধা এবং রেশনিং ব্যবস্থা চালু করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।
শ্রমিক বিক্ষোভের মুখে বাধ্য হয়ে সাভারের আশুলিয়ায় ৫৫টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। মঙ্গলবার কারওয়ান বাজারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংগঠনটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, এখন থেকে এসব কারখানায় শ্রমিকরা যত দিন কাজে যোগ দেবে না তত দিনের বেতন তারা পাবে না। শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছেন কারখানার মালিকরা। সিদ্দিকুর অভিযোগ করেন, মালিকপক্ষ ও সরকারের কাছে বার বার সমঝোতার প্রতিশ্রুতি দিয়েও শ্রমিকরা অযৌক্তিক কারণে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, বৈঠকে আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও মঙ্গলবার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি। তারা কার্ড পাঞ্চ করে চলে গেছে। তাই কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং তারা বেতন পাবে না। শ্রমিকদের দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন আছে কি-না তা খুঁজে বের করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান বিজিএমইএ সভাপতি।
তিনি বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পর পর বেতন বাড়ানো হয়। এখন মাত্র তিন বছর পার হয়েছে। আর দুই বছর পর বেতন বাড়ানোর সময় হবে। এই পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বাজার হারানোর শঙ্কা প্রকাশ করে সিদ্দিকুর বলেন, ‘ভারত অনেক বেশি ভর্তুকি দিচ্ছে, আমাদের বাজার তারা নিয়ে যাচ্ছে। তারা ঘোষণা দিয়েই নেমেছে। এমনিতেই আমরা অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পার হচ্ছি। এই অবস্থা চলতে থাকলে আমরা বাজার হারাব।’

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।