চুয়াডাঙ্গা শনিবার , ৯ জুলাই ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আল্লাহর রাহে পশু কোরবানি ; দূরীভূত হোক মনের কালিমা

সমীকরণ প্রতিবেদনঃ
জুলাই ৯, ২০২২ ৯:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদুল আজহা আর কোরবানি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আগামীকাল রোববার দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। আল্লাহপ্রেমের পরম নিদর্শন উপলক্ষে বায়তুল্লাহর হজ আর তাঁর রাহে নিজের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু উৎসর্গের বিধান হিসেবে কোরবানি বিশ্বাসীর জীবনের উল্লেখযোগ্য প্রধান দিক। আল্লাহ দুনিয়ায় মানবজাতিকে পাঠিয়েছেন নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে। ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনে মানুষ এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টার অধীনতা-বাধ্যতা স্বীকার করে তাঁর বিধান অনুসারে চলতে হবে। এভাবে পরকালীন স্থায়ী জীবনের পাথেয় সংগ্রহ করবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য। ‘মুসলিম’ শব্দের অর্থ আল্লাহতে সমর্পণ, মানে স্রষ্টার নাজিল করা আয়াতের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ। আল্লাহতে বিশ্বাসীর জীবনের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে বায়তুল্লাহর হজ। স্রষ্টার প্রতি বান্দার আনুগত্য আর অনুরাগের যে ক্রমোন্নতি অর্জিত হয়, এর পরম অভিব্যক্তি ঘটে হজে। তাই প্রত্যেক মুমিনের জীবনে অন্যতম আকাক্সিক্ষত বিষয় এটি। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আল্লাহতে বিশ্বাসী মানুষ সমবেত হন প্রাচীন নগরী মক্কায়। হজ আল্লাহপ্রেমে ব্যাকুল বান্দার আকুল অভিব্যক্তি। তখন তাঁর সান্নিধ্যে উপনীত হওয়ার চেষ্টা চলে সব ভূষণ ত্যাগে। ধনী-গরিব সবাই সাদাসিধা একই পোশাকে আল্লাহর ঘরের চারপাশে তাওয়াফ করেন। মানুষ হিসেবে তারা সাম্য ও মৈত্রীর যে নমুনা পেশ করেন, তা অতুলনীয়। এ জন্য বায়তুল্লাহর হজ এক দিকে যেমন ইবাদত ও আধ্যাত্মিক সাধনার উচ্চ অবস্থান, তেমনি সাম্য ও সৌভ্রাতৃত্বের উজ্জ্বলতম দৃষ্টান্ত।

বায়তুল্লাহর হজের মাস জিলহজের সাথে রয়েছে আরেক ইবাদত। ৯ তারিখে আরাফায় অবস্থান আর ১০ তারিখে তাওয়াফে জিয়ারত হজের দু’টি প্রধান কর্তব্য। ১০ তারিখে হাজিদের জন্য আরো একটি অতি জরুরি করণীয় হলো কোরবানি করা। যারা হজে যাননি, তাদেরও হাজীদের মতোই একই দিনে কোরবানি করতে হয়। কোরবানি হচ্ছে হজরত ইবরাহিম আ:-এর স্মরণ। বস্তুত তাঁর অনুসরণে নিজের প্রিয় বস্তু আল্লাহর উদ্দেশ্যে উৎসর্গই ইসলামী পরিভাষায় কোরবানি। মুসলিম উম্মাহর রূহানি পিতা হজরত ইবরাহিম আ: যেসব কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন, তার একটি হলোÑ প্রিয়তম সন্তানকে আল্লাহর রাহে কোরবানি করা। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করে আল্লাহর নির্দেশ পালনে সব উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু মহান আল্লাহ চাইছিলেন ইবরাহিম আ:-এর আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার পরীক্ষা নিতে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে ইবরাহিম, তুমি তো দেখছি, স্বপ্নকেও বাস্তবায়ন করলে’। বস্তুত আল্লাহ তায়ালা অশেষ করুণায় পুত্রের পরিবর্তে পশু কোরবানি কবুল করলেন ইবরাহিম আ: থেকে। নবী ইবরাহিম আ:-এর আদর্শ চিরস্মরণীয় করে রাখার ব্যবস্থা করলেন আল্লাহ। পরবর্তী মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ পালনীয় সাব্যস্ত করলেন পশু কোরবানি দেয়াকে। কিন্তু নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা চাওয়া হয়েছে হজরত ইবরাহিম আ:-এর মতোই। আল কুরআনে বলা হয়েছে, ‘এসবের (পশু) গোশত কিংবা রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না; বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের আল্লাহ-সচেতনতা।’ অর্থাৎ পশু কোরবানি করা হলেও এই মনোভাব থাকতে হবে যে, সবচেয়ে প্রিয় বস্তু এমনকি প্রিয়জনকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করতে প্রস্তুত। তাহলেই কোরবানি সার্থক হবে। ইবরাহিম আ:-এর প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে জীবনের সর্বক্ষেত্রে ও পর্যায়ে নিজের প্রাপ্য, বক্তব্য, অভিমত আর প্রস্তাবের প্রাধান্যের দাবি পরিহার করলেই তাঁর প্রকৃত অনুসরণ করা হয়। তেমনি অন্তরে পোষণ করতে হয় একাগ্রতা, আল্লাহর প্রতি ব্যাকুলতা। পার্থিব জীবনের প্রতি মোহ ও আকাক্সক্ষা যেন বদ্ধমূল না থাকে; বরং তা যেন আল্লাহর পক্ষ থেকে অর্পিত আমানত হিসেবে বিবেচনা করে তাঁর ইচ্ছা ও আদেশ অনুযায়ী ফেরত দেয়ার আগ্রহ পোষণ করা হয়, কোরবানি সে আহ্বান নিয়েই আগমন করে প্রত্যেক বছর।

দৈনিক সময়ের সমীকরণ সংবিধান, আইন ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো মন্তব্য না করার জন্য পাঠকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য অপসারণ করার ক্ষমতা রাখে।